বছর তিনেক আগে বোর্ডের নির্দেশ না শোনায় কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়েছিলেন। সব ফরম্যাটের ক্রিকেট থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অন্ধকার সময় কাটিয়ে আবার আলোয় ঈশান কিশন। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে জাতীয় দলে ফিরেছেন। দলীপ ট্রফি ফাইনালে ২৭০ রান করে জানালেন, নেতৃত্বই তাঁকে মানুষ হিসাবে বদলে দিয়েছে। অন্ধকার সময়ের দিকে আর তাকাতে চান না।
সোমবার ঈশান বলেন, “আপনাকে দায়িত্ব নিতেই হবে। এখন না নিলে আর কখন? এমন নয় যে, আমি ২২ বছরের ছেলে এবং হঠাৎ করে দলে ঢুকে পড়েছি। তরুণ থাকার সময় সিনিয়র ক্রিকেটারদের উপর ভরসা করতাম। ভাবতাম ওরা রান করবে, আমরা পিছনে থাকব। এখন দলে আমার জায়গা প্রতিষ্ঠিত। তাই রান করার প্রাথমিক দায়িত্ব আমাকে নিতেই হবে। নিশ্চিত করতে হবে যাতে দল আমার জন্য ভাল জায়গায় থাকে।”
কী ভাবে অধিনায়কত্ব তাঁকে বদলে দিয়েছে? ঈশানের জবাব, “দলের নেতা হলে প্রথমেই মাথায় থাকে পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা। সব সময় মাঠে সচেতন থাকতে হবে এবং বুঝতে হবে কী হচ্ছে আর কী হচ্ছে না। সব সতীর্থদের খেয়াল রাখতে হবে। মাঠে নামা, নেটে ব্যাট করার পর চলে যাওয়া— রোজকার জীবনে অনেক ছোট জিনিস আমরা ভুলে যাই। সতীর্থদের দিকে তাকাই না বা তাদের ভাল হতে সাহায্য করি না। কিন্তু অধিনায়ক হলে তাদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব। সতীর্থদের উন্নতি হলে তবেই দলের উন্নতি হবে।”
তিন বছর আগের সেই অন্ধকার দিনের দিকে আর তাকাতে চান না তিনি। বলেছেন, “এখন আর কোনও কিছু নিয়ে ভাবি না। ব্যাটার হিসাবে আমার কাজ মাঠে গিয়ে বল দেখে খেলা। নিজের থেকে কোনও প্রত্যাশা রাখছি না। কখনও সখনও ধৈর্য হারাই। কিন্তু নিজের সঙ্গে কথা বলে, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে, মনকে শান্ত করে নিজের পরিকল্পনা সফল করি।”
আরও পড়ুন:
দীর্ঘ ইনিংস খেললেও নিজেকে বিশেষ বদল করেননি ঈশান। স্বাভাবিক ভাবেই সব হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। ঈশানের কথায়, “জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর বুঝেছিলাম রান করাই আসল। ওটাই আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বাকি কিছু ভাবনে মনে চিন্তা তৈরি হবে। বেশি ভাবতে শুরু করে অকারণে চাপ নিয়ে ফেলবেন। বাইরের কোনও ভাবনাকে পাত্তা দিইনি। আমাদের কাজ মাঠে নেমে দলকে জেতানো।”