গল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামকে শ্রীলঙ্কার দুর্গই বলা যায়। ৪৯টি টেস্টে ২৭টি জয়, ১৫টি হার ও ৭টি ড্র। স্পিনারদের স্বর্গরাজ্যের চেয়ে কম কিছু নয়। ১৫ অগস্ট ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই যে বল ঘুরবে, তার ইঙ্গিত দিয়ে গেলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক ধনঞ্জয় ডি’সিলভা।
নিউ জ়িল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিন আক্রমণের সামনে ভারতের আত্মসমর্পণের কথা উল্লেখ করতে ভুললেন না তিনি। ২০১৭-এ ০-৩ সিরিজ় হারের কালো অধ্যায় দূরে রেখে নতুন করে পথ চলার শপথ নিচ্ছেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক। তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে গড়া দল নিয়ে ভারতকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে চান তিনি। ধনঞ্জয় জানিয়ে দিলেন, স্পিনারদের কথা মাথায় রেখেই উইকেট তৈরি হচ্ছে গলে। অধিনায়ক মনে করেন, ভারতের চেয়ে তাঁর দেশের স্পিনাররা বেশি শক্তিশালী। প্রভাত জয়সূর্যের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বোঝাতে চাইলেন, কেন তিনি শ্রীলঙ্কাকে এগিয়ে রাখছেন। গলে মাত্র ১১টি ম্যাচে ৮১ উইকেট রয়েছে অভিজ্ঞ বাঁ-হাতি স্পিনারের। সম্প্রতি স্পিনারদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের অজানা রোগের কথা মনে করিয়ে আনন্দবাজারকে ধনঞ্জয় বলছিলেন, ‘‘দু’দলের স্পিনারদের মধ্যেই আসল লড়াই। ভারতের চেয়ে আমাদের স্পিন বিভাগ কিছু এগিয়ে। প্রভাত যে এই পিচে কী করতে পারে, তা ওর পরিসংখ্যান দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।’’ যোগ করেন, ‘‘ভারতের কাছেও জাডেজা আছে। দীর্ঘদিন পরে দলে ফিরছে। কুলদীপও অসাধারণ। তবে আমি মনে করি, স্পিন বিভাগে শ্রীলঙ্কাই এগিয়ে।’’
যশপ্রীত বুমরার অনুপস্থিতি মানসিক শান্তি দিয়েছে শ্রীলঙ্কা শিবিরে। অধিনায়কও স্বস্তিতে। বলছিলেন, ‘‘ভারতের কাছে সত্যি বড় ধাক্কা। বুমরা দলে থাকা মানে লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে শুরু করা। ওর মতো বিশ্বসেরা পেসারকে ছাড়া দেশের বাইরে জেতা খুব কঠিন। তবে ভারতের পেস বিভাগ খারাপ না। সিরাজ, প্রসিদ্ধও অসাধারণ বল করছে। আমরা সব বোলারের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছি।’’
শ্রীলঙ্কাও ব্যাটিং বিভাগে দুর্বল হয়ে পড়েছে। চোটের কারণে প্রথম টেস্টে নেই পাথুম নিসঙ্ক ও কুশল মেন্ডিস। তিন বছর পরে টেস্ট দলে ফিরে এসেছেন নিরোশন ডিকওয়েল্লা। ব্যাটিং বিভাগ কিছুটা অনভিজ্ঞ হলেও শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। তাঁর কথায়, ‘‘চোট-আঘাত ক্রিকেটেরই অঙ্গ। যারা আছে, তাদের নিয়েই ম্যাচ জিততে হবে। নিসঙ্ক ও কুশল শেষ কয়েক বছর ধরে ব্যাটিং বিভাগের স্তম্ভ। ওদের ছাড়া টেস্ট খেলতে নামা কঠিন।’’ যোগ করেন, ‘‘তবে আমরা শ্রীলঙ্কার সেরা উইকেটকিপারকে পাচ্ছি। নিঃসন্দেহে আমাদের দেশের সেরা কিপার ডিকওয়েল্লা। আগ্রাসী ব্যাটিংও করতে পারে। ভারতের বিরুদ্ধে ওকে বড় দায়িত্ব নিতে হবে।’’
ভারতের ব্যাটিং বিভাগ যদিও চিন্তার অন্যতম কারণ শ্রীলঙ্কার অধিনায়কের। কপালে ভাঁজ ফেলেছে ঋষভ পন্থের উপস্থিতি। কে এল রাহুলের সাম্প্রতিক ছন্দও ধনঞ্জয়কে ভাবাচ্ছে। বলছিলেন, ‘‘পন্থ কয়েক ওভারের মধ্যে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। ওকে আটকে রাখা খুব কঠিন। অবশ্য ও প্রচুর শট খেলে। উইকেট পাওয়ার সুযোগও তৈরি করে দেয়। একটি সুযোগ হাতছাড়া হলেই ও ম্যাচ বার করে দেবে।’’ আরও বলেন, ‘‘সব চেয়ে বড় কাঁটা কে এল রাহুল। শ্রীলঙ্কায় ওর শতরান আছে। এই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ওর সমস্যা হবে না। রাহুল স্পিন ভাল খেলে। ওর উইকেট তোলা সহজ না।’’
ধনঞ্জয় মনে করেন, মানসিক ভাবে ভারত বেশি চাপে থাকবে শ্রীলঙ্কার থেকে। তাঁর কথায়, ‘‘নিউ জ়িল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ় হেরে এখানে এসেছে ভারত। মনে হয় আমাদের চেয়ে ওরা বেশি চাপে থাকবে। তবে শেষ কয়েক দিন ধরে এই পরিবেশে ভাল অনুশীলন করেছে। প্রস্তুতি ম্যাচে জিতেছে। হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। আশা করি, টেস্টে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখতে পাবেন।’’ গৌতম গম্ভীর ও শুভমন গিলের সামনে কিন্তু কঠিন প্রশ্নপত্র। উত্তীর্ণ হবেন তো তাঁরা?
শ্রীলঙ্কা বনাম ভারত: প্রথম টেস্ট ১৫ অগস্ট। সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক ও সোনি লিভ-এ সরাসরি।