জীবনের দ্বিতীয় প্রথম শ্রেণির ম্যাচেই ব্রায়ান লারা, ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান, হানিফ মহম্মদদের পাশে জায়গা করে নিলেন চিন্ময় সুতার। নাগাল্যান্ডের বিরুদ্ধে মিজ়োরামের ব্যাটার অপরাজিত থাকলেন ৪০০ রান করে। রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে সুতার ৪০০ রান করলেন এক ইনিংসে। বিশ্বের দশম ব্যাটার হিসেবে গড়লেন কীর্তি।
১৯৪৮ সালে মহারাষ্ট্রের হয়ে কাঠিওয়ারের বিরুদ্ধে ৪৪৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন বিবি নিম্বলকর। তার পর গত ৭৮ বছরে আর কোনও ক্রিকেটার ভারতের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪০০ রানের ইনিংস খেলতে পারেননি। দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে করে খেলে দেখালেন সুতার। নাগাল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে মিজ়োরাম করেছে ৯ উইকেটে ৫৮১। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সুতার ৫১৭ বলে ৪০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন। ২৯ বছরের ক্রিকেটারের ইনিংসে রয়েছে ৪৬টি চার এবং ৭টি ছয়।
আদতে মুম্বইয়ের অলরাউন্ডার এ বছর থেকে মিজ়োরামের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন। মুম্বইয়ের হয়ে কয়েকটি লিস্ট ‘এ’ (৫০ ওভারের) ম্যাচ খেললেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাননি কখনও। রঞ্জি ট্রফির প্রথম ম্যাচে মণিপুরের বিরুদ্ধে তাঁর অভিষেক হয়। সেই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ১ রানের জন্য শতরান পূর্ণ করতে পারেননি। আউট হয়ে যান ৯৯ রান করে। প্রথম ইনিংসে করেন ৩৫ রান। শতরান হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ দ্বিতীয় ম্যাচেই সুদে-আসলে পূরণ করে নিলেন নজির গড়া ইনিংস খেলে।
বিশ্বের দশম ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪০০ রানের ইনিংস খেললেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের প্রাক্তন অধিনায়ক ব্রায়ান লারা এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার ডব্লিউএইচ পনসফোর্ড দু’বার করে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। লারা ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে ডারহামের বিরুদ্ধে ১৯৯৪ সালে ৫০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এ ছাড়া ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টে অপরাজিত ৪০০ রান করেন। পনসফোর্ড ১৯২৭ সালে ভিক্টোরিয়ার হয়ে কুইন্সল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪৩৭ এবং ১৯২৩ সালে তাসমানিয়ার বিরুদ্ধে ৪২৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।
আরও পড়ুন:
এই তালিকায় ব্র্যাডম্যান, হানিফ ছাড়াও রয়েছেন পাকিস্তানের আফতাব বালোচ, ইংল্যান্ডের এসি ম্যাকলারেন, এসএ নর্থইস্ট এবং গ্রেম হিক।