সাঁইত্রিশে পা দেওয়ার দিন বীরেন্দ্র সহবাগকে কী এসএমএস করব, ভাবতে ভাবতে হঠাৎ চমকে দেওয়ার মতো খবরটা পেলাম। বীরেন্দ্র সহবাগ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করে দিয়েছেন! অথচ অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সরকারি কোনও বিবৃতি দেখা গেল না।
দুবাইয়ে মাস্টার্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন সহবাগ। সেখান তাঁর কোনও একটা মন্তব্য থেকে এই জল্পনাটা ছড়িয়ে পড়ে। খবরটা শুনেই ওঁকে ফোন করলাম। উনি বললেন, অবসর ঘোষণা করেননি তবে দু’এক দিনের মধ্যেই করবেন। জন্মদিনের দিন, মানে মঙ্গলবার দেশে ফিরছেন। বেঙ্গালুরুতে কর্নাটকের বিরুদ্ধে তাঁর নতুন টিম হরিয়ানার হয়ে রঞ্জি ম্যাচ খেলতে। ২২ অক্টোবর থেকে ম্যাচ। দেশে ফিরে মঙ্গলবার বা বুধবার সরকারি ঘোষণা করে দেবেন সহবাগ। বোর্ড আলাদা করে বিবৃতিও দিতে পারে।
আসলে মাস্টার্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (এমসিএল) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সপ্তাহ দুয়েক ধরে কথা চলছে সহবাগের। ওখান থেকে প্রচুর টাকার প্রস্তাবও পেয়েছেন। আর রীতিমতো সম্মানের প্রস্তাব— টুর্নামেন্টের একটা টিমের মার্কি ক্রিকেটার হিসেবে ডাকা হয়েছে সহবাগকে। যে দলের অন্যতম মালিক রীতি স্পোর্টস। মানে, যে ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের সেলিব্রিটি ক্লায়েন্ট তালিকায় রয়েছে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির মতো নাম। ভারত অধিনায়কের বন্ধু এবং রীতি স্পোর্টসের কর্ণধার অরুণ পাণ্ডে জানিয়েও ছিলেন যে, এমসিএলে টিম কিনছে তাঁর সংস্থা।
যাই হোক, এত ভাল অফার পেয়ে ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে গত তিন-চার দিন ধরে কথা বলছিলেন সহবাগ। জিজ্ঞেস করেছিলেন, জাতীয় টিমে ফেরার কোনও সুযোগ তাঁর সামনে আর আছে কি না। বা তাঁর জন্য কোনও ফেয়ারওয়েল টেস্ট করার কথা ভাবা হতে পারে কি না। বোর্ডের তরফ থেকে যা ইঙ্গিত পেয়েছেন বীরু, তাতে তিনি বুঝে গিয়েছিলেন যে সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে।
এই অবস্থায় এমসিএলের অত ভাল প্রস্তাব হাতছাড়া করতে চাননি সহবাগ। ওখানে শুধু একটাই শর্ত। তোমাকে রিটায়ার্ড প্লেয়ার হতে হবে। বাকি টিমগুলোয় যেমন ব্রায়ান লারা, ওয়াসিম আক্রম, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, মাহেলা জয়বর্ধনে, কুমার সঙ্গকারার মতো অবসরপ্রাপ্ত প্লেয়ার খেলবেন। তা চূড়ান্ত প্রস্তাব পেয়ে বোর্ডকে বীরু জানিয়ে দেন, ২০১৬ জানুয়ারিতে শুরু ওই টুর্নামেন্ট তিনি খেলবেন। বোর্ডও তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দেয়।
অতএব, দু’এক দিনের মধ্যেই অবসরের গ্রহে চলে যাচ্ছেন দেশের অন্যতম বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান। তবে রঞ্জিতে হরিয়ানার সঙ্গে দু’বছরের চুক্তি আছে। সেটা সহবাগ পুরো করতে চান। আইপিএল খেলে যাওয়ার ইচ্ছেও তাঁর আছে। তবে শেষ পর্যন্ত সেটা হবে কি না, নিশ্চিত নয়। কারণ এমসিএলের শর্ত হল, সব ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে সরে যেতে হবে।