অস্ট্রেলিয়ার যুব দলের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট ও এক দিনের সিরিজ়ের জন্য ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ পেয়েছেন বাংলার রোহিত যাদব ও অভিপ্রায় বিশ্বাস। কিন্তু লেগস্পিনার রোহিতকে নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
রোহিতের নথিতে বয়স নিয়ে গোলোযোগের অভিযোগে সিএবি তাঁকে বাংলার যুব দল থেকে বাদ রেখেছে। কিন্তু তিনি ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা পেয়ে যাওয়ায় বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কোনটা ঠিক? সিএবি-র বয়স সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নাকি রোহিতের নথি? না হলে বাংলার অনূর্ধ্ব-১৯ এবং অনূর্ধ্ব-২৩ দল থেকে বয়সে গোলোযোগ থাকায় বাদ পড়া কেউ কী ভাবে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা পেলেন?
রোহিত বাংলার ভূমিপুত্র নন, উত্তরপ্রদেশ থেকে এসে এখানে খেলছেন। তাঁর আধার কার্ড আপডেটে বয়স নিয়ে গোলোযোগ ধরা পড়ে, জন্ম সাল মিলছে না বলে সিএবি-র দাবি। রোহিত আবার জানিয়েছেন, একই নথি তিনি বোর্ডের কাছে জমা দিয়েছেন। সেই নথি পাশ না হলে তিনি দলে ঢোকেন কী করে? সিএবি বয়স ভাঁড়ানো এবং ভিন রাজ্যের ক্রিকেটারদের আধিক্য নিয়ে কড়া হতে চাইছে। রোহিতের বাংলা দলে না থাকা কিতারই ফলশ্রুতি?
জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরেও ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ছ’টি উইকেট পেয়েছিলেন লেগস্পিনার রোহিত। শেষ টেস্টে ভারতকে জিততে সাহায্যও করেছেন চার উইকেট নিয়ে। রোহিতের প্রশ্ন, ‘‘যদি রাজ্য দলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়, আমাকে কি একটা বছর বসে থাকতে হবে?’’ তিনি বলছেন, ‘‘সিএবি আমাকে বলেছে আসন্ন মরসুমে খেলতে দেওয়া হবে না। তবে আমি এখনও আশা করছি বাংলারহয়ে খেলব।’’
সিএবির সচিব বাবলু কোলে বলছেন, ‘‘ওঁর নথিতে দু’বার বয়স ভাঁড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সব কাগজপত্রই আমাদের কাছে আছে।’’ বিদায়ী সচিব যোগ করছেন, ‘‘বয়স ভাঁড়ানো কোনও ক্রিকেটারকে আমরা দলে জায়গা দেব না। প্রয়োজনে ভারতীয় বোর্ডকেও এ বিষয়ে জানাব।’’ প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় শহরে নেই। তাঁকে এই ঘটনা জানানো হবে, বললেন কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। তাঁর মন্তব্য, ‘‘বয়সের নথি ঠিক না থাকলে কাউকে নেওয়া হবে না, এটা সংস্থার অটল সিদ্ধান্ত। ভারতীয় দলের হয়ে খেলার দরজা আটকাক, কেউ চায় না। কিন্তু প্রক্রিয়া যেন ঠিক থাকে। রোহিতের আধার কার্ডে জন্মতারিখ নিয়ে একাধিক বার আপডেট করা হয়েছে। এই আপডেটের সমর্থনে ওকে নথি জমা দিতে বলা হয়েছিল। যতক্ষণ না সেটা দিচ্ছে, বয়সভিত্তিক দলে ওকে নেওয়া যাবে না। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা করা হবে।’’
জুনিয়র নির্বাচক কমিটিতে পূর্বাঞ্চল প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলারই প্রাক্তন ক্রিকেটার রণদেব বসু। প্রশ্ন উঠছে, তিনি রোহিতের বয়স নিয়ে গোলোযোগের বিষয়টি জানতেন কি জানতেন না? বোর্ডের প্রথা অনুযায়ী,বয়সভিত্তিক দল বাছাইয়ের বৈঠকে বসার আগে নির্বাচকদের এ সব ব্যাপারে জেনে নিতে হয়। বোর্ডের জুনিয়র নির্বাচক কমিটিতে রণদেবের উপস্থিতি এ নিয়ে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে বইকি কমাচ্ছে না।
বিতর্কের মাঝে কিছুটা চাপা পড়ে যাচ্ছেন সুযোগ পাওয়া বাংলার আর এক ক্রিকেটার অভিপ্রায়। দুর্গাপুরের ছেলে অভিপ্রায় উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। প্রেরণা ঋদ্ধিমান সাহা। বলছিলেন, ‘‘সৌরাশিস স্যর (লাহিড়ী)-এর থেকে জানতে পারি ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার কথা। খুব খুশি হয়েছি। দেশের হয়ে খেলতে যাওয়ার আগে ঋদ্ধি স্যরের থেকে মূল্যবান পরামর্শ নিয়ে যাব।’’ যোগ করেন, ‘‘আমার উত্থানের নেপথ্যে সাকিল আহমেদ স্যরের অবদান কোনও দিন ভুলব না।’’
ভারতের এই অনূর্ধ্ব-১৯ দলেই সুযোগ পেয়েছেন রাহুল দ্রাবিড়ের পুত্র অন্বয় ও বীরেন্দ্র সহবাগেরপুত্র আর্যবীর।