পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পরে বিজেপির ‘তৃণমূলীকরণ’ হতে দেবেন না বলে বার বার বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু তার পরেও শাসক দলে ‘তৃণমূলীকরণের প্রত্যক্ষ উদাহরণ’ যেমন দেখা যাচ্ছে, তেমনই তোলাবাজি-সহ নানা অনিয়মেও নাম জড়িয়েছে বিজেপি নেতাদের একাংশের। এই পরিস্থিতিতে যদি ২% ভোটারও তৃণমূলের থেকে বর্তমান শাসক দলের ফারাক না-দেখতে পান, তা হলে বিজেপির ভোটে ভাঙন ধরতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) বাংলা মুখপত্রে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে।
বিজেপি নেতৃত্ব দলের দরজা ‘বন্ধ’ ঘোষণার পরেও তিন জন তৃণমূল সাংসদ পদত্যাগ করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফের বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় মনোনীত হয়েছেন। দিল্লিতে এনসিপিআই এবং রাজ্যে ‘ভাল তৃণমূলে’র সঙ্গে বিজেপির ‘সখ্য’ও চর্চার বিষয়। পাশাপাশি, তৃণমূলের বিরুদ্ধে ১৫ বছর ধরে ওঠা নানা অভিযোগে এ বার বিজেপির জনপ্রতিনিধি, সাংগঠনিক নেতা-সহ একাংশের নাম জড়ানোর ঘটনাও সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ শিবিরে জেলা-স্তরে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব অনিয়ম বন্ধে কড়া বার্তা দিচ্ছেন। কারণ দর্শানোর চিঠি ধরানো বা নিলম্বিত করা হয়েছে ২০০-রও বেশি নেতা-কর্মীকে।
এই আবহে ‘যারে তুমি পিছে ফেল’ শীর্ষক ওই প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ‘... আগের তিনটি জমানা— কংগ্রেস, বাম আর তস্কর। আর তাতেই সৃষ্টি হয়েছে এ যুগের কিছু অসুর। এই ৫ শতাংশকে নিয়েই এ রাজ্যের বিজেপির মূল শিরঃপীড়া।... সমস্যাটা গভীরে— ভোটার আর জনগণকে নিয়ে। যদি ২% মানুষ বা ভোটারের ধারণা হয় যে, বিজেপি ১৫ বছর ধরে রাজ্যে চলা তস্কর দলের অন্য পিঠ ভিন্ন কিছু নয়, তাতে ৯০% ভোটার বিজেপি থেকে সরে যেতে দ্বিধা করবে না’।
সামনে পুর-ভোট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে আশঙ্কা করেই সঙ্ঘের মুখপত্রে প্রবন্ধটি ছাপা হয়েছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
যদিও সঙ্ঘের পূর্ব ক্ষেত্র প্রচার প্রমুখ জিষ্ণু বসু বলেছেন, “আমি কলকাতায় ছিলাম না। লেখাটা পড়িনি। লেখকের সঙ্গেও কথা হয়নি। ফলে আমি এই নিয়ে কিছু বলতে পারব না।” রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের দাবি, “প্রবন্ধের তলায় লেখা, লেখকের ব্যক্তিগত মত। এই লেখার বিষয়ে লেখকই বলতে পারবেন। লেখার যে অংশ নিয়ে চর্চা, তা স্বতঃসিদ্ধ। এই নিয়ে নতুন করে গবেষণার প্রয়োজন নেই।”
তবে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের দাবি, সঙ্ঘের মুখপত্রে এই প্রবন্ধ প্রকাশের অর্থ, লেখার বিষয়বস্তুতে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর পরিচালকদের অনুমোদন রয়েছে। রাজ্য বিজেপির এক আদি নেতাও বলছেন, “সঙ্ঘের নিবিড় অবদান ছাড়া বিধানসভা ভোটে দলের জয় অধরা থাকত। এখন পাড়ায়-পাড়ায় নেতারা বলছেন, সঙ্ঘ নয়, তাঁদের সংগঠনের জোরে বিজেপি জিতেছে। নিচু তলায় বিজেপির সংগঠনের অবস্থা সবাই জানেন।” তাঁর আরও বক্তব্য, “সামনেই পুর-ভোট। শুভানুধ্যায়ী হিসেবে সঙ্ঘ সাবধান করেছে। শুধরে না-গেলে আর স্বপ্নে পোলাও রান্না করলে নির্বাচনে ফল ভুগতে হবে!”