ভারত ফলো অন করিয়ে সঠিক কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা আপাতত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কেউ যদি গৌতম গম্ভীর, শুভমন গিলের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা শুরুতে করে থাকেন, তিনিও চতুর্থ দিনের শেষে বলবেন, একেবারে সঠিক কাজ করেছেন তাঁরা। সেই সিদ্ধান্তের ফলেই চতুর্থ দিনের শেষে জয়ের গন্ধ পেতে শুরু করেছে ভারত।
আরও একটা দিনের শেষটা হল বৃষ্টির জেরে। এক ঘণ্টার উপর খেলা নষ্ট হল। না হলে হয়তো চতুর্থ দিনই খেলার ফয়সালা হতে পারত। কারণ, ফলো অন করানোর পর দ্বিতীয় ইনিংসেও সমস্যায় শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং। দিনের শেষে ভারতের থেকে মাত্র ১৬ রানে এগিয়ে তারা। তাদের হাতে রয়েছে মাত্র ৪ উইকেট। ভরসা বলতে একমাত্র সোনাল দিনুশা। শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে ধারাবাহিক ক্রিকেটার। কিন্তু তিনি আর একা কী করবেন? বৃষ্টি শ্রীলঙ্কার রক্ষাকর্তা হয়ে না দাঁড়ালে এই ম্যাচে তাদের বাঁচানো কঠিন। চুনকামের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভারত হয়তো এতটা ভাল জায়গায় থাকত না। নেপথ্যে রয়েছেন দুই ক্রিকেটার। উইকেটরক্ষক ঋষভ পন্থ ও স্পিনার মানব সুতার। প্রথম ইনিংসে ৮০ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৯২ রান করেন পাসিন্দু সূর্যবন্দর। যতক্ষণ তিনি ক্রিজ়ে ছিলেন, শ্রীলঙ্কাকে ভাল দেখাচ্ছিল।
ধনঞ্জয় ডি’সিলভা আউট হওয়ার পর কিছুটা তাড়াহুড়ো করছিলেন পাসিন্দু। এক বার তাঁকে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দিলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি। তার পরেই মনস্তাত্ত্বিক লড়াই শুরু করেন পন্থ। শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংসের বেশির ভাগ সময় কিপিং করেননি তিনি। কিন্তু চতুর্থ দিনের শুরু থেকেই উইকেটের পিছনে তাঁকে দেখা যায়। নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগান তিনি।
আরও পড়ুন:
পন্থ বার বার পাসিন্দুর দিকে তাকিয়ে বলতে থাকেন, “অধৈর্য হয়ে পড়ছে। খারাপ শট খেলবে। মিড-অন তৈরি থাকো।” ঠিক পরের বলেই ক্রিজ় ছেড়ে বেরিয়ে বড় শট মারতে যান পাসিন্দু। অফ স্টাম্পের অনেকটা বাইরে বল করেন সুতার। বলের নাগাল পাননি পাসিন্দু। পন্থ তাঁকে স্টাম্প আউট করেন। দুই ক্রিকেটারের বুদ্ধির জোরে শ্রীলঙ্কার বড় ভরসা সাজঘরে ফেরেন।
প্রথম ইনিংসে ২৯০ রানে শেষ হয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। ১৪ রানের জন্য ফলো অন বাঁচাতে পারেনি তারা। ভারত আবার শ্রীলঙ্কাকে ব্যাট করতে পাঠায়। তাদের একটাই লক্ষ্য ছিল। চতুর্থ ইনিংসে যাতে কম ব্যাট করতে হয়। সেই লক্ষ্যে অনেকটাই সফল শুভমনেরা।
পাসিন্দু থাড়া কামিন্দু মেন্ডিস ৫৫ রান করেন। বাকিরা তেমন রান পাননি। ভারতের পাঁচ বোলারই উইকেট নিয়েছেন। দিনের শেষে শ্রীলঙ্কার রান ৬ উইকেটে ২২৯। শ্রীলঙ্কার একমাত্র ভরসা সোনাল। কিন্তু তাঁর পক্ষে গোটা একটা দিন সামলানো কঠিন। তবে ভারত চাইবে, পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনটা যেন পুরোটা হয়। সেই সেশনেই খেলা শেষ করার লক্ষ্যে নামবেন শুভমনেরা।