আগামী রবিবার লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় এক দিনের ম্যাচ খেলবে ভারত। সে দিনই ভারতের জার্সিতে শেষ বারের মতো দেখা যেতে পারে রোহিত শর্মাকে। টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টির পর এক দিনের ক্রিকেট থেকেও রোহিত অবসর নিতে পারেন বলে শোনা গিয়েছে। রোহিতকে যে ভবিষ্যতের জন্য ভাবছেন না, এটা জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচকেরা।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে কোচ গৌতম গম্ভীরকে সঙ্গে নিয়ে রোহিতের সঙ্গে কথা বলেছেন নির্বাচক কমিটির সদস্যেরা। সেখানেই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা রোহিতকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচকেরা জানিয়েছেন, যশস্বী জয়সওয়ালের মতো তরুণ ক্রিকেটারকে বেশি সুযোগ দিতে চান তাঁরা। ফলে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত রোহিতকে নিয়ে অপেক্ষায় সকলেই নারাজ।
শোনা গিয়েছে, ইংল্যান্ড সিরিজ়ের মাঝেই কয়েক জন বোর্ডকর্তার সঙ্গে কথা বলেন রোহিত। তিনি যে নির্বাচকদের সিদ্ধান্তে খুশি নন, সেটা জানিয়ে দেন। তবে লাভ কিছু হয়নি। রোহিত টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর থেকেই নির্বাচকেরা দল পরিচালন সমিতির সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী প্রজন্ম তৈরি করতে আগ্রহী। যশস্বীর মতো ক্রিকেটারকে শতরান করেও রোহিতের জন্য বাইরে থাকতে থাকতে হচ্ছে। গত বছর রোহিতের থেকে এক দিনের ক্রিকেটের নেতৃত্বও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
রোহিতের নেতৃত্বে ভারত বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে। ফাইনালের আগে প্রতিটি ম্যাচে জিতেছে তারা। পরের বছর সাহসী, আগ্রাসী ক্রিকেট খেলে তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে। সেই প্রতিযোগিতার পরেই টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেন রোহিত।
রোহিতের এই সিদ্ধান্ত আশ্চর্যেরই। কারণ দু’দিন আগেই ভারতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত এক জন সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘এই দলের জন্য রোহিতের অবদান প্রচুর। ভারতের সাদা বলের ক্রিকেটেও রোহিতের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। কোচ গম্ভীরও চান, গোটা ক্রিকেটজীবনে রোহিত যে ভাবে খেলেছে, সে ভাবেই খেলুক। ব্যাট হাতে নিজেকে স্বাধীন ভাবে প্রকাশ করুক। চাপ নিয়েই খেলছে রোহিত। প্রচুর সমালোচনা হচ্ছে ওর। ওকে সময় দিতে চান কোচ। মানসিক ভাবে স্বস্তিতে রাখতে চান।’’
ভারতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত ওই ব্যক্তি আরও বলেন, ‘‘রোহিতের মতো খেলোয়াড়েরা যে কোনও সময় সেরাটা দিতে পারে। চাপ মুক্ত থাকলে এবং নিজের মতো খেলতে পারলে এমন খেলোয়াড়দের আটকানো কঠিন। গম্ভীরের মতে রোহিতের প্রতিটি ইনিংস বিশ্লেষণ করার প্রয়োজনই নেই। এত বছর ধরে দেশের হয়ে ধারাবাহিক ভাবে পারফর্ম করা অভিজ্ঞ ব্যাটারের পাশে থাকতে চাইছেন। গম্ভীর জানেন, নিজের দিনে রোহিত একাই ম্যাচের রং বদলে দিতে পারে। ক্রিকেটে কৌশলগত পরিবর্তনের মতো বিশ্বাস এবং ধৈর্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’’
আরও পড়ুন:
-
গম্ভীর, আগরকরের সাফল্যে ক্ষীর খাচ্ছেন দুই নির্বাচক! ভারতীয় ক্রিকেটে ঝামেলা, খুশি নন কোচ, প্রধান নির্বাচক
-
ইংরেজ গোলকিপারের জলের বোতল কুড়িয়ে পেলেন মেসিরা, দেখেই চমকে গেল আর্জেন্টিনা দল! কেন, জানা গেল কারণ
-
ওজন বেশি হওয়ায় চোট পেয়েছেন হর্ষিত! ভারতের বোলারের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় নেই বরুণও
-
ভারতের বোলারকে সতর্ক করে দিল আইসিসি, অকারণে বল ছুড়ে প্রথম এক দিনের ম্যাচে নিয়ম ভেঙেছেন গুরনুর
এক দিনের দলের নেতৃত্ব হারানোর পর রোহিত ১৩টি এক দিনের ম্যাচে ৫৬৩ রান করেছেন। শুভমন গিলের নেতৃত্বে তাঁর ব্যাটিং গড় ৪৬.৯১। একটি শতরান এবং চারটি অর্ধশতরান করেছেন। রোহিতের পারফরম্যান্স যথেষ্ট ভাল বলেই মনে করেন গম্ভীর। ওই ব্যক্তি বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে কী হবে, কেউ বলতে পারে না। আমরা বর্তমানের উপর ভিত্তি করে চলতে চাই। আমরা চাই সিনিয়র ক্রিকেটারেরা শান্তিতে খেলুক। ওদের প্রয়োজন। এখন কোনও দীর্ঘ পরিকল্পনা করা হচ্ছে না।’’
তারও আগে বিরাট কোহলি এবং রোহিতকে নিয়ে কথা বলেছিলেন শুভমন গিল। তিনি বলেছিলেন, ‘‘গত এক দশক ধরে কোহলি ভাই এবং রোহিত ভাই আমাদের ব্যাটিং লাইন আপের মেরুদণ্ড। দু’জনেই আমাদের দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ওরা আমাদের দলে যে অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা যোগ করে, সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত এক দশক ধরে বিভিন্ন পরিবেশে ওরা কী কী করেছে আমরা জানি। বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় এবং আলাদা আলাদা পরিবেশে ধারাবাহিক ভাবে দু’জনে রান করেছে। প্রচুর ম্যাচ জিতিয়েছে দু’জনেই।’’