বিমান ধরতে এসে বন্দরেরই প্রেমে পড়ে যাবেন! দেশের নানা প্রান্তে লুকিয়ে এমনই নৈসর্গিক বিমানবন্দর
আকাশ থেকে কেমন দেখায় দিগন্তপ্রসারী সমুদ্র, কেমন দেখায় ফিরোজ়ারঙা লেগুন? পাহাড়ে ঢাকা দুর্গম স্থানের রানওয়েতে অবতরণের রোমাঞ্চের শরিক হতে, আকাশপথে পাড়ি দিতে পারেন দেশের ৮টি বিমানবন্দরে।
কোথাও দিগন্ত ঢাকা পর্বতশিখর, কোথাও ফিরোজ়ারঙা লেগুন। তারই বুকে রানওয়ে।
ভারতের নানা প্রান্তে রয়েছে এমনই সব বিমানবন্দর, যারা সৌন্দর্যবিচারে নিজেই হয়ে উঠতে পারে গন্তব্য।
আকাশ থেকে কেমন দেখায় সুনীল সাগর, কেমন দেখায় ফিরোজ়ারঙা লেগুন? পাহাড়-ঢাকা দুর্গম স্থানের রানওয়েতে অবতরণের রোমাঞ্চের শরিক হতে, আকাশপথে পাড়ি দিতে পারেন দেশের ৮টি বিমানবন্দরে।
কুশক বাকুলা রিম্পোচে বিমানবন্দর, লাদাখ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,২৫৬ মিটার উঁচুতে অবস্থিত লেহ-র কুশোক বকুলা রিম্পোচে বিমানবন্দর ভারতের সর্বোচ্চ বাণিজ্যিক বিমানবন্দর। হিমালয় এবং কারাকোরাম পর্বতমালায় ঘেরা রানওয়েতে বিমান অবতরণের জন্য পাইলটের বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয়।
চার দিকে ধূসর পাহাড়। সেই কালচে পর্বতশিখরে শ্বেতশুভ্র তুষার। বিমান অবতরণের সময় ক্রমশ স্পষ্ট হতে থাকে পাহাড়ের খাঁজে লুকিয়ে থাকা জলাশয়গুলি। কোনওটি দেখায় গাঢ় নীল, কোনওটির রং তুঁতে। বর্ণবৈচিত্রে এই অবতরণ সত্যিই অনুপম।
আরও পড়ুন:
শেখ উল আলম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শ্রীনগর: আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে শ্রীনগরে বিমান অবতরণের সময় দৃশ্যমান পীরপঞ্জালের বরফাবৃত শৃঙ্গ। বিমান যত রানওয়ের কাছে আসে স্পষ্ট হতে থাকে ডাল লেক, সবুজ-হলুদ পপলার গাছ, সবুজ খেত।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫,২৫০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত শ্রীনগরের বিমানবন্দরের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য গ্রীষ্ম এবং বসন্তে। এই সময় কুয়াশার আস্তরণ সাধারণত থাকে না বলে, বিমান অবতরণের সময় উপত্যকা এবং বন্দরের সৌন্দর্য উপর থেকে ভাল ভাবে বোঝা যায়।
অগত্তী বিমানবন্দর, লক্ষদ্বীপ: লক্ষদ্বীপের সুনীল জলরাশির বুকে একখণ্ড জমিই এখানে রানওয়ে। অগত্তি বিমানবন্দরে অবতরণের আগে থেকেই দৃশ্যমান হয় সাগর। বিমান যত রানওয়ের কাছে আসে, ততই স্পষ্ট হয় জলের রংবদল।
নারকেল গাছে ঘেরা রানওয়েটি সরু ফিতের মতো দেখায় আকাশ থেকে। আশপাশে যত দূর চোখ যায়, শুধুই জল। কোথাও তা ঘন নীল, কোথাও ফিরোজ়া রঙের। ভারতের অন্যতম সুন্দর বিমানবন্দরের তালিকার অন্তর্ভুক্ত এটি। শুধু এই দৃশ্যের জন্য অগত্তী আসা যায় বিমানপথে।
আরও পড়ুন:
আইজ়ল বিমানবন্দর, মিজ়োরাম: দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে যে সমস্ত বিমানবন্দর নির্মিত, তার মধ্যে পড়ে আইজ়ল বিমানবন্দর। রানওয়ে তৈরির জন্য ইঞ্জিনিয়ারেরা পাহাড়ের তিনটি চূড়া কেটে সমতল করেন।
সবুজ উঁচুনিচু ঢেউখেলানো পাহাড়, দিগন্ত বিস্তৃত আকাশ। রানওয়ের নীচ দিয়ে বয়ে গিয়েছে ঝর্না। পাহাড়সারি যেন বেষ্টন করে রেখেছে স্থানটিকে।
পাকিয়ং বিমানবন্দর, সিকিম: পাহাড় কেটে তৈরি হওয়া সিকিমের পাকিয়ং বিমানবন্দরের রূপে মুগ্ধ হবেন না, এমন মানুষ ভূ-ভারতে মেলা দুষ্কর। ধস, বৃষ্টি থেকে পাহাড়ি বিমানবন্দরটিকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যবহৃত হয়েছে উচ্চতর প্রযুক্তি এবং কারিগরি কৌশল।
আকাশ পরিষ্কার থাকলে বিমান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হয়। রানওয়ে ঘিরে দিগন্তঢাকা পর্বতশিখর। মরসুমভেদে তার এক-এক রকম রূপ।
জুব্বড়হট্টী বিমানবন্দর, শিমলা: ভারতের ঝুঁকিপূর্ণ বিমানবন্দরের তালিকায় রয়েছে শিমলার জুব্বড়হট্টী বিমান্দবন্দর। পাহাড়চূড়া কেটে তৈরি এটি। রানওয়েটি যথেষ্ট দীর্ঘ বা প্রশস্ত নয়। তবে পাহাড়ঘেরা বিমানবন্দর মনোমুগ্ধকর। চাটার্ড বিমান এবং হেলিকপ্টার ওঠানামা করে এখানে।
কাংড়া বিমানবন্দর, হিমাচল প্রদেশ: বরফাবৃত ধৌলাধারের সৌন্দর্য উপভোগের অন্যতম উপায় হল এখানকার উড়ানপথটি। ধর্মশালার কাছে গগল গ্রামের কাছে ছোট্ট বিমানবন্দর। বিমান অবতরণের সময় মেঘমুক্ত দিনে আকাশ থেকে ধৌলাধারের শ্বেতশুভ্র রূপ বিভোর করে দেয়।
বীর সাওরকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আন্দামান এবং নিকোবর: পোর্ট ব্লেয়ারের বিমানবন্দরে রানওয়ের এক প্রান্তে পাহাড় থাকায় এখানে বিমান কেবল এক দিকেই ওঠানামা করতে পারে। নতুন টার্মিনালটি দেখতে কিছুটা ঝিনুকের মতো। টার্মিনালের ছাদে এমন ভাবে স্কাইলাইট বসানো হয়েছে দিনে ১২ ঘণ্টা কোনও কৃত্রিম বা বৈদ্যুতিক আলো ছাড়াই পুরো ভবন ঝলমলে থাকে।