ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কাছে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হারের পর পিচ নিয়ে ক্ষোভ, হতাশা উগরে দিলেন গৌতম গম্ভীর। ভারতীয় দলের কোচের মতে, এমন ব্যাটিং সহায়ক ২২ গজ বোলারদের ক্ষতি করছে। ক্রিকেটের ভারসাম্য বজায় রাখার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি। তবে আলাদা করে প্রশংসা করেছেন ময়ঙ্ক যাদবের।
কিছু দিন আগে এক দিনের ক্রিকেটে ৮০০ রান ওঠার পর গম্ভীর বলেছিলেন, ‘‘এটা ক্রিকেট নয়, শুধু ব্যাটিং হচ্ছে।’’ শুক্রবার টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৫০০ রান ওঠার পর ষড়যন্ত্রের কথা বললেন গম্ভীর। তাঁর দাবি, বোলারদের খেলোয়াড়জীবন নষ্ট করতে যড়যন্ত্র চলছে। পিচ নিয়ে ক্ষুব্ধ গম্ভীর বলেছেন, ‘‘আপনারা কি ব্যাট-বলের ভাল লড়াই দেখতে চান না? আপনারা যা দেখতে চান, আমরা সেটাই দেখতে চাই। আপনারা লড়াই দেখতে চাইলে, আমরাও লড়াই দেখতে চাই। মনে রাখতে হবে ওরা আমাদেরই বোলার। অন্য কোনও দলের নয়। এ ভাবে বোলারদের ঝুঁকির মুখে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। ওদের ক্রিকেটজীবন শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে। ওরাও কঠোর পরিশ্রম করে এই সাজঘরে ঢোকার ছাড়পত্র পেয়েছে। ব্যাট-বলে সমানে সমানে লড়াই হলে অনেক ভাল মানের ক্রিকেট আমরা দেখতে পাব।’’ গম্ভীর বুঝিয়ে দিয়েছেন, এক দিনের সেই ম্যাচে ভারতের জয়ের পর যেমন খুশি হতে পারেননি, তেমনই শুক্রবার ভারতের হারও তাঁকে খুশি করেনি। তাঁর অসন্তোষ দলের হার নিয়ে নয়। গম্ভীর ক্ষুব্ধ একপেশে ২২ গজ নিয়ে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কাছে হার নিয়ে গম্ভীর বলেছেন, ‘‘আমরা এই হারটাকে হালকা ভাবে নিচ্ছি না। উন্নতি করতে চাইলে কোনও কিছু চাপা দিয়ে রাখলে হবে না। আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল। ধারাবাহিক ভাবে উন্নতি করতে চাই। শিশির পড়লে পাটা পিচে বল করা খুব কঠিন। তা-ও আমরা শুরুতে উইকেট পেয়েছিলাম। তার পর ওদের থামানোর একটা উপায় বের করতে হত।’’
ময়ঙ্ক ৩ ওভারে ৩৬ রান দিলেও তাঁর বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন গম্ভীর। ভারতীয় দলের কোচ বলেছেন, ‘‘ময়ঙ্ক একজন পেসার। ওকে এ ভাবেই বল করতে হবে। ময়ঙ্ক তো মন্থর গতির বোলার নয়। কেউ যদি ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারে, তা হলে সে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতেই বল করবে। যদি কেউ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারে, সে তা-ই করবে। একজন পেসারের দায়িত্বই দ্রুত গতিতে বল করা। ময়ঙ্ক সেটাই করেছে এবং সফল হয়েছে।’’ গম্ভীরের বক্তব্য, গতিই ময়ঙ্কের স্বাভাবিক অস্ত্র। তিনি সেই অস্ত্র ভোঁতা করতে চান না। কোচ মনে করিয়ে দিয়েছেন ময়ঙ্কের ৩ উইকেটের কথা।
আরও পড়ুন:
ভারতীয় কোচের মুখে শোনা গিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের দুই ব্যাটার শাই হোপ এবং শার্ফেন রাদারফোর্ডের প্রশংসাও। তিনি বলেছেন, ‘‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে কৃতিত্ব দিতেই হবে। বিশেষ করে হোপ এবং রাদারফোর্ডের কথা বলব। সকলেই জানেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ওরা দু’জনেই বিশ্বমানের ব্যাটার। ওরা আমাদের খামতি দেখিয়ে দিয়েছে। তাই আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে।’’