Advertisement
E-Paper

২৪৯ তুলেও হার ভারতের, প্রাণহীন পিচে দাপট ব্যাটারদের, সিরিজ়ে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়, শ্রেয়সদের প্রাপ্তি সঞ্জুর ফর্মে ফেরা

টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। রাঁচীর প্রাণহীন পিচে ২৪৯ রান তুলেও হেরে গেল ভারত। শেই হোপের শতরানে জিতল ক্যারিবিয়ানরা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ২২:৪৭
cricket

শ্রেয়স আয়ার। — ফাইল চিত্র।

টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। কেন তারা এই ফরম্যাটে অন্যতম সেরা তার প্রমাণ আবার দিল। রাঁচীর প্রাণহীন পিচে ২৪৯ রান তুলেও হেরে গেল ভারত। এক দিনের সিরিজ়ের মতো টি-টোয়েন্টিতেও ভারতের বোলারদের প্রাণ ওষ্ঠাগত করে দিলেন শেই হোপ। শুক্রবার শতরান করলেন তিনি। চলতি সিরিজ়ে তাঁর তৃতীয় শতরান। ভারতের একমাত্র প্রাপ্তি সঞ্জু স্যামসনের রানে ফেরা। এ ছাড়া দু’দলের বোলারদের নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। একমাত্র রস্টন চেজ বাদে কোনও বোলারই রান আটকাতে পারেননি।

এক দিনের সিরিজ়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ১-২ হারলেও নজর কেড়েছিলেন হোপ। শেষ দু’টি ম্যাচে বড় শতরান করেছিলেন। তার মধ্যে শেষ ম্যাচে হোপের ইনিংসে ভর করে ৩৫০-র বেশি রান তুলে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। টি-টোয়েন্টিতেই একই জিনিস দেখা গেল। হোপের ব্যাট আবার জ্বলে উঠল। চুপসে গেলেন ভারতের বোলারেরা। গোটা ম্যাচে হোপ ছেলেখেলা করেছেন ভারতের বোলারদের নিয়ে। তাঁর ৪৫ বলে ১০২ রানের ইনিংসে রয়েছে ৬টি চার এবং ৯টি ছয়। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের দাপটে এক সময় দিশেহারা দেখিয়েছে শ্রেয়স আয়ারকেও। ডাগআউট থেকে গৌতম গম্ভীর একের পর এক নির্দেশ দিলেও কোনওটিই কাজে লাগেনি।

তবে একটি প্রাপ্তি রয়েছে এই ম্যাচ থেকে। তা হল সঞ্জু স্যামসনের প্রত্যাবর্তন। গত চারটি ম্যাচে রান পাননি সঞ্জু। তবু ভারতীয় দল অনড় ছিল কেরলের ব্যাটারকে খেলানোর ব্যাপারে। বৈভব সূর্যবংশীকে বসিয়ে রাখায় প্রশ্ন উঠছিল। এ দিন জবাব দিয়েছেন সঞ্জু। দু’বার তাঁর ক্যাচ পড়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন।

টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের অধিনায়ক হোপ। শুরুটা খারাপ করেননি ভারতের দুই ওপেনার। অভিষেক শর্মা শুরু করেছিলেন আগ্রাসী ভঙ্গিতেই। সামনে যে বলই আসছিল উড়িয়ে দিচ্ছিলেন। তুলনায় সঞ্জুর শুরুটা হয় ধীরগতিতে। তিনি কয়েকটি বল মেপে নেন। বেশ কয়েকটি বলে তিনি ঠিক করে শট খেলতে পারেননি। ৬ রানের মাথায় সঞ্জুর ক্যাচ ফেলে দেন কামিল পুরান। আর একটি শট অল্পের জন্য স্লিপের উপর দিয়ে উড়ে যায়।

সঞ্জু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে দ্বিধা করেননি। আকিল হোসেনকে একটি ওভারে তিনটি ছয় এবং দু’টি চার মারেন। তার আগেই অবশ্য অভিষেক (২০) চালিয়ে খেলতে গিয়ে আউট হন। কয়েকটি ডট বলের পর আগ্রাসী শট খেলতে গিয়েছিলেন তিনি। রস্টন চেজের বলে মিড-অনে গুডাকেশ মোটির হাতে ক্যাচ দেন।

তত ক্ষণে অবশ্য সঞ্জু ছন্দ পেয়ে গিয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বোলারদের আর রেয়াত করছিলেন না। ৪২ রানের মাথায় মোটি ফেলেন সঞ্জুর ক্যাচ। তার পরেই কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের মতো রোমারিয়ো শেফার্ডকে দু’টি চার মেরে অর্ধশতরান করে ফেলেন সঞ্জু।

কেরলের ব্যাটারকে যোগ্য সঙ্গত দেন ঈশান কিশন। ঝাড়খণ্ডের ক্রিকেটার হওয়ার সুবাদে রাঁচীর এই পিচ তাঁর হাতের তালুর মতো চেনা। সেই পরিচিতিই কাজে লাগান ঈশান। তাঁর ২২ বলে ৪৩ রানের ইনিংসে রয়েছে ৬টি চার এবং ২টি ছয়। সঞ্জুর সঙ্গে জুটি বেঁধে ১১ ওভারে ১৩৯/১ তুলে ফেলেন।

তবে মাঝের দিকে বোলিংয়ে ফেরত এসে ভারতকে বেকায়দায় ফেলেন চেজ। তিনি পর পর দু’ওভারে দু’টি উইকেট নেন। ফেরান ঈশান এবং শিবম দুবেকে (৭)। চালিয়ে খেলার জন্য দুবেকে চারে উঠিয়ে আনা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা কাজে লাগেনি। কিছু ক্ষণ পর ফিরে যান সঞ্জুও (৮২)। ২৩ রানে ৩ উইকেট হারায় ভারত।

সেই চাপ কাটান শ্রেয়স আয়ার (৪০) এবং তিলক বর্মা (৪৪)। আগের ম্যাচেই শতরান করা শ্রেয়সের প্রতিটি শটে ছিল আত্মবিশ্বাস। তিনটি চার এবং তিনটি ছয় মারেন শ্রেয়স। তিলকও আগ্রাসী খেলেছেন। টি-টোয়েন্টিতে এ দিন পাঁচ হাজার রানও হয়ে গেল তাঁর। ৩২ বলে এই জুটি তোলে ৮৩ রান। ওখানেই ভারতের বড় রানের ভিত তৈরি হয়ে যায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ২০১৬-য় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২৪৪/৪ তুলেছিল ভারত। সেটিই সর্বোচ্চ স্কোর ছিল। এ দিন সেটাও পেরিয়ে যায়।

রান তাড়া করতে নেমে সমস্যায় পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। প্রথম ওভারেই পুরান (৪) এবং শিমরন হেটমায়ারকে (০) ফিরিয়ে দেন মায়াঙ্ক যাদব। হোপের সঙ্গে জুটি বেঁধে খেলা ধরেন রভমান পাওয়েল। তিনিও অবশ্য বেশি ক্ষণ টিকতে পারেননি। দলের ৫৮ রানের মাথায় আউট হন পাওয়েল (২৪)।

তখনও হোপ নিজের আগ্রাসী খেলা শুরু করেননি। কিন্তু ক্রিজে শেরফানে রাদারফোর্ড যোগ দিতেই খেলার গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি পাল্টে যায়। দুই ক্যারিবিয়ান ব্যাটার রাঁচীর পিচে তাণ্ডব শুরু করেন। ৫৪ বলে ১২০ রানের জুটি হয়েছে দু’জনের। এর মধ্যে রাদারফোর্ড বেশি ভয়ঙ্কর ছিলেন। তিনি ৭টি চার এবং ৭টি ছয়ের সাহায্যে ৩৭ বলে ৮৪ করেন।

রাদারফোর্ড আউট হওয়ার সময়েও ওয়েস্ট ইন্ডিজ় জয়ের থেকে অনেকটা দূরে ছিল। তখনও দরকার ছিল ৭২ রান। সেখান থেকে দলকে জেতানোর দায়িত্ব নেন হোপ এবং শেফার্ড। ৩টি চার এবং ৩টি ছয়ের সাহায্যে ১৩ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন শেফার্ড। হোপ শতরান করে দলকে জেতান। মায়াঙ্ক ৩টি উইকেট নিয়েছেন ৩৬ রানে।

India Vs West Indies Shai Hope Sanju Samson Shreyas Iyer

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy