ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল খেলার সুবাদে জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু মাত্র একটি টেস্ট সিরিজ় খেলিয়েই বাদ দেওয়া হয়েছে। আর জাতীয় দল ডাক পান না সরফরাজ় খান। সোমবার নির্বাচকদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রশ্ন তুলেছেন, আর কেন কঠোর পরিশ্রম করবেন?
দীর্ঘ দিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ঝুরি ঝুরি রান করলেও জাতীয় দলে ডাকা হচ্ছিল না। তাই অতীতেও মুখ খুলে নির্বাচকদের বিরাগভাজন হয়েছিলেন তিনি। তবে ২০২৪-এ নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দেশের মাটিতে সুযোগ দেওয়া হয়। একটি অর্ধশতরান ছাড়া কিছুই করতে পারেননি। বাদ পড়েন দল থেকে। তার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল খেলেও আর ডাক পাচ্ছেন না।
রঞ্জি ট্রফিতে রেলওয়েজের বিরুদ্ধে প্রথম দিনের খেলা শেষে সেই সরফরাজ় বলেছেন, “অনেক কিছু হয়ে গিয়েছে। আর বেশি ভাবতে চাই না। রোজ সকালে উঠে নিজেকে একটাই প্রশ্ন করি, ‘আর কেন কঠোর পরিশ্রম করব এবং রোজ একই কাজ করে যাব’? রোজ ভোর ৫টায় আমার দৈনন্দিন কাজ শুরু হয়। ভারতের হয়ে খেলেছি। মুম্বইয়ের হয়ে রঞ্জি খেলার সময়ও একই রুটিন অনুসরণ করি। কারণ আগে মাত্র ৩০, ৫০ বা ১০০ রান করতাম।”
সরফরাজ় জানিয়েছেন, বার বার উপেক্ষিত থেকেও তিনি যে এত পরিশ্রম করছেন, সেটা শুধু তাঁর বাবার জন্য। সরফরাজ়ের কথায়, “মাথায় মাঝেমাঝেই প্রশ্নটা ঘোরে। কিন্তু বাবাকে পরিশ্রম করতে দেখে ভাবি, ‘মাঠে নেমে রান করতে হবে’। তাই রুটিন মেনে চলি। চাইলেই মুম্বইয়ের হয়ে খেলতে পারি। তাই এখানই খেলছি। সকলেই জানে যে সরফরাজ় খানের সঙ্গে দেখা করতে হবে তাঁর বাড়িতে যেতে হবে। আজাদ ময়দান বা ক্রস ময়দানে সকাল ৬টায় এলেই হবে। বাবা এত পরিশ্রম করছেন। ওঁর জন্যই রান করতে চাই।”
আরও পড়ুন:
সাই সুদর্শন চোট পাওয়ায় শ্রীলঙ্কা টেস্ট সিরিজ়ে ডাকা হয়েছিল সরফরাজ়কে। কিন্তু প্রথম একাদশে সুযোগ পাননি। সেই প্রসঙ্গে বলেছেন, “উৎকর্ষ কেন্দ্রে ছিলাম তখন। ওরা ফোনে দলে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু সুযোগ পাইনি। ফিরে এসে মুম্বইয়ে ক্রিকেট খেলেছি। নির্বাচকেরা যদি মনে করেন যে কোনও সময় আমাকে ফোন করতে পারেন। আমি গিয়ে খেলে দেব। না ডাকলে রাজ্যের হয়ে খেলব।”