দেশের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলি ঘুরে দেখে আসতে বলছেন মোদী! কোন ৭ গ্রামের রূপ সত্যিই মনভোলানো?
সীমান্তের গ্রামগুলিতে তরুণদের যেতে উৎসাহিত করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কী আছে এইসব গ্রামে? তালিকায় থাকবে কোন কোন স্থান?
দেখলে মনে হবে, ক্যানভাসে আঁকা ছবি। ভারতের বেশ কিছু সীমান্তবর্তী গ্রাম শুধু মানচিত্রের প্রান্তের কোনও স্থান নয়, বরং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অনন্য সংস্কৃতির আকর।
সীমান্তের এই গ্রামগুলিতেই তরুণদের যেতে উৎসাহিত করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সীমান্তবর্তী গ্রামাঞ্চলের উন্নয়ন, আর্থ-সামাজিক বিকাশ এবং গ্রামগুলিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সহযোগিতায় ‘বিকশিত ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম’ শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী চাইছেন তরুণ প্রজন্মই হোক এই উন্নয়নের অংশীদার। গ্রামগুলিতে সফরের উদ্দেশ্যে যাওয়া মানেই পর্যটনের বিকাশ। পর্যটনের হাত ধরে সেখানকার মানুষদের নিজস্ব জীবনধারা-সংস্কৃতিও প্রচারের আলোয় আসবে। গ্রামের মানুষদের জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র যেতে হবে না।
আপনি কি নিরালা, সুন্দর, ভিড়ভাট্টার আড়ালে রয়ে যাওয়া এমন কোনও ঠিকানায় সফরের কথা ভাবছেন? তা হলে তালিকায় রাখতে পারেন সীমান্তবর্তী ৭ গ্রাম। পাহাড়, বনভূমি, গ্রামের জীবনযাপন— এক নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন করবে আপনাকে।
মানা, উত্তরাখণ্ড: নামে মানা হলেও, এই গ্রামে পর্যটকদের যাওয়ায় মানা নেই। বদ্রীনাথ থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে চমোলী জেলার গ্রামটিকে যেন পরম মমতায় জড়িয়ে রেখেছে অজস্র শ্বেতশুভ্র পর্বতরাজি। গ্রামের প্রতিটি প্রান্ত থেকে হিমালয়ের অনুপম সৌন্দর্য ধরা পড়ে। মানা দিয়ে বয়ে গিয়েছে সরস্বতী নদী।
আরও পড়ুন:
মানা গ্রামে মূলত ভুটিয়া সম্প্রদায়ের বাস। মহিলারা পশম দিয়ে সোয়েটার, শাল, মাফলার বোনেন। পুরুষেরা পশুপালন, চাষবাস করেন। গ্রামের অর্থনীতির ভিত্তি পর্যটনশিল্প। এখান থেকে ঘুরে নেওয়া যায় ব্যাস গুহা, গণেশ গুহা, ভীম পুল, বসুধারা জলপ্রপাত।
ছিটকুল, হিমাচল প্রদেশ: ধূসর পাহাড়ের কোল দিয়ে বয়ে চলেছে খরস্রোতা নদী। মাঝেমধ্যে গজিয়ে উঠেছে হলুদ-লাল পাতার গাছগাছালি। চারপাশে উঁচু পাহাড়। ছিটকুল যেন রূপকথার রাজ্য। ভারত-তিব্বত সীমান্তের গ্রাম ছিটকুল কিন্নৌর জেলার অন্তর্গত।
মরসুম ভেদে বদলায় ছিটকূলের রূপ। কখনও ধূসর পাহাড় ঢাকে গাছগাছালিতে। শীতে গ্রাম মুড়ে থাকে তুষার চাদরে। ছোট্ট গ্রামের জীবনযাত্রা কঠিন হলেও, মানুষগুলি সরল। রয়েছে ছোট্ট একটি স্কুল, গ্রামের মধ্যে কাঠের মন্দির। অলসযাপনের জন্য এই স্থান আদর্শ।
জেমিথাং, অরুণাচল প্রদেশ: ভারত-চিন সীমান্তের একটি গ্রাম হল জেমিথাং। ‘জেমি’ শব্দের অর্থ বালি, ‘থাং’ সমতলভূমি। যদিও স্থানটি পার্বত্য এলাকা। তাওয়াং জেলায় অবস্থান। ১৯৫৯ সালে দলাই লামা ভারতে এই পথ দিয়েই এসেছিলেন। এখানেই রয়েছে বিখ্যাত গোরসা চোর্তেন।
আরও পড়ুন:
বৌদ্ধ সংস্কৃতির ছোঁয়া রয়েছে পুরো গ্রামেই। জেমিথাং শান্তি একটি গ্রাম, যেখানে রয়েছে প্রকৃতির মন ভাল করা রূপ। মনপা উপজাতির বাস গ্রামটিতে।
ডাওকি, মেঘালয়: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ছোট্ট গ্রাম ডাওকি। মেঘালয়ের পশ্চিম জয়ন্তিয়া হিল্স জেলার মধ্য দিয়ে বয়ে গিয়েছে উম্নগোট। এই নদীর অপর নাম ডাওকি। বর্ষা ছাড়া অন্য মরসুমে নদীর জল এতটাই স্বচ্ছ থাকে যে, তলদেশের নুড়িপাথরও স্পষ্ট দেখা যায়।
ডাওকি থেকে ঘুরে নেওয়া যায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত, সেতু। কাছেই রয়েছে মাওলিননং, ‘এশিয়ার পরিচ্ছন্নতম গ্রাম’-এর শিরোপা এর দখলে। মেঘালয়, শিলং ঘুরে নেওয়া যায় এখান থেকেই।
টোটোপাড়া, পশ্চিমবঙ্গ: আলিপুরদুয়ার জেলার ভুটান সীমান্তে পাহাড়ের পাদদেশে টোটো জনজাতির ছোট্ট গ্রাম টোটোপাড়া। ভাষা টোটো। তাঁরা নিরাকারবাদী প্রকৃতি উপাসক।
পাহাড়ের গায়ে সুপারি বনের ফাঁকে টোটোদের বাড়ি। সুপারি বিক্রি, সামান্য চাষ আর পশুপালন তাঁদের জীবিকা। শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, টোটোদের জীবনযাত্রা, তাঁদের নিজস্ব শৈলীতে নির্মিত বাড়ি, তাঁদের সংস্কৃতি জানার জন্যই এই গ্রামে যাওয়া যেতে পারে।
হাসিমারা বা মাদারিহাট থেকে গ্রামে যাওয়া সুবিধাজনক। শিলিগুড়ি, নিউ জলপাইগুড়ি থেকে গাড়ি চলে যায়। তবে যাতায়াতের পথের খানিক অংশ রাস্তাহীন। রয়েছে পাথরে ভরা নদী। বর্ষার সময় হড়পা বান এলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।
জয়গাঁ, পশ্চিমবঙ্গ: ভারত-ভুটানের সীমান্তবর্তী গ্রাম হল জয়গাঁ। ভুটানি শৈলীতে তৈরিতে বিশাল তোরণ পার করে এখান থেকে ফুন্টসোলিং যাওয়া যায়। ভারতীয় পর্যটকেরা এই পথ ধরেই সাধারণত ভুটানে যান। জয়গাঁ ব্যবসায়িক কেন্দ্র। অনতিদূরে রয়েছে চা-বাগান, পাহাড়।
আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লকের জয়গাঁ থেকে হাসিমারা, আলিপুরদুয়ার-সহ ডুয়ার্সের নানা প্রান্তও ঘুরে দেখা যায়। জয়গাঁ জায়গাটি জমাটি শহর হলেও, সেখান থেকে পশ্চিমবঙ্গ, ভুটানের একাধিক জায়গায় যাওয়া যায়। ভুটানে যেতে হলে অনুমতি দরকার হয়।
টাকি, পশ্চিমবঙ্গ: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের আর একটি জনপদ হল টাকি। ইছামতী নদী কার্যত দুই দেশের সীমান্তের মধ্যে বিভাজন করেছে। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার জায়গাটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র।
বিকালের দিকে ইছামতীর বুকে ভেসে প়ড়তে পারেন নৌকোয়। বাংলাদেশের কিছু অংশ এখান থেকে খুব কাছে। রয়েছে গোলপাতার জঙ্গল, পুরনো রাজবাড়ি, মন্দির-সহ বেশ কয়েকটি দ্রষ্টব্য স্থান।