বেসরকারি সংস্থায় ‘কর্মসংস্কৃতি’ বলতে বোঝায় কেবল যন্ত্রের মতো কাজ করে যাওয়া। ব্যক্তিগত সময়েও তা থাবা বসায়। আর এর ফলে পরিবারের বিশেষ বিশেষ আনন্দের সময়ও অনেক সময়ই হাতছাড়া হয়ে যায়। কখনও আবার গুরুতর অসুস্থতাতেও মেলে না কোনও ছাড়। কাজের জাঁতাকলে পিষে গিয়ে শারীরিক-মানসিক, উভয় দিকই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। তা দেখে মনখারাপ করেছেন নেটাগরিকেরাও।
আরও পড়ুন:
লিঙ্কডইনে একটি ঘটনা পোস্ট করেছেন কবিতা থেপলিয়াল নামের এক তরুণী। তিনি লিখেছেন, তাঁর অধীনে কাজ করা এক জনের ছুটির আবেদন চমকে দিয়েছে তাঁকে। সেখানে লেখা রয়েছে, গণপতিপুজো বা দীপাবলি কোনও উৎসবেই ছুটি নেবেন না ওই কর্মী। তাঁর বদলে বছরের শেষের দিকে কয়েক দিনের ছুটি যেন মঞ্জুর করা হয়। সে সময় তাঁর পরিবারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান রয়েছে, তাই ছুটি নিতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি। পোস্টদাত্রী জানিয়েছেন, এতে তিনি বেশ খুশি হন।
তবে ছুটির দরখাস্তটি সেখানেই শেষ হয়নি। এর পরে ওই কর্মী যোগ করেছেন, মাঝের সময়ে তিনি যদি অন্য কোনও কারণে ছুটি চান তবে যেন তা বাতিল করে দেওয়া হয়। জ্বর, মাথাব্যথা, পেটব্যথা বা অন্য কোনও ‘সৃজনশীল’ কারণে তিনি যদি ছুটির আবেদন করেন, তবে তাঁর কথা যেন বিশ্বাস না করা হয়। সে ক্ষেত্রে ছুটি বাতিল করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। পোস্টদাত্রী জানিয়েছেন, ওই কর্মী এক জন ‘জেন জ়ি’। মজা করে তিনি লিখেছেন, সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগের নীতিমালা প্রতি বছর পরিবর্তিত হয়। আর ‘জেন জ়ি’দের নীতিমালা বদলায় প্রতি সোমবার।
ঘটনাটি পোস্ট করার পড়েই হইচই পড়ে গিয়েছে নেটপাড়ায়। যদিও তার সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। নতুন প্রজন্মের কাজের প্রতি অনীহা রয়েছে, এমন অভিযোগ তুলেছেন কেউ কেউ। আবার অনেক নেটাগরিকই বিষয়টি অন্য ভাবে দেখেছেন। তাঁদের মতে, একপাক্ষিক কথা শুনে কখনওই ঘটনার বিচার করা উচিত নয়। হয়তো ওই সংস্থা সত্যিই ছুটির বিষয়ে ‘কার্পণ্য’ করে। সে কারণেই ব্যঙ্গের ছলে এমন কথা লিখেছেন ওই কর্মী।