দেশের মাটিতে ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন এ বছরই। তার পরেও ফর্মে না থাকার কারণে দল থেকেই ছেঁটে ফেলা হয়েছে তাঁকে। সেই সূর্যকুমার যাদব জানালেন, দল থেকে বাদ পড়ে তিনি স্রেফ হেসেছিলেন। কেন বাদ পড়েছেন, সেটাও এখনও বুঝতে পারছেন না তিনি। ঘুরিয়ে খোঁচা দিয়েছেন নির্বাচকদের।
তাঁর অধিনায়কত্বে ভারত একটিও সিরিজ় হারেনি। বিশ্বকাপ এবং এশিয়া কাপ জিতেছে। নতুন অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারের অধীনে প্রথম দু’টি সিরিজ়েই হেরেছে ভারত। শুধু ফর্মের কারণে কেন একজন ভাল অধিনায়ককে বাদ দেওয়া হবে, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রাক্তন ক্রিকেটার আকাশ চোপড়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সূর্যকুমার বলেছেন, “নিজের নাম না দেখে আমি শুধু হেসেছিলাম। যখনই আমি কোনও দলে এক-দু’বছর খেলেছি, সেখানে চাপের মুহূর্ত তৈরি হলে বা পরিস্থিতি আমার নিয়ন্ত্রণে না থাকলে সব সময়ে হেসেছি। নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি। এ বারও সেটাই করেছি।”
সূর্যকুমার জানিয়েছেন, ভারতীয় দল থেকে যে তিনি বাদ পড়তে পারেন সেটা ভাবেননি। বরং দলকে আরও অন্তত দু’বছর নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ভেবে রেখেছিলেন।
প্রাক্তন অধিনায়কের কথায়, “কখনও ভাবিনি এ রকম পরিস্থিতি আসবে। ২০২৬-এর শুরু থেকে মাথায় রেখেছিলাম, আমি দলকে আরও অন্তত দু’বছর নেতৃত্ব দেব। অলিম্পিক্স আসবে, আরও একটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসবে। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে, এটাই ভেবেছিলাম। তবে আমার ভাবনা এবং অন্য কারও ভাবনা এক হবে তার কোনও মানে নেই। প্রত্যেকের ভাবনাকে সমীহ করতে হবে। যদি ওঁরা ভেবে থাকেন ভবিষ্যতের জন্য আমাকে সরানোই ঠিক সিদ্ধান্ত, তা হলে সেটাই করবেন। আমি কোনও প্রতিক্রিয়া দেব না। এই সিদ্ধান্ত নির্বাচকেরা নিয়েছেন। ভবিষ্যতে এই দল যদি অন্য কারও অধীনে ভাল খেলে তাতে আমার সমস্যা নেই।”
আরও পড়ুন:
দল থেকে বাদ পড়ার পর কতটা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন সেটাও উঠে এসেছে সূর্যকুমারের কথায়। বলেছেন, “আমি ভাবছিলাম, এটা কী করে হতে পারে? কী ভাবে সম্ভব? সবে বিশ্বকাপ জিতেছি। মানছি, যে ভাবে চেয়েছিলাম সে ভাবে খেলতে পারিনি আইপিএলে। বাদ পড়ার পর ঘরে একা বসেছিলাম। বন্ধুবান্ধব, পরিবার এসেছিল। সকলেই বলেছিল এটাই জীবনের অংশ। কিন্তু তারা বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর আবার একা হয়ে গিয়েছিলাম।”
সূর্যকুমারের সংযোজন, “নির্বাচকেরা দল ঘোষণার ২-৩ দিন আগে ফোন করে বিষয়টা জানিয়েছিলেন। এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। আমি কিছু মনে করিনি। কারণ, আমার দোষ ছিল না। কোনও দিন এ সবের প্রতিক্রিয়া দিইনি। ওঁরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিশ্চয়ই ভেবেচিন্তে নিয়েছেন।”