টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পেলেও বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়মিত খেলাচ্ছে না ভারত। তবে এর মধ্যেই শ্রেয়স আয়ার-সহ দলের সিনিয়র সতীর্থদের মন জিতে নিয়েছে ১৫ বছরের ব্যাটার। ভারতীয় শিবিরে ভাল ভাবেই মানিয়ে নিয়েছে বৈভব। টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক শ্রেয়স মনে করছেন, বৈভবই ভবিষ্যতে ভারতীয় ক্রিকেটে দাপট দেখাবে। বৈভবের ক্রিকেটীয় দক্ষতায় মুগ্ধ অভিষেক শর্মাও।
এশিয়ান গেমসে সোনা জিতে দেশে ফেরার পর ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সিরিজ় সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন শ্রেয়স। তাতে বৈভব সম্পর্কে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। শ্রেয়স বলেছেন, ‘‘বৈভবের সঙ্গে আমার নানা কথা হয়েছে। বিশেষ করে ক্রিকেটের বাইরে ও কী করে, সে সব নিয়ে। সকলে ওর সঙ্গে ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে চায়। তাই আমি অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেছি। বৈভবের ক্রিকেটীয় প্রতিভার কথা এখন সকলে জানে। ও কী করতে পারে, তার প্রমাণ একাধিক বার পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু ক্রিকেটের বাইরে ওর জীবনযাত্রা কেমন, সেটাই জানা দরকার। ওর বাড়িতে কে কে আছেন। কী কী করতে ভালবাসে। বৈভবের কী খারাপ লাগে। এই সব নিয়ে কথা বলেছি। এ সব আলোচনার সময় বৈভবকে অনেক বেশি চনমনে মনে হয়েছে। অনেক খোলাখুলি কথা বলেছে।’’
কী বুঝলেন বৈভবের সঙ্গে কথা বলে? শ্রেয়স বলেছেন, ‘‘বৈভব খুব চাপচাপ প্রকৃতির। শান্ত স্বভাবের ছেলে। অথচ মাঠে নামে অত্যন্ত বিধ্বংসী মানসিকতা নিয়ে। তাই ওকে নিয়ে একটা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বৈভব খুব মিষ্টি, প্রাণোচ্ছল ছেলে। কথা বলতে ভাল লাগে। আর সাজঘরে ওর মতো ক্রিকেটার থাকলে তো কথাই নেই।’’ এত প্রতিভাবান। তা-ও আপনারা নিয়মিত খেলাচ্ছেন না! শ্রেয়স বলেছেন, ‘‘বৈভবের সময় ঠিক আসবে। আমরা এখন বিশ্বকাপ জেতানো ওপেনিং জুটি নিয়ে খেলছি। প্রথম একাদশে ওদের জায়গা প্রাপ্য। বৈভবের সবে ১৫ বছর বয়স। যখন সময় আসবে, তখন বৈভব নিশ্চিত ভাবে ভারতীয় ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তার করবে। দাপট দেখাবে।’’
ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের আর এক নিয়মিত সদস্য অভিষেকও উচ্ছ্বসিত বৈভবকে নিয়ে। তিনি বলেছেন, ‘‘বৈভব দারুণ ছেলে। দু’-তিন বছর ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেট খেলছে। আর পাঁচটা ১৫ বছরের ছেলের সঙ্গে ওর তুলনা হয় না। তাদের সঙ্গে আমরা যে ভাবে কথা বলি, বৈভবের সঙ্গে সে ভাবে কথা বলা সম্ভব নয়। বৈভব জানে, কখন, কোথায় এবং কতটা অনুশীলন করতে হয়। অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আর শিখবে। আমরা সতীর্থেরা এখন চেষ্টা করি, কী ভাবে বৈভবকে দলের মধ্যে আরও স্বচ্ছন্দ করা যায়। বয়স কম হওয়ায় একটু গুটিয়ে রাখে নিজেকে। আমরা চেষ্টা করি, যাতে ও সহজ এবং স্বাভাবিক থাকতে পারে।’’
বৈভবকে নিয়ে আপনাদের ভাবনা কী? ২৬ বছরের অভিষেক বলেছেন, ‘‘দেখুন, আমরা জানি বৈভব কী কী অর্জন করেছে। সে জন্যই ও আজ ভারতীয় দলে। ওকে সামলে রাখাটা আমারও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমরা সকলে ওর বড় দাদার মতো। ওর পাশে সকলে আছি। এটা ওকে বোঝানোর চেষ্টা করি। যাতে আত্মবিশ্বাসের অভাব না হয়। ওর এখন ক্রিকেট উপভোগ করার সময়। আমরা শুধু চাই, মাঠে নেমে নিজের সেরাটা দিক। সুযোগ পেলে দলকে জেতাক।’’
আরও পড়ুন:
শ্রেয়স এবং অভিষেক দু’জনেই বলেছেন, বৈভবকে কোনও রকম চাপ দিতে চান না তাঁরা। কিশোর ব্যাটারকে নিজের মতো করে পরিণত হতে দিতে চান। প্রয়োজন মতো সাহায্য করবেন, পরামর্শ দেবেন এবং পাশে থাকবেন।