পূর্বনির্ধারিত সূচি মেনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে প্রাতরাশ সারলেন এনসিপিআই-এর সাংসদেরা। শুক্রবার সকালে এনডিএ-র অন্য সাংসদদের পাশাপাশি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারেরাও প্রধানমন্ত্রীর ৭, লোককল্যাণ মার্গের বাড়িতে যান। সেখানে মোদীর সঙ্গে আলাপচারিতা হয় তাঁদের। এই সাংসদদের বেশ কিছু পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, শুক্রবার অন্য এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়েছিলেন তিন ‘বেসুরো’ সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পঠানও।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে বেরিয়ে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের সাংসদ আবু তাহের বলেন, “আমরা পশ্চিমবঙ্গ তথা মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি। রাজ্যে সংখ্যালঘুরা বিভিন্ন ভাবে অত্যাচারিত হচ্ছে, বঞ্চিত হচ্ছে। ভারতের সর্বময় কর্তা প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই বিষয়ে আমরা জানিয়েছি।” প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাতরাশ-বৈঠকের পর সাংসদেরা জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের এলাকায় আরও বেশি কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। দিয়েছেন স্বাস্থ্যসচেতনতার পাঠও।
এনডিএ সাংসদদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদাররাও। ছবি: সংগৃহীত
গত কয়েক দিন ধরেই মুর্শিদাবাদের ওই তিন সংখ্যালঘু
সাংসদ জানাচ্ছিলেন যে, তাঁরা বিজেপি বা শাসকজোট এনডিএ-তে যোগ দিতে পারবেন না। গত মঙ্গলবার
দিল্লিতে এনডিএ সাংসদদের বৈঠকেও এই তিন জন গরহাজির ছিলেন। তার পরেই কালীঘাট
তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করতে পারেন বলেও জল্পনা ছড়ায়। সেই জল্পনা উস্কে শুক্রবারও কালীঘাট তৃণমূলের দিকে থাকা সাংসদ সৌগত রায় দাবি করেন যে, এনসিপিআই-তে থাকা কয়েক জন সাংসদ বিজেপির বিভাজনের রাজনীতিকে মেনে নিতে পারছেন না। এই আবহে বৃহস্পতিবার
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তৃণমূলত্যাগী ওই তিন
সাংসদ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনসিপিআই-এর আরও দুই সাংসদ শতাব্দী রায় এবং অসিত
মাল। শুক্রবার ওই তিন সাংসদ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনেও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকশেষে উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, উত্তর-পূর্ব এবং পূর্ব ভারতের উন্নয়নের উপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। চল্লিশোর্ধ্ব সাংসদদের শরীর ঠিক রাখতে যোগাসন করার পরামর্শও দেন। বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাদের সবার সঙ্গে খুব ভাল করে কথা বলেছেন, গল্প করেছেন। প্রত্যেককে সংসদীয় এলাকায় গিয়ে উন্নয়নের কাজ করতে বলেছেন। এটাও বলেছেন যে, যাঁদের ৪০-এর উপর বয়স, তাঁরা বছরে দু’বার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করাবেন, যোগাসন করবেন।” শতাব্দী জানান, প্রধানমন্ত্রী চা খেতে খেতে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন। হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বললেন আপনারা ভাল করে কাজ করুন। আমাদের লক্ষ্যই হল দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, দেশের জন্য কাজ করা।’’ শুক্রবার সকালে প্রথমে বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ বিনোদ তাওড়ের বাসভবনে যান এনসিপিআই সাংসদেরা। সেখান থেকে একটি বাসে চেপে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যান তাঁরা।
প্রাতরাশ বৈঠকে মোদীকে নিজেদের কেন্দ্রের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন সাংসদেরা। প্রধানমন্ত্রীকে গঙ্গাসাগর মেলায় আসার আমন্ত্রণ জানান মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেন, “নিশ্চয়ই চেষ্টা করব।”
প্রসঙ্গত, তৃণমূলত্যাগী এই ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিলেও এখনও তাঁদের আলাদা গোষ্ঠী হিসাবে স্বীকৃতি দেননি লোকসভার স্পিকার। ইতিমধ্যেই এই সাংসদদের সাংসদপদ খারিজের দাবি জানিয়ে স্পিকারের কাছে দরবার করেছে কালীঘাট তৃণমূল। মঙ্গলবার দিল্লির বঙ্গভবনে শুভেন্দু অধিকারী এবং ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে এনসিপিআই সাংসদদের বৈঠক হয়। বৈঠকশেষে সাংসদ সুদীপ জানিয়েছিলেন যে, এনসিপিআই-এর স্বীকৃতি নিয়ে কথা হয়েছে। সুদীপ দাবি করেন যে, ভূপেন্দ্র তাঁদের বলেছেন, তৃণমূলের প্রতীক সংক্রান্ত সমস্যা মিটলেই বিষয়টা সহজ হয়ে যাবে। ঋতব্রত-শিবিরের হাতে জোড়াফুল প্রতীকের মালিকানা গেলে, সুদীপরা দলত্যাগবিরোধী আইন এড়াতে ফের তৃণমূলেই ভিড়ে যাবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।