মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবারই জানিয়ে দেন, গণপিটুনি, পুলিশকে মারধর, সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ঘটনায় কাউকে ছাড়া হবে না। ভিডিয়ো দেখে দু’শো জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে গণপিটুনি, পুলিশকে মারধর, সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে ২০ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে দু’জনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এঁদের বুধবার আদালতে তোলা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’জনের বিরুদ্ধে গণপিটুনি, ন’জনের বিরুদ্ধে পুলিশকে মারধর ও সাত জনের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি নষ্টের মামলা রুজু হয়েছে। গণপিটুনিতে অভিযুক্তদের ৯ দিন ও বাকিদের ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
মঙ্গলবার গভীর রাতে নির্যাতিতা বালিকার গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় হানা দেয় পুলিশ। ভিডিয়ো দেখে আগেই বেশ কয়েক জনকে শনাক্ত করা হয়েছিল। অভিযুক্তদের ধরতে গিয়ে তীব্র বাধার মুখে পড়তে হয় পুলিশকে। গ্রামের মহিলারা রুখে দাঁড়ান। তবে কয়েক ঘণ্টার অভিযানে ২০ জনকে ধরে পুলিশ। পুলিশ সূত্রের খবর, আগামী দিনে বাকি অভিযুক্তদেরও ধরা হবে।
এই ধরপাকড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আন্দোলন দমন করতেই পুলিশ অত্যাচার চালাচ্ছে। শুভেন্দুর ঘোষণার পরে রাতেই আলোচনায় বসেন গ্রামের মানুষ। বিনা দোষে পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে কী ভাবে আইনি পথে মোকাবিলা করা হবে, সেই পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু রাতেই অতর্কিতে পুলিশি অভিযানে দিশাহারা হয়ে পড়েন তাঁরা। ফের পুলিশি অভিযানের ভয়ে অনেকেই এলাকাছাড়া। এক স্থানীয়ের কথায়, “বাচ্চা মেয়ের বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিল মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী তাদেরই ধরার নির্দেশ দেন। আমরা আইনি পথে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তার মধ্যেই পুলিশ বহু গ্রামবাসীকে ধরেছে। ভয়ে অনেকে এলাকাছাড়া। আন্দোলন দমন করতেই পুলিশ এটা করছে।” গণপিটুনিতে মৃত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকেও নির্দোষ মানতে নারাজ আন্দোলনকারীদের একাংশ।