অবশেষে বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি দলের মতো খেলল ভারত। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের ব্যর্থতা ভুলে জ়িম্বাবোয়েকে চুনকাম করল তারা। তিনটি ম্যাচই জিতে সিরিজ় জিতল ভারত। গৌতম গম্ভীরের বদলে ভিভিএস লক্ষ্মণ এই সিরিজ়ে কোচ হওয়ার পরেই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠলেন শ্রেয়স আয়ারেরা। অধিনায়ক হিসাবে দাপটের সঙ্গে প্রথম সিরিজ় জিতলেন তিনি।
ব্যাট হাতে নায়ক বৈভব সূর্যবংশী। চলতি সিরিজ়ে নিজের দ্বিতীয় অর্ধশতরান করল সে। তার ৪৯ বলে ৮১ রান দলের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। বাকি কাজ করেন ঈশান কিশন, শ্রেয়স, রিঙ্কু সিংহেরা। বল হাতে আবার নজর কাড়লেন মায়াঙ্ক যাদব। বলা যেতে পারে এই সিরিজ়ে নবজন্ম হল তাঁর। প্রথমে ব্যাট হাতে ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯২ রান করে ভারত। জবাবে ৭ উইকেটে ১৫৭ রানে শেষ হল জ়িম্বাবোয়ের ইনিংস। ৩৫ রানে জিতল ভারত।
ইংল্যান্ডে ব্যর্থ হলেও জ়িম্বাবোয়েতে দেখা গেল বৈভবের আসল রূপ। প্রথম ম্যাচে অর্ধশতরানের পর দ্বিতীয় ম্যাচে বেশি রান করতে পারেনি সে। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচে আবার তার ঝলক দেখা গেল। প্রথম বলে চার মেরে শুরু। তার পর আর থামানো যায়নি ভারতের ১৫ বছরের ব্যাটারকে।
তবে অপর ওপেনার অভিষেক শর্মা এই ম্যাচেও ব্যর্থ। মাত্র ২ রান করে কেকেআরের সেই ব্লেসিং মুজ়ারাবানির বলেই আউট হলেন। আরও এক বার হতাশ করলেন তিনি। বৈভবের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলের রান এগিয়ে নিয়ে গিলেন ঈশান কিশন। ২৪ ঘণ্টা আগে এই মাঠেই অর্ধশতরান করেছিলেন। এই ম্যাচে অবশ্য ২৯ রান করে আউট হলেন। অধিনায়ক শ্রেয়স আবার শুরু পেলেও বড় রান করতে পারলেন না। ২৭ রান করে ফিরলেন।
বৈভব প্রতি বলে ব্যাট চালায়নি। বল দেখে খেলছিল। সেই কারণেই অর্ধশতরান করতে সময় নিল। তার পর রান তোলার গতি আরও বাড়াল সে। একটা সময় দেখে মনে হচ্ছিল, বড়দের দলে প্রথম শতরানও করে ফেলবে বৈভব। কিন্তু আবার সেই ভুল শটের খেসারত দিতে হল তাকে। ব্যাটের একেবারে নীচে বল লাগায় বেশি দূর গেল না। ভাল ক্যাচ ধরলেন ব্র্যাড ইভান্স। আট চার ও চার ছক্কায় ৪৯ বলে ৮১ রান করে আউট হল বৈভব।
শেষ দিকে ভারতের রান টানলেন রিঙ্কু। ১৪ বলে ২৫ রান করলেন কেকেআরের ব্যাটার। আগের দুই সিরিজ়ে সুযোগ না পেলেও এই সিরিজ়ে পেয়েছেন। তা কাজে লাগালেন। তাঁর ব্যাটেই ১৯২ রান করে ভারত।
আরও পড়ুন:
এই রান তাড়া করা যে জ়িম্বাবোয়ের কাছে কঠিন তা বোঝা যাচ্ছিল। সেই কাজ আরও কঠিন করলেন মায়াঙ্ক। প্রথম বলেই ব্রায়ান বেনেটকে শূন্য রানে আউট করলেন তিনি। জ়িম্বাবোয়ের প্রথম চার ব্যাটার রান পাননি। পাওয়ার প্লে-তেই ৩ উইকেট পড়ে যায়। শুরুটা ভাল না হওয়ায় শেষ দিকে রায়ান বার্ল ৫৪ রান করেও দলকে জয়ের কাছাকাছিও পৌঁছোতে পারলেন না।
চার ওভারে ২৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেন মায়াঙ্ক। আর এক পেসার যশ ঠাকুর নিলেন ২ উইকেট। অশোক শর্মা ও রবি বিশ্নোইয়ের ঝুলিতে ১ করে উইকেট। পাওয়ার প্লে-র মধ্যে ৩ উইকেট ফেলে দেওয়ার পরেও অবশ্য জ়িম্বাবোয়েকে অল আউট করতে পারলেন না ভারতীয় বোলারেরা। তার একটা কারণ অবশ্যই ক্যাচ ফস্কানোর রোগ। এই ম্যাচে ভারতের পাঁচটি ক্যাচ পড়েছে। তিন ম্য়াচে পড়েছে ১০টি ক্যাচ। সিরিজ় জিতলেও ক্যাচ ফস্কানোর এই প্রবণতা চিন্তা বাড়াচ্ছে সমর্থকদের।