বৃষ্টি, আচমকা নদীর জল বেড়ে যাওয়া, ধসে বৃহস্পতিবার থেকে নাজেহাল উত্তরবঙ্গ। দুর্যোগে ছিঁড়ে পড়া তার ডুবে ছিল বৃষ্টির জলে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে এক গৃহশিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। ধসের কারণে বৃহস্পতিবার থেকে পাহাড়ি পথে টয় ট্রেন চলাচল বন্ধ। শুক্রবারেও বাতিল হয় নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিংগামী টয় ট্রেন।
বৃহস্পতিবার রাতে টিউশন সেরে মোটরবাইকে বাড়ি ফিরছিলেন ধূপগুড়ির মাগুরমারির বাসিন্দা, গৃহশিক্ষক রাজেন্দ্র মাহাতো (৩৬)। রাস্তা ছিল জলমগ্ন। তাঁর মোটরবাইকের চাকা বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে যায়। স্থানীয়েরা ট্রান্সফরমার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগেই মৃত্যু হয় তাঁর। বিদ্যুৎ দফতরের প্রতিনিধি না আসা পর্যন্ত মৃতদেহ উদ্ধারে বাধা দেওয়া হয়। পুলিশ এবং বিদ্যুৎ দফতরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মৃতের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং এলাকার বিদ্যুৎ-পরিকাঠামো সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হলে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
তিস্তা নদীর জল ঢুকে জলপাইগুড়ির ক্রান্তি ব্লকের চাঁপাডাঙ্গা এলাকা জলমগ্ন। বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন দুর্গতরা। তিস্তার বিপজ্জনক এলাকাগুলি চিহ্নিত করে মেরামতি শুরু করেছে সেচ দফতর।
বরদাং এলাকায় ধস নামায় সিকিমের মঙ্গন থেকে একাধিক রাস্তা বন্ধ। শিলিগুড়ি থেকে সিকিমগামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের সিকিমের অংশে ২০ মাইলের রাস্তাও বন্ধ। ভুটানে বৃষ্টির জেরে এ দিন আচমকা হলং নদীর জল বেড়েযাওয়ায় মাদারিহাটে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে যাতায়াত। সমস্যায় পড়েন পর্যটকেরা। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গে আপাতত কয়েক দিন দুর্যোগ চলবে। চলবে নিম্নচাপের বৃষ্টি।