উইকেট পেলেও প্রচুর রান দিয়ে ফেলছেন মানব সুতার। তবু চিন্তিত নয় ভারতীয় শিবির। ২৪ বছরের বাঁ হাতি স্পিনারের পাশে দাঁড়াচ্ছেন ভারতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ সাইরাজ বাহুতুলে। রবীন্দ্র জাডেজা-সহ ভারতীয় বোলারদের ‘নো’ বল করার প্রবণতায় তিনি কিছুটা চিন্তিত। উদ্বেগ মেনে নিয়েছেন বাহুতুলে।
ক্রিকেটজীবনের শেষ দিকে চলে এলেও জাডেজার ‘নো’ বল কমছে না। গত পাঁচ বছরে টেস্ট ক্রিকেটে ৮৮টি ‘নো’ বল করেছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। বিশ্বের আর কোনও বোলার এত ‘নো’ বল করেননি। এ ছাড়া জাডেজা গত তিন বছরে সবচেয়ে বেশি ২২টি ভুল রিভিউ নিয়েছেন। ভারত-শ্রীলঙ্কা কলম্বো টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলার শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাহুতুলে মজা করে বলেছেন, ‘‘আমি নিয়মের ব্যাপারে বেশি বুঝি না। তবু মনে হয়, টেস্টেও ফ্রি হিট চালু করা দরকার। তা হলে হয়তো ‘নো’ বলের সংখ্যা কমবে। অতিরিক্ত বল থেকে রান হয়ে যাওয়া ভয় কাজ করবে।’’ শুধু জাডেজা নন। ভারতের অন্য স্পিনারেরাও ‘নো’ বল করছেন। বাহুতুলে বলেছেন, ‘‘সকলে ভুল শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করছে। মনে হচ্ছে, উইকেট নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত আগ্রাসী হতে গিয়েই ওরা ‘নো’ বল করে ফেলছে।’’
‘নো’ বল নিয়ে বাহুতুলে আরও বলেছেন, ‘‘এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। মাঝে মাঝে বিষয়টা উদ্বেগের পর্যায় চলে যাচ্ছে। বোলারেরা উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করেও সাফল্য না পেলে, অনেকে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে অতিরিক্ত চেষ্টা করে। এই প্রবণতা অনেকেরই থাকে। যদিও এটা অজুহাত হতে পারে না। আমরা জাডেজা এবং সারাংশ জৈনকে নিয়ে পরিশ্রম করছি। বলটা ঠিক কোথা থেকে ছাড়তে হবে, সেটা নিয়ে কাজ করছি। তা-ও কখনও কখনও নির্দিষ্ট ডেলিভারিটা করার জন্য একটু বেশিই চেষ্টা করে ফেলে। তাতে পা বাইরে চলে যাচ্ছে। আশা করব, ওরা শুধরে নেবে এবং ভাল পারফর্ম করবে।’’
নানা প্রসঙ্গের মধ্যে সুতারের রান দেওয়ার বিষয়টিও ওঠে। তা নিয়ে ভারতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ বলেছেন, ‘‘সুতার সবে তৃতীয় টেস্ট খেলছে। অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। ওকে নানা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। অনেক দিন খেলবে। তবে এটুকু বলতে পারি, সুতার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ও জানত, শ্রীলঙ্কার ব্যাটারেরা ওর বিরুদ্ধে আগ্রাসী হওয়ার চেষ্টা করবে। সুতারও সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সবটা ওর পক্ষে যায়নি।’’ উল্লেখ্য, কলম্বোয় প্রথম ইনিংসে সুতার ২২ ওভারে ৮৪ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮ ওভারে ৮১ রান দিয়েছেন। টেস্টের হিসাবে যা কিছুটা বেশিই।
আরও পড়ুন:
বাহুতুলে আরও বলেছেন, ‘‘সুতার এখনও শিখছে। আমার সবচেয়ে ভাল লাগে ওর দৃঢ়তা। এটা অসাধারণ। পরিস্থিতি যেমনই হোক, বল করতে দিলে নিজের ১০০ শতাংশ দিয়ে চেষ্টা করে। ঠান্ডা মাথার ছেলে। দল ওর থেকে কী চায়, সেটা বোঝে। শ্রীলঙ্কার ব্যাটারেরাও ওকে ভাল সামলেছে। সত্যি বলতে ওরা বেশ কয়েকটা ভাল শট খেলেছে। আমি নিশ্চিত এই ম্যাচ থেকে পাওয়া শিক্ষা কাজে লাগিয়ে সুতার আরও এগিয়ে যাবে। আবার এমন পরিস্থিতি পেলে ভাল পারফর্ম করবে।’’