মহিলাদের ক্রিকেটে যে জনপ্রিয়তা বাড়ছে, তা আর এখন অজানা নয়। গত বছর ভারতের বিশ্বকাপ প্রমাণ করে দিয়েছে যে মেয়েদের ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ক্রমশ ঊর্ধ্বগামী। তবু এত দিন ধরে একটি খচখচানি ছিল মহিলা ক্রিকেটের। কোনও দিন লর্ডসে মহিলাদের টেস্ট ম্যাচ হয়নি। সেই আক্ষেপ মিটে গেল শুক্রবার। প্রথম বার মহিলাদের টেস্ট আয়োজিত হল ক্রিকেটের মক্কায়। প্রথম দিন প্রথমে ব্যাট করে ভারত অলআউট হয়ে গেল ২৮৫ রানে। জবাবে দিনের শেষে ইংল্যান্ড ২১/১।
১৪২ বছর আগে লর্ডসে প্রথম বার পুরুষদের টেস্ট আয়োজন করা হয়েছিল। তার পর বহু ম্যাচ হয়েছে। কিন্তু মহিলাদের টেস্ট আয়োজন করার ভাবনাচিন্তা করা হয়নি। ইংল্যান্ড দেশের মাটিতে খেললেও অন্য মাঠে খেলা আয়োজন করা হত। ৫০ বছর আগে লর্ডসে মহিলাদের এক দিনের ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছিল। অবশেষে টেস্ট আয়োজন করা হল।
ইংল্যান্ডে ভারতের ছেলেদের দলও এখন রয়েছে। তারা একটিও ম্যাচ এখনও জিততে পারেনি। কিন্তু টেস্টে প্রথম দিনে মেয়েদের কিছুটা হলেও লড়াই দিতে দেখা গেল। দিনের শেষে ভারত যে খারাপ জায়গায় আছে তা বলা যাবে না। ইংল্যান্ডে দলের বেশির ভাগ ক্রিকেটারই খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তার উপর লাল বলের ক্রিকেট। তুলনায় অনেক ধীরস্থির মনোভাব দেখা গিয়েছে ব্যাটারদের মধ্যে।
আরও পড়ুন:
ঐতিহাসিক টেস্ট খেলতে নেমে ভারতের শুরুটা অবশ্য ভাল হয়নি। সাত ওভারের মধ্যেই ফিরে যান শেফালি বর্মা (০) এবং যস্তিকা ভাটিয়া (১২)। তৃতীয় উইকেটে জেমাইমা রদ্রিগেজ়ের (৩৫) সঙ্গে জুটি বেধে ৬৪ রান তোলেন স্মৃতি মন্ধানা। দলের রানও ১০০ পেরিয়ে যায়। টেস্ট নয়, বরং দুই ক্রিকেটারই বেশ আগ্রাসী খেলছিলেন। লরেন ফাইলারকে বেশি আক্রমণ করেন স্মৃতি। পরে সোফি একলেস্টোনকে ছয় মারেন মিড উইকেটের উপর দিয়ে।
জেমাইমা ফেরার পর মন্ধানার সঙ্গে যোগ দেন হরমনপ্রীত। দু’জনে চতুর্থ উইকেটে ৮৯ রান তোলে। সেই সময়ে ইংল্যান্ডের উপরে দাপট দেখায় ভারত। তবে শতরানের আগেই ফেরেন মন্ধানা। হরমনপ্রীত ফেরেন চা-বিরতির ঠিক আগে।
এর পর দলের হাল ধরেন দীপ্তি শর্মা। স্নেহ রানার সঙ্গে তাঁর ৪৫ রানের জুটি ভারতকে ২৫০ রানের গন্ডি পার করে দেয়। এক সময় ভারতের স্কোর ছিল ১৯০/৩। সেখান থেকে ভারতের বাকি সাতটি উইকেট ৪৫ রানের মধ্যে ফেলে দেয় ইংল্যান্ড। দীপ্তি ৫৭ রান করেন।
ইংল্যান্ডের একমাত্র উইকেটটি নিয়েছেন ক্রান্তি গৌড়। তিনি ফিরিয়েছেন ট্যামি বিউমন্টকে (২)।