অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ফের অভিযোগ দায়ের হল ডায়মন্ড হারবারে। করোনাকালে মানুষের কোভিড পরীক্ষার নামে ডায়মন্ড হারবারে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)-এর দাবি, সাংসদ অভিষেকের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে ওই কোভিড পরীক্ষার কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছিল। এ নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।
অভিষেকের তত্ত্বাবধানে ডায়মন্ড হারবারে সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবির ঘিরে আগেই বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তা নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এফআইআর হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরও অনুসন্ধান শুরু করেছে। এরই মধ্যে অভিষেকের সংসদীয় এলাকায় করোনার পরীক্ষাশিবির ঘিরেও অভিযোগ উঠে এল।
অভিযোগপত্রে বিজেপি নেতা লিখেছেন, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ‘মেগা কোভিড-১৯ টেস্টিং ড্রাইভ’-এর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ওই কর্মসূচির জন্য জিনিসপত্র কেনাকাটা, সরকারি সম্পত্তির ব্যবহার-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত এবং আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। পুলিশের কাছে অভিজিতের আর্জি, এই ঘটনায় এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু করা হোক।
বিভিন্ন নথিপত্রের ভিত্তিতে অভিজিতের দাবি, ওই কর্মসূচির মাধ্যমে ডায়মন্ড হারবারে ২৬০টি পরীক্ষাকেন্দ্র, ২৩টি ভ্রাম্যমাণ ইউনিট এবং ৩০টি কিয়স্ক মিলিয়ে এক দিনে মোট ৫৩,২০৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল। অথচ সেই সময়ে গোটা রাজ্যে দৈনিক নমুনা পরীক্ষার গড় ছিল ৬৫-৭০ হাজারের মধ্যে। এই পরিসংখ্যান তদন্ত করে দেখা দরকার বলে মনে করছেন বিজেপি নেতা। এই সংক্রান্ত নথিপত্র যাতে খতিয়ে দেখা হয়, পুলিশকে সেই অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বিজেপি নেতার দাবি, যে ৫৩,২০৩টি ডায়াগনস্টিক কিট ব্যবহার হয়েছিল, তা বিধিবদ্ধ নিয়ম মেনে সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় আনা উচিত বলে মত অভিজিতের।
আরও পড়ুন:
থানায় অভিযোগ দায়েরের পরে বিজেপি নেতা বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ডায়মন্ড হারবার মডেলের নামে এখানকার লোকের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি সারা বিশ্বকে উনি চাউর করেন, উনি নাকি এক দিনে ৫৫ হাজার করোনা টেস্ট করিয়েছেন। তা নিয়ে টুইট করেন, ফেসবুকেও দেন। প্রচার করেন। উনি যে ৫৩ হাজার পরীক্ষা করালেন, এত কিট উনি কোথা থেকে পেলেন?”
পুলিশের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে মূল অভিযুক্ত হিসেবে অভিষেকের নাম উল্লেখ করেছেন অভিজিৎ। পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৎকালীন জেলাশাসক, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার তৎকালীন সুপার-সহ ২৬ জনের ভূমিকাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন বিজেপি নেতা।
অন্য দিকে, বিদেশে যাওয়ার জন্য অভিষেকের দেওয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিয়ে প্রশ্ন তুলে মেডিক্যাল কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করেছেন বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার। এর আগে অভিষেকের বিরুদ্ধে থানায় গিয়েছিলেন তিনি। ডিজে মন্তব্যের কারণে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বিরুদ্ধে বিধাননগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন রাজীব। এ বার তিনি মেডিক্যাল কাউন্সিলের দ্বারস্থ হলেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘বিদেশে চিকিৎসার জন্য হাই কোর্টে ৩০০ পাতার নথি জমা করেছেন অভিষেক। তার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নথিতে চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং ঠিকানা নেই, যা সন্দেহজনক। বিষয়টি তদন্ত করে দেখুক মেডিক্যাল কাউন্সিল।’’