রোজকার মতো ঘর থেকে আবর্জনা বার করে বাইরে রাখতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই মুহূর্ত যে তাঁর জন্য এমন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে তা ভাবতে পারেননি আমেরিকার বাসিন্দা মহম্মদ ইসলাম। শরীর খারাপ হওয়ায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু মেয়ের দেওয়া এক ছোট্ট উপহারে প্রাণ বাঁচে তাঁর। অবাক করা সেই ঘটনার সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, মহম্মদ ইসলাম ওহাইয়োর সিনহিনাট্টির বাসিন্দা। সেই সময় তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। সকালবেলা বাড়ির বাইরে আবর্জনা ফেলার স্থানে বর্জ্য ফেলতে যাওয়ার সময় হঠাৎই অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন মহম্মদ। মেঝের উপর লুটিয়ে পড়ে যান। উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন তিনি। মহম্মদের কথা অনুযায়ী, এর পর কিছু ক্ষণের কোনও স্মৃতি তাঁর মনে নেই। অ্যাম্বুল্যান্সের সাইরেনের আওয়াজে জ্ঞান ফেরে মহম্মদের।
আরও পড়ুন:
কিন্তু সেই অ্যাম্বুল্যান্স কে ডাকল? এখানেই কাজে আসে তাঁর কন্যার দেওয়া অ্যাপ্লের স্মার্টওয়াচ। অনেকেই জানেন যে দামি এই স্মার্টওয়াচে রয়েছে নানা ধরনের বৈশিষ্ট্য। সেটি যিনি পরে থাকেন, তাঁর চালচলন নজরদারিতে রাখে এই যন্ত্র। তিনি পড়ে গেলেন কি না তা-ও নজরে রাখে অ্যাপ্লের স্মার্টওয়াচের সেই বৈশিষ্ট্য। মহম্মদের কথা অনুযায়ী, তিনি জানতেন যে তাঁর মেয়ের দেওয়া স্মার্টওয়াচে এমন একটি ফিচার রয়েছে। কিন্তু সেটি নিয়ে কখনও মাথা ঘামাননি মহম্মদ।
আরও পড়ুন:
অ্যাপ্লের স্মার্টওয়াচের সেই বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, বিশেষ সেই ঘড়ি পরনে থাকা ব্যক্তি যদি নড়াচড়া না করেন, ঘড়ির স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নির্দেশে সাড়া না দেন, তা হলে আপৎকালীন বিভাগের কাছে ফোন চলে যায়। অথবা, আপৎকালীন সময়ের জন্য নির্বাচন করে রাখা নম্বরে (ইমার্জেন্সি কন্ট্যাক্ট) ফোন চলে যায়। মহম্মদের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়। স্মার্টওয়াচটি স্বয়ংক্রিয় ভাবে আপৎকালীন বিভাগে খবর দেয়।এর ফলেই প্রাণে বাঁচেন মহম্মদ।
আরও পড়ুন:
বর্তমানে তিনি ভাল আছেন। প্রাণের কোনও ঝুঁকি নেই। মহম্মদের ফুসফুসে কিছু স্থানে রক্ত জমাট বেঁধেছে। সেটির চিকিৎসা চলছে। মহম্মদ জানান, সে দিন সকাল থেকেই মহম্মদের শরীর খারাপ লাগছিল। বুকে ব্যথা করছিল এবং শ্বাসকষ্টও হচ্ছিল। কিন্তু সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেননি তিনি। পরে গিয়ে যে এমনটা হবে তা তিনি বুঝে উঠতে পারেননি। প্রাণে বাঁচার কৃতিত্ব মহম্মদ মেয়ের দেওয়া স্মার্টওয়াচকেই দিচ্ছেন।