প্রথম ইনিংসেই দেওয়াললিখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এশিয়া কাপের ফাইনালের পর এবার এশিয়ান গেমসের ফাইনালেও শ্রীলঙ্কাকে দুরমুশ করল ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল। নিশিনের করোগি স্পোর্টস পার্কে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানে হারালেন হরমনপ্রীত কৌরেরা। এই জয়ের ফলে চলতি এশিয়ান গেমসে প্রথম সোনা জিতল ভারত। ক্রিকেটে এল সেই পদক।
প্রথমে ব্যাট করে স্মৃতি মন্ধানা, শেফালি বর্মা ও রিচা ঘোষের দাপটে ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১৬ রান করে ভারত। সেই রান তাড়া করা যে কঠিন হবে তা বোঝা গিয়েছিল। তবে শ্রীলঙ্কা এ ভাবে আত্মসমর্পণ করবে তা ভাবা যায়নি। ভারতের চার স্পিনারের সামনে খেই হারাল শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং আক্রমণ। ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৬৯ রানে অল আউট হয়ে গেল গোটা দল।
২১৭ রান তাড়া করতে নেমে তৃতীয় ওভারে শ্রীলঙ্কাকে প্রথম ধাক্কা দেন শেফালি। ইমিশা দুলানিকে ফেরান তিনি। নিজের পরের ওভারে হাসিনি পেরেরাকে শূন্য রানে ফেরান শেফালি। একমাত্র ভরসা দিচ্ছিলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু। তিনিই বড় শট খেলছিলেন। কিন্তু বেশি ক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি। সেই দীপ্তি শর্মার বলেই ২৯ রান করে ফেরেন।
অধিনায়ক ফেরার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং। আর কেউ রান পাননি। ভারতের চার স্পিনার একের পর এক উইকেট পেতে থাকেন। আয়ারাম-গয়ারাম দশা হয় শ্রীলঙ্কার। পুরো ২০ ওভার খেলতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ১৫.৪ রানে অল আউট হয়ে যায় গোটা দল।
শ্রীলঙ্কার ১০ উইকেটই নেন ভারতীয় স্পিনারেরা। দীপ্তি চার ওভারে ৬ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। শ্রী চরণি চার ওভারে ১৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। শেফালি ও শ্রেয়াঙ্কা পাটিলও ২ করে উইকেট পেয়েছেন।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভার থেকেই নিজেদের মানসিকতা স্পষ্ট করে দেয় ভারত। এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ঠিক যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই ব্যাটিং শুরু করেন দুই ওপেনার শেফালি ও স্মৃতি। দু’জনেই একের পর এক বড় শট মারছিলেন।
বাউন্ডারি ছোট হওয়ায় খানিকটা সুবিধাই হয় ভারতীয় ব্যাটারদের। পাওয়ার প্লে-তে বিনা উইকেটে ৬৭ রান করে ভারত। সেখানেই ভিত তৈরি হয়ে যায়। আগের ম্যাচের শতরান করেছিলেন শেফালি। এই ম্যাচে ভাল দেখালেও বেশি ক্ষণ ক্রিজ়ে থাকতে পারেননি। ২৯ বলে ৪৮ রান করে চামুদি প্রবোদার বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হন তিনি। তিনটি চার ও তিনটি ছক্কা মারেন ভারতীয় ওপেনার।
এই ইনিংসের পর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশ্বরেকর্ড করেছেন শেফালি। এক বছরে ছোট ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার লরা উলভার্টকে টপকে সবচেয়ে বেশি রান করতে মাত্র ১০ রান দরকার ছিল শেফালির। সেখানে ৪৮ রান করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
চলতি বছর ২৪ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৮৬৩ রান করেছেন শেফালি। ৩৯.২২ গড় ও ১৬২.৮৩ স্ট্রাইক রেটে এই রান করেছেন তিনি। একটি শতরান ও সাতটি অর্ধশতরান করেছেন। সর্বাধিক অপরাজিত ১০০। সতীর্থ স্মৃতি রয়েছেন ছ’নম্বরে। চলতি বছর ২২ ম্যাচে ৭৬৫ রান করেছেন তিনি। একটি শতরান ও পাঁচটি অর্ধশতরান করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
শেফালি আউট হলেও রান তোলার গতি কমতে দেননি স্মৃতি। ভাল দেখাচ্ছিল তাঁকে। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর অবশ্য এই ম্যাচেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ। ১৭ বলে ১৯ রান করেন তিনি। ৪৫ বলে ৭৯ রান করে আউট হন স্মৃতি। পাঁচটি চার ও সাতটি ছক্কা মারেন তিনি।
স্মৃতি আউট হওয়ার পর মনে হচ্ছিল, ২০০ রান হবে না। কিন্তু তখনও ক্রিজ়ে ছিলেন রিচা। তিনি আরও এক বার দেখালেন, কেন মহিলাদের বিশ্বক্রিকেটে অন্যতম সেরা ফিনিশার ধরা হয় তাঁকে। মাত্র ২২ বলে ৪৯ রানের ইনিংস খেললেন। ছ’টি চার ও তিনটি ছক্কা মারলেন বাংলার ব্যাটার। তাঁর ব্যাটে ভর করে ২১৬ রানে পৌঁছোয় ভারত। সেখানেই জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে ভারত। বাকি কাজটা করেন বোলারেরা।