ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে বৈভব সূর্যবংশীকে খেলানো হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। কিন্তু স্পষ্ট উত্তর কারও থেকেই পাওয়া যাচ্ছে না। কেন বৈভবকে খেলানো হবে না তা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন কোচ গৌতম গম্ভীর এবং অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। এ বার বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল ব্যাখ্যা করলেন, না খেললেও বৈভব দলের সঙ্গে থাকলে কত কিছু শিখতে পারবে।
ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ় শুরুর আগের দিন মর্কেল বলেছেন, “আমরা সকলেই বৈভবের প্রতিভার ব্যাপারে জানি। যত বেশি ভাল ক্রিকেটারদের সঙ্গে এই পরিবেশে সময় কাটাবে, যদি বেশি এই দলের সঙ্গে অনুশীলন করবে তত নিজেকে উন্নত করে তুলতে পারবে।”
সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে থাকলে এবং তাদের রোজনামচা অনুসরণ করলে বৈভবের উন্নতি হবে বলে মনে করেন মর্কেল। তাঁর কথায়, “ম্যাচে না খেললেও বৈভব তো দলের সঙ্গে রয়েছে। বাসে, ডাগআউটে, হোটেলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের কাছাকাছি থাকছে। সাজঘরে কী ধরনের কথাবার্তা হয়, সিনিয়র ক্রিকেটারেরা নিজেদের মধ্যে কী কথাবার্তা বলেন বা কী ভাবে ইনিংস সাজায়, এ সবই দলের সঙ্গে থেকে শিখতে পারবে বৈভব।”
উল্লেখ্য, এক দিনের সিরিজ় শেষের পর ‘জিয়োস্টার’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গম্ভীর বলেন, “বৈভব ভাল ফর্মে রয়েছে। কিন্তু ওকে বুঝিয়েছি, ভাল ফর্মে থাকার মানে এই নয় যে প্রথমে একাদশে সুযোগ পাবে। যারা দীর্ঘ দিন ধরে ভাল খেলছে, তাদের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এই অভিজ্ঞতা আমার কাছেও নতুন। সবটাই নির্ভর করে কোচ ও অধিনায়কের উপর। তারা কাদের সেরা একাদশ মনে করে, বা কারা দলকে জেতাতে পারবে মনে করে, সেই অনুযায়ী দল সাজায়। কারা দীর্ঘ দিন ভাল খেলছে সেটাও দেখা হয়। বৈভবকে খেলানোর মানে সঞ্জু বা অভিষেকের মধ্যে একজনকে বাদ দিতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব কঠিন।”
তার পর শ্রেয়স বলেন, “বৈভবের সঙ্গে আমার নানা কথা হয়েছে। বিশেষ করে ক্রিকেটের বাইরে ও কী করে, সে সব নিয়ে। সকলে ওর সঙ্গে ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে চায়। তাই আমি অন্যান্য বিষয়ে কথা বলেছি। বৈভবের ক্রিকেটীয় প্রতিভার কথা এখন সকলে জানে। ও কী করতে পারে, তার প্রমাণ একাধিক বার পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু ক্রিকেটের বাইরে ওর জীবনযাত্রা কেমন, সেটাই জানা দরকার। ওর বাড়িতে কে কে আছেন। কী কী করতে ভালবাসে। বৈভবের কী খারাপ লাগে। এই সব নিয়ে কথা বলেছি। এ সব আলোচনার সময় বৈভবকে অনেক বেশি চনমনে মনে হয়েছে। অনেক খোলাখুলি কথা বলেছে।’’
আরও পড়ুন:
-
হাত মেলাতে হবে, ক্ষমা চেয়ে চিঠি দিতে হবে! নকভির ‘আব্দারে’ রাজি হল না ভারত, দল তুলে নিল পাকিস্তান
-
নিউ জ়িল্যান্ড টেস্ট সিরিজ়ে আবার ডাক পেতে পারেন আকাশদীপ, এক দিনের সিরিজ়ের শেষ দুই ম্যাচে অধিনায়ক শ্রেয়স?
-
শিল্ড ফাইনালে কলকাতা ডার্বি! ডেভিডের হ্যাটট্রিকে নর্থইস্টকে ৭ গোলে উড়িয়ে মোহনবাগানের সামনে ইস্টবেঙ্গল
কী বুঝলেন বৈভবের সঙ্গে কথা বলে? শ্রেয়স বলেন, ‘‘বৈভব খুব চাপচাপ প্রকৃতির। শান্ত স্বভাবের ছেলে। অথচ মাঠে নামে অত্যন্ত বিধ্বংসী মানসিকতা নিয়ে। তাই ওকে নিয়ে একটা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বৈভব খুব মিষ্টি, প্রাণোচ্ছল ছেলে। কথা বলতে ভাল লাগে। আর সাজঘরে ওর মতো ক্রিকেটার থাকলে তো কথাই নেই।’’ এত প্রতিভাবান। তা-ও আপনারা নিয়মিত খেলাচ্ছেন না! শ্রেয়স বলেছেন, ‘‘বৈভবের সময় ঠিক আসবে। আমরা এখন বিশ্বকাপ জেতানো ওপেনিং জুটি নিয়ে খেলছি। প্রথম একাদশে ওদের জায়গা প্রাপ্য। বৈভবের সবে ১৫ বছর বয়স। যখন সময় আসবে, তখন বৈভব নিশ্চিত ভাবে ভারতীয় ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তার করবে। দাপট দেখাবে।’’