প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আলি ইমরান রাম্জের (ভিক্টর) বহিষ্কারের ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হল। দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সামনে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগ না-দিয়েই তাঁকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে বলে সরব হলেন তরুণ নেতা। আর বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও ভিক্টরকে শুনানিতে ডেকে বক্তব্য শোনার আর্জি জানিয়ে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান দেবপ্রসাদ (মিঠু) রায়কে চিঠি দিলেন কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরী।
চাকুলিয়া থেকে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রাক্তন বিধায়ক ভিক্টর কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রদেশ সভাপতি অধীরের হাত ধরেই। প্রদেশ কংগ্রেসে জমানা বদলের পরে তিনি ক্রমশ ‘ব্রাত্য’ হয়েছেন। এখন একই সঙ্গে কারণ দর্শানোর ( শো-কজ়) ও নিলম্বন (সাসপেনশন) এবং তার পরে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পিছনে ‘গভীর চক্রান্ত’ আছে বলেই ভিক্টরের অভিযোগ। সূত্রের খবর, এমতাবস্থায় শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে অধীর বলেছেন, তরুণ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত যে ভাবে হয়েছে, তার পর্যালোচনা হওয়া উচিত। তাঁর মতে, ‘স্বাভাবিক ন্যায়বিচারে’র নীতির সঙ্গে এই প্রক্রিয়া সঙ্গতিপূর্ণ হয়নি। ভিক্টরকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে, আবার প্রদেশ কংগ্রেসেরই সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট মারফত তাঁকে নিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই যা ঘটেছে, তা বিবেচনা করে দেখার অনুরোধ করেছেন অধীর। সেই সঙ্গেই কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে তাঁর আর্জি, ভিক্টরকে ডেকে তাঁর বক্তব্য শোনা হোক। কমিটি কি পর্যালোচনার পথে যাবে? এই প্রশ্নে মঙ্গলবার প্রাক্তন সাংসদ-বিধায়ক ও কমিটির চেয়ারম্যান দেবপ্রসাদ বলেছেন, ‘‘চিঠি পেয়েছি। কমিটির বাকি সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তার আগে কিছু বলা সঙ্গত হবে না।’’ আর অধীরের বক্তব্য, ‘‘দলের অভ্যন্তরের বিষয় এই ভাবে বাইরে প্রকাশ হয়ে গিয়েছে! পরিস্থিতি বিবেচনা ও অভিযুক্তের বক্তব্য শোনার জন্য কমিটির চেয়ারম্যানের কাছে আর্জি জানিয়েছি।’’
প্রদেশ কংগ্রেস সোমবার ভিক্টরের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। তার পরে ভিক্টরও এ দিন বলেছেন, শো-কজ় এবং নিলম্বনের চিঠি তাঁর কাছে আসার আগে সমাজমাধ্যমে চাউর হয়ে গিয়েছিল। তিনি জবাবি চিঠি দেওয়ার পরেও তাঁকে ডেকে বক্তব্য শোনা হয়নি। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রশ্নে বামেদের সঙ্গে জোট করার পক্ষে দলের বৈঠকে তিনি যে সওয়াল করেছিলেন এবং প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব একা লড়ার সিদ্ধান্তেই অনড় ছিলেন, সেই কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন চাকুলিয়ার প্রাক্তন বিধায়ক। সেই সঙ্গেই তাঁর অভিযোগ, ‘‘যে দিশাহীন ভাবে রাজ্য কংগ্রেস চলছে, তাতে বিজেপির মতো সংগঠিত শক্তির মোকাবিলা অত্যন্ত কঠিন। এই নির্বাচনে কংগ্রেস যে ২% ভোট পেয়েছে, তার ৯৫%-ই মুসলিম ভোট। অথচ দলের দায়িত্বশীল মুসলিম নেতৃত্বকে ঠিক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। হয় বহিষ্কার, অথবা অবজ্ঞা করা হচ্ছে!’’ রাহুল গান্ধীর পথে বিজেপি-বিরোধিতার রাজনীতিতেই থাকবেন বলে জানিয়েছেন ভিক্টর।