রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন ও ভাতা কাঠামো পর্যালোচনার লক্ষ্যে সপ্তম বেতন কমিশনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হল। এ বার রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের কাছে কর্মী, পদ, পরিষেবা এবং ক্যাডার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চাইল কমিশন। বুধবার কমিশনের সদস্য-সচিব দেবী প্রসাদ করণমের জারি করা নির্দেশিকায় এই তথ্য জমা দেওয়ার জন্য দফতরগুলিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালে কমিশনের প্রশ্নমালার উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে এই তথ্য জমা দিতে হবে।
অর্থ দফতরের ২২ জুলাই এবং ২৯ জুলাইয়ের দু’টি প্রস্তাবের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম বেতন কমিশন গঠিত হয়েছে। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বর্তমান বেতন ও ভাতা কাঠামো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে কমিশন। সেই কাজের জন্য বিভিন্ন দফতরের অধীন পদ, পরিষেবা, ক্যাডার এবং কর্মীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। পাশাপাশি, কমিশন গঠনের প্রস্তাবের ‘পার্ট এ’ এবং ‘পার্ট বি’-তে উল্লিখিত সংশ্লিষ্ট কর্মী ও সংস্থাগুলির তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। এই উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকারের সমস্ত দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, প্রধান সচিব এবং সচিবদের উদ্দেশে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের নোডাল আধিকারিককে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত পদ্ধতিতে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। কমিশনের নির্দিষ্ট পোর্টালে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, নোডাল আধিকারিকেরা নিজেদের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে পোর্টালে লগ ইন করতে পারবেন। তার পরে নির্ধারিত ছক অনুযায়ী তথ্য নথিভুক্ত করে জমা দিতে হবে। অর্থাৎ, সপ্তম বেতন কমিশনের পর্যালোচনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে দফতরভিত্তিক অনলাইন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন ও ভাতা কাঠামো পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এই তথ্য সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিভিন্ন দফতরে কত ধরনের পদ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট পরিষেবা ও ক্যাডারের বিন্যাস কী এবং কোন কোন কর্মী কমিশনের পর্যালোচনার আওতায় পড়ছেন, সেই সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতেই বর্তমান কাঠামো খতিয়ে দেখার কাজ এগোবে। তবে এই নির্দেশিকায় বেতন কতটা বাড়তে পারে, নতুন বেতন কাঠামো কবে থেকে কার্যকর হতে পারে কিংবা মহার্ঘ ভাতা-সহ অন্যান্য ভাতার ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আসতে পারে, সে সম্পর্কে কোনও নির্দিষ্ট ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সপ্তম বেতন কমিশন ঘিরে রাজ্য সরকারি কর্মীদের প্রত্যাশার মধ্যে আপাতত নজর তথ্য সংগ্রহের এই প্রক্রিয়ার দিকে। বিভিন্ন দফতর থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পরে কমিশন কী ভাবে পর্যালোচনার কাজ এগিয়ে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।
সরকারি কর্মচারী পরিষদের সভাপতি দেবাশিস শীল বলেন, ‘‘যতবার পে কমিশন হয়েছে, ততবারই পে কমিশন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের তথ্য ও নথি জানতে চাইবে। ষষ্ঠ বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন অভিরূপ সরকার। তখন আমরা তাঁর কাছে তিনবার ডেপুটেশন দিয়েছিলাম। শেষবার তাঁর কাছে বেনিফিশিয়ারি সংখ্যা জানতে চেয়েছিলাম। তিনি সাড়ে ন’লক্ষ বলে জানিয়েছিলেন। সেই ভাবেই সপ্তম পে কমিশনকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তবে সপ্তম পে কমিশনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই যে, এখানে বিষয়ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট ভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। যেটা সরকারি কর্মচারীদের জন্য খুব ভাল বিষয়। কারণ এর আগে পাঁচটি বেতন কমিশন দেখার নিরিখে আমরা বলতে পারি।’’ অন্য দিকে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘সপ্তম বেতন কমিশন আজ সব দফতরকে চিঠি দিয়ে বলেছে প্রতিটি দপ্তর যাতে তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন কর্মীদের যাবতীয় প্রয়োজনীয় তথ্য বেতন কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এই যে, সেই তথ্য কবের মধ্যে পাঠাতে হবে তা কিন্তু বলেনি। আমরা মনে করি একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া উচিত ছিল। তা না হলে তো দফতরগুলো ইচ্ছাকৃত ভাবে তথ্য পাঠাতে গড়িমসি করবে। তার ফলে বেতন কমিশনের সুপারিশ বলবৎ হতে দেরি হবে।’’