লর্ডসে খেলেই তিনি নাকি অবসর নেবেন। আর দেশের জার্সি গায়ে দেখা যাবে না তাঁকে। রবিবারই শেষ সুযোগ। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় এক দিনের ম্যাচ খেলতে নামার আগে এমন সব চর্চাই হচ্ছিল রোহিত শর্মাকে ঘিরে। বোর্ড সচিব দেবজিৎ শইকীয়া সব সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ার পরেও জল্পনা থামেনি। অবশেষে ব্যাট হাতেই সব জল্পনার জবাব দিলেন রোহিত। লর্ডসে দুরন্ত শতরান করে বুঝিয়ে দিলেন, তিনি মোটেই ফুরিয়ে যাননি। যদিও তাতে কোনও লাভ হল না। রোহিত শতরান, শুভমন গিল, বিরাট কোহলির অর্ধশতরানের পরেও হারল ভারত। ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে তুলেছিল ৩৮৭/৩। জবাবে ভারত থেমে গেল ৩৬০/৭ রানে। হার ২৭ রানে।
রোহিত নিজে এখনও মুখ ফুটে বলেননি যে তিনি অবসর নেবেন কি না। তবে এ দিন যে খেলা দেখালেন তাতে অবসর নেওয়ার ভাবনাচিন্তা আপাতত দূরে সরিয়ে রাখতেই পারেন। নিজের সবচেয়ে প্রিয় ফরম্যাটে দীর্ঘ দিন পরে স্বপ্নের ফর্মে দেখা গেল রোহিতকে। ২০১৯ বিশ্বকাপে এই ইংল্যান্ডের মাটিতে পাঁচটি শতরান ছিল তাঁর। এ দিন রোহিতের দাপট দেখে যেন সেই সময়ের কথাই ফিরে আসছিল।
কী অসাধারণ খেলেছেন রোহিত। প্রথমে ব্যাট করে ইংরেজরা রানের পাহাড় তোলার পরেই তিনি ঘাবড়ে যাননি। পাল্টা ইংরেজ বোলারদের চাপে ফেলার চেষ্টা করেছেন। মাঠের চার দিকে শট মেরেছেন। জফ্রা আর্চার, গাস অ্যাটকিনসন, জশ টং, স্যাম কারেন— কেউ রোহিতের প্রহার থেকে রেহাই পাননি। ১১০ বলে ১৩৮ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। ১৭টি চার এবং পাঁচটি ছয় রয়েছে তাঁর ইনিংসে। যত ক্ষণ তিনি ক্রিজ়ে ছিলেন, তত ক্ষণ ভারতের জয়ের আশাও বেঁচে ছিল।
রোহিত যোগ্য সহযোগী পেয়েছিলেন শুভমনের মধ্যে। দু’জনে মিলে শুরুটাই এমন করেন যে চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। লর্ডসের পিচ ব্যাটারদের প্রভূত সাহায্য করেছে। সেটা ইংরেজ ব্যাটারেরাই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। তার পুরো ফায়দা ওঠান ভারতের দুই ওপেনার। প্রথম উইকেটেই উঠে যায় ২৪৭ রান।
শুভমন ফেরার পরেও ভারত চাপে পড়েনি। কারণ রোহিতের সঙ্গে যোগ দেন বিরাট কোহলি। এ দিন দুই ক্রিকেটার একটি নজিরও গড়েছেন। সব ফরম্যাট মিলিয়ে একসঙ্গে ৪০০টি ম্যাচ খেললেন তারা। প্রথম ভারতীয় জুটি হিসাবে এই নজির গড়লেন। ভারতীয়দের মধ্যে আগেই তাঁরা সকলের উপরে চলে গিয়েছিলেন। ভেঙে দিয়েছিলেন সচিন তেন্ডুলকর এবং রাহুল দ্রাবিড়ের ৩৯১ ম্যাচের নজির। শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়বর্ধনে এবং কুমার সঙ্গকারা রয়েছেন সকলের উপরে (৫৫০)।
কোহলি এবং রোহিতের জুটি উঠে যায় ১১৩ রান। এক দিনের ক্রিকেটে ৩৩তম শতরান করেন রোহিত। তিনি ফেরার পর যত ক্ষণ কোহলি ক্রিজ়ে ছিলেন, ভারতের সম্ভাবনা ছিল। চারটি চার এবং তিনটি ছয়ের সাহায্যে ৬০ বলে ৭৩ করে কোহলি আউট হতেই ভারতের জয়ের সম্ভাবনা কমতে শুরু করে। পরের দিকে যে ব্যাটারেরা এসেছিলেন, কেউই দাঁড়াতে পারেননি। ঈশান কিশন (১৪), শ্রেয়স আয়ারেরা (০) ব্যর্থ।
ইংল্যান্ডকে বড় স্কোরে পৌঁছে দেন ওপেনার বেন ডাকেট। তিনি ১৪১ রান করেন। যে ভাবে ভারতের বোলারদের পিটিয়েছেন তা অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। হাঁটুর চোটের কারণে এ দিন খেলতে পারেননি জসপ্রীত বুমরাহ। তাঁর অভাব প্রতি মুহূর্তে ভুগিয়েছে ভারতকে। বুমরাহ শুধু উইকেটই নেন না, যে ভাবে তিনি বলকে কথা বলান তা এই ভারতীয় দলের মধ্যে কেউই পারেনন না।
আরও পড়ুন:
-
‘আমাকে জেলে পুরে দেওয়া হবে’, ভয়ের চোটে ট্রাম্পকে নিয়ে মজাও করতে চাইলেন না স্পেনের ফুটবলার
-
মোট ৬২৫৮ কোটি টাকার পুরস্কার! রবিবার বিশ্বকাপ জয়ী দেশ কত টাকা পাবে, হারলেই বা কত টাকা? একটিও ম্যাচ না জিতলেও মিলবে পুরস্কার
-
বিশ্বকাপে ১০ গোল করেও সোনার বুট জেতা হবে না তাঁর, আশঙ্কা এমবাপের, মেসিই শেষমেশ বাজি মেরে দেবেন?
আগের দু’টি ম্যাচে পাওয়ার প্লে-তে ইংল্যান্ড যথাক্রম ৫১/০ এবং ৫১/২ তুলেছিল। প্রথম বল থেকে ইংল্যান্ডের বাঁ হাতি ওপেনারদের সমস্যায় ফেলেছিলেন বুমরাহ। ডাকেটকে অফ স্টাম্পের বাইরে ক্রমাগত বল করে গিয়েছেন। বুমরাহ না থাকায় এ দিন সেই কাজ কেউ করতে পারেননি। অর্শদীপ সিংহ, গুরনুর ব্রারেরা এতটাই খারাপ বল করেছেন যে ডাকেট হাত খুলে খেলার সুযোগ পেয়ে গিয়েছেন। তাঁর ১৪১ রানের ইনিংসে রয়েছে ১৮টি চার এবং একটি ছয়।
একই রকম ভাল খেলেছেন আর এক ওপেনার জেকব বেথেলও। তিনি ১১টি চার এবং দু’টি ছয়ের সাহায্যে ৯৩ বলে ৯১ রান করেছেন। ওপেনিং জুটিতেই উঠে যায় ১৯২ রান। তবে ইংল্যান্ড যে বড় রানে পৌঁছেছে তার নেপথ্যে জো রুট এবং জস বাটলার। ৯টি চারের সাহায্যে ৪৮ বলে ৭৪ রান করেন রুট। চারটি চার এবং তিনটি ছয়ের সাহায্যে ১৩ বলে ৪১ করেন বাটলার।