E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

আরও ১০০০ কোটির বিনিয়োগ জুড়ছে আমূল

মেহতার দাবি, সাঁকরাইলের জমি বহু আগেই মিলেছিল। কিন্তু প্রকল্প হয়নি। এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে। দু’বছরের মধ্যে শেষ হবে। তার পরে দু’টি আইসক্রিম কারখানার কাজ শুরু হবে।

অঙ্কুর সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ ০৮:০৭
আমূলের প্রকল্পের ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার।

আমূলের প্রকল্পের ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার। ছবি: দেবস্মিতা ভট্টাচার্য।

রাজ্যে আমূলের মোট লগ্নির অঙ্ক ছুঁতে চলেছে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা। ৭০০ কোটি খরচে বিশ্বের বৃহত্তম দই কারখানার ভূমিপুজোর দিনই বাংলায় তাদের আরও ১০০০ কোটি ঢালার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। রবিবার সাঁকরাইলে দই কারখানার যাত্রা শুরু উপলক্ষে নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারের অনুষ্ঠান মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ছিলেন মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। শাহের অনুরোধে সেই মঞ্চ থেকেই শুভেন্দু জানান, উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গে ১৫ একর করে দু’টি জমি আমূলকে আইসক্রিম কারখানা গড়তে দেওয়া হবে। পরে আমূলের সংস্থা ‘গুজরাত কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন’-এর এমডি জয়েন মেহতার বার্তা, আইসক্রিমে কমপক্ষে আরও ১০০০ কোটি টাকা লগ্নির সম্ভাবনা। কারখানা দু’টি সম্পূর্ণ হলে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে তাঁদের আইসক্রিম যাবে বাংলা থেকেই। গুজরাতের পর আমূল বাংলাকেই হাব করছে। সময় লাগবে বছর পাঁচেক।

মেহতার দাবি, সাঁকরাইলের জমি বহু আগেই মিলেছিল। কিন্তু প্রকল্প হয়নি। এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে। দু’বছরের মধ্যে শেষ হবে। তার পরে দু’টি আইসক্রিম কারখানার কাজ শুরু হবে। ২০৩১-এর মধ‍্যে সেগুলি তৈরির পরে গোটা পূর্ব ও উত্তর-পূর্বে আমূলের ব‍্যবসার মূল কেন্দ্র হবে পশ্চিমবঙ্গ। বাংলায় গুজরাতের অন‍্যতম বৃহৎ সংস্থার এই লগ্নি রাজ‍্যের শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ, মানছে শিল্প মহল।

আমূলের প্রকল্প নিয়ে এ দিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধেওছেন শাহ এবং শুভেন্দু। শাহ বলেন, “অতীতে আমূলের জন্য এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার পরে উনি বলেছিলেন বাংলাকে গুজরাত হতে দেব না। অথচ এটা বাংলার জন‍্য, এ রাজ‍্যের পশুপালকদের জন্য জরুরি। এখন সরকারের পরিবর্তন দেখুন— আমি শুভেন্দুজীকে বলেছি জমি দেওয়ার কথা, তিনি সঙ্গে সঙ্গেই বিনামূল‍্যে আমূলকে ১৫ একর করে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। এতে ২.৫ লক্ষ দুধ উৎপাদক বেশি রোজগারের সুযোগ পাবেন।’’ শুভেন্দুর তোপ, “কারা যেন বলত, বাংলাকে গুজরাত হতে দেব না। তাঁরা আজ ঘরে বসে টিভিতে দেখছেন, আমূল ৭০০ কোটি টাকা ঢালছে পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির জন্য। বাংলার মিষ্টি দই আমূলের হাত ধরেই দেশের প্রতিটি কোণায় ছড়াবে।” তাঁর দাবি, ২০২০-তেই আগের সরকারের কাছে জমি চায় আমূল। তারা কান দেয়নি।

এ দিন মেহতা জানান, সাঁকরাইলে হাজার খানেক প্রত‍্যক্ষ কর্মসংস্থান হবে। উপকৃত হবেন প্রায় ১.৫ লক্ষ মানুষ। দুধ সংগ্রহে রাজ‍্যের মোট ৩.৫ হাজার গ্রাম পঞ্চায়েতেই যাওয়া হবে। শাহের বার্তা, কৃষক এবং পশুপালকদের জন্য কেন্দ্রের প্রকল্পগুলিও ছ’মাসের মধ্যে বাংলায় চালু করা হবে। আমূলের মতো সমবায় সংস্থার হাত ধরে এখানকার কৃষি এবং পশুপালন ব্যবস্থা বদলের যে দায়িত্ব বর্তমান রাজ‍্য সরকার হাতে নিয়েছে, তা এ রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থাকে পোক্ত এবং চাঙ্গা করবে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Amul WB Government

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy