Advertisement
E-Paper

ইনদওরে ছন্দে ফিরলেন ভারতীয় বোলারেরা! অর্শদীপ, নমনদের দাপটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে হারিয়ে টি২০ সিরিজ়ে এগোলেন শ্রেয়সেরা

প্রথমে ব্যাট করে ২২৩ রান করেছিল ভারত। সেই রান তাড়া করতে নেমে ২০৯ রানে শেষ হল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ইনিংস। ১৪ রানে হারল তারা। এই সিরিজ়ে প্রথম বার রান তাড়া করতে নেমে কোনও দল হারল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ২২:৪৭
cricket

জয়ের পর ভারতীয় ক্রিকেটার উল্লাস। ছবি: পিটিআই।

রাঁচীতে ২৪৯ রান করেও জিততে পারেনি ভারত। বোলারদের পিটিয়ে সেই রান সহজে তাড়া করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। কিন্তু ইনদওরে ছন্দে ফিরলেন অর্শদীপ সিংহ, ময়ঙ্ক যাদব, নমন ধীরেরা। দ্বিতীয় ইনিংসে শিশির না পড়ায় তাঁদের কাজ কিছুটা সহজ হল। প্রথমে ব্যাট করে ২২৩ রান করেছিল ভারত। সেই রান তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেটে ২০৯ রানে শেষ হল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ইনিংস। ১৪ রানে হারল তারা। চলতি সিরিজ়ে এই প্রথম কোনও ম্যাচে রান তাড়া হল না। প্রথমে ব্যাট করা দল জিতল।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল হয়নি ভারতের। দ্বিতীয় ওভারেই মাত্র ৩ রানের মাথায় আউট হন সঞ্জু স্যামসন। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ইনিংস সামলান অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিশন। অভিষেক বিধ্বংসী ব্যাটিং শুরু করেন। পাওয়ার প্লে কাজে লাগান তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের পেসারদের বলের গতি ব্যবহার করেন। ভাল খেলেন ঈশানও।

টি-টোয়েন্টি ক্রমতালিকার প্রথম দুই ব্যাটারের মধ্যে ১০৮ রানের জুটি হয়। মাত্র ৪০ বলে। ১৮ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন অভিষেক। এই ম্যাচে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ২০০০ রানও করেন তিনি। মাত্র ১০২৪ বলে এই রেকর্ড গড়েন তিনি। ভাঙেন সূর্যকুমার যাদবের রেকর্ড।

পাশাপাশি ৫টি ছক্কা মেরে এক বছরে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ডও গড়েন তিনি। এই বছর ৬৮টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। ২০২২ সালের সূর্যও ৬৮টি ছক্কা মেরেছিলেন। তবে চলতি বছর অন্তত আরও সাতটি ম্য়াচ পাবেন অভিষেক। ফলে সূর্যের থেকে অনেকটা এগিয়ে যাবেন তিনি।

অভিষেক ও ঈশান যখন খেলছিলেন, দেখে মনে হচ্ছিল ২৫০ রানও পার হয়ে যাবে। কিন্তু আচমকা খেলার ছবি বদলে যায়। ভারতের আগ্রাসী মানসিকতার জন্যই তা হয়। রস্টন চেজ়কে একটি ছক্কা মারার পর আবার ছক্কা মারতে গিয়ে স্টাম্প আউট হন ঈশান। ১৮ বলে ৩৭ রান করেন তিনি। সেই ওভারেই ১ রানের মাথায় অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারকে আউট করেন চেজ়।

পরের ওভারে শামার স্প্রিঙ্গারের বাউন্সারে পরাস্ত হন অভিষেক। ৩০ বলে ৬৯ রান করে আউট হন তিনি। তার পরের ওভারে গুডাকেশ মোটির বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন নমন ধীর। ১৫ বলের মধ্যে ৪ উইকেট পড়ে যায় ভারতের। চারটিই বড় শট মারতে গিয়ে।

তিলক বর্মা ও নীতীশ রেড্ডি জুটি গড়েন। হাওয়ায় শট না খেলে চার মারার চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। ভালই দেখাচ্ছিল দু’জনকে। ঠিক তখনই নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়ে রান আউট হন তিলক। ভারতের ইনিংসের ১৭তম ওভারে মোটি বল করছিলেন। লেগ সাইডে ফুল টস বল করেছিলেন মোটি। অক্ষর জোরে সেই বল ফ্লিক করেন। তাঁরা একটি খুচরো রান নিলেও পর ক্ষণেই মাঝ পিচে ফিরে এসে কথা বলতে থাকেন। দু’রান নেওয়ার চেষ্টা করেননি। ভেবেছিলেন বলটি চার হয়ে গিয়েছে। একে অপরের সঙ্গে হাতও মেলান। পরে অক্ষর নিজের ক্রিজের দিকে হাঁটতে শুরু করে দেন।

কিন্তু বল চার হয়নি। বাউন্ডারির কাছে ঝাঁপিয়ে বলটি থামান কামিল পুরান। বল বাউন্ডারির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় উঠে দাঁড়িয়ে বলটি আবার ধরে ফেলেন পুরান। সেই বল ছুড়ে উইকেটকিপার শে হোপের কাছে। ঘটনাটি কী হচ্ছে দেখতে পেয়ে দ্রুত ক্রিজে ব্যাট ঠেকানোয় রান আউট হননি অক্ষর। তিলক তখন পিছন ফিরে হাঁটছিলেন। তিনি কিছুই দেখতে পাননি। হোপ সেই বল ফেরত পাঠান বোলিং প্রান্তে থাকা মোটির কাছে। তিলক তখনও নিজের ক্রিজের থেকে অন্তত ফুট চারেক দূরে ছিলেন। তিনি হেঁটে হেঁটে ক্রিজে ফিরছিলেন। এমন সময় মোটি বল ধরে উইকেট ভেঙে দিয়ে আউটের আবেদন করেন।

মাঠের আম্পায়ার বিষয়টি বুঝতে না পেরে তৃতীয় আম্পায়ারকে সিদ্ধান্ত নিতে বলেন। তৃতীয় আম্পায়ার প্রথমে দেখেন যে বাউন্ডারিতে ঠিক করে পুরান বল আটকেছিলেন কি না। তা নিয়ে নিশ্চিত হতেই রান আউটের ঘটনাটি দেখেন। রিপ্লে দেখে তিলককে রান আউট দেন। ক্রিজে জমে গিয়েও এ ভাবে আউট হওয়ায় হতাশায় মাথা নাড়তে নাড়তে বেরিয়ে আসেন তিলক। ডাগআউটে থাকা কোচ গৌতম গম্ভীরও একেবারেই খুশি হতে পারেননি।

২১ রান করে কিমো পলের লেগ সাইডের বলে খোঁচা মেরে আউট হন নীতীশ। পর পর উইকেট পড়ায় ভারতের রান তোলার গতি কমে যায়। ওভার অনেক থাকলেও উইকেট কম ছিল। পুরো দায়িত্ব গিয়ে পড়ে অক্ষরল পটেলের হাতে। কিন্তু ২০ রানের মাথায় আবার বোকামি করে রান আউট হন অক্ষর। শেষ দিকে অর্শদীপের ১১ ও প্রিন্স য়াদবের ১৩ রান না হলে চাপ হত। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ২২৩ রানে অল আউট হয় ভারত। অন্তত ৩০ রান কম হয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ইনিংসের শুরুটাও ভাল হয়নি। এই সিরিজ়ে তাদের সেরা ব্যাটার শাই হোপকে দ্বিতীয় ওভারে আউট করেন অর্শদীপ। ৫ রান করেন হোপ। বড় ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। অপর ওপেনার কামিল পুরান শুরুতে দ্রুত খেলতে পারছিলেন না। কিন্তু শিমরন হেটমায়ার রানের গতি কমতে দেননি। ভাল খেলছিলেন তিনি। ২৬ বলে ৪৩ রান করে নমনের বলে আউট হন হেটমায়ার। রান পাননি রভম্যান পাওয়েল (৫)।

শুরুতে বড় শট মারতে না পারলেও একটা সময় পরে হাত খোলেন পুরান। নমনকে এক ওভারে তিনটি ছক্কা মারেন তিনি। যদিও ওই ওভারেই ৪২ রানের মাথায় আউট হন তিনি। আগের দুই ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে শিশির পড়ায় বোলারদের সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু এই ম্যাচে শিশির পড়েনি। ফলে বোলারেরা কিছুটা সুবিধা পান।

ভারত এই ম্যাচে পেসারদের উপরেই ভরসা করেছিল। নেওয়া হয়েছিল প্রিন্সকে। সেই সিদ্ধান্ত কাজে লাগে। ডেথ ওভারে ভাল ইয়র্কার করছিলেন প্রিন্স। ক্যাচ মিস্‌ না করলে শারফেন রাদারফোর্ডের উইকেটও পেতেন। এই ম্যাচে সুযোগ পাওয়া কুয়েন্টিন স্যাম্পসন ২১ রান করে নীতীশের বলে আউট হন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে জয়ে নিয়ে যাওয়ার পুরো দায়িত্ব গিয়ে পড়ে রাদারফোর্ডের উপরে। আগের দুই ম্যাচে খুব ভাল ব্যাট করেছিলেন তিনি। এই ম্যাচেও করছিলেন। শেষ ১৮ বলে দরকার ছিল ৫৬ রান। ৩২ রানের মাথায় অর্শদীপের বলে বোল্ড হন রাদারফোর্ড। সেখানেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়।

শামার স্প্রিঙ্গার শেষ পর্যন্ত লড়াই করেন। শেষ ওভারেও ২২ রান নেন তিনি। কিন্তু দলকে জেতাতে পারেননি। অর্শদীপের ৩, নমনের ২, অক্ষর ও নীতীশের ১ উইকেটের সাহায্যে ম্যাচ জিতে সিরিজ়ে এগিয়ে যায় ভারত।

India Vs West Indies Team India Shreyas Iyer

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy