রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে আবার গ্রেফতার হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির তিন জন। পুলিশের দাবি, পুরনো মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। ওই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর দাবি, বেছে বেছে তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের ধরা হচ্ছে বিজেপির কথায়। অন্য দিকে, নন্দীগ্রামে নির্বাচনী প্রচারের সময় কংগ্রেসের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। কড়া নিন্দা করেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। হাতশিবিরের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পদ্মশিবির।
রেজিনগরে সোমবার গ্রেফতার হয়েছেন আনারুল হক, রমেশ শেখ এবং নুরুল হক নামে তিন ব্যক্তি। পুলিশ সূত্রে খবর, ভিন্ন ভিন্ন মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। শক্তিপুর এলাকা থেকে তিন জনকে ধরা হয়েছে। সকলকেই আদালতে হাজির করানো হবে। হুমায়ুনের মন্তব্য, ‘‘ভোটের আর আট দিন বাকি। রেজিনগরে আমার জেতা আসন যেনতেন ভাবে নিতে মরিয়া বিজেপি। তাই পুলিশকে দিয়ে কর্মী, সহযোগীদের বেছে বেছে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভুয়ো মামলা দেওয়া হচ্ছে।’’ তিনি জানান, ধৃত তিন জনই তাঁর ঘনিষ্ঠ এবং বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগরে হয় বুথ এজেন্ট নয়তো বুথের দায়িত্বে ছিলেন তাঁরা। উপনির্বাচনেও তাঁদের উপর ভরসা করেছেন তিনি। তাই পুলিশকে দিয়ে এই কাজ করাচ্ছে বিজেপি। বলা বাহুল্য অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছে পদ্মশিবির।
গত কয়েক দিনে হুমায়ুনের দলের বেশ কয়েক জন নেতা এবং কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা। কর্মীদের ধরপাকড় এড়াতে মাঠে-ময়দানে রাজনৈতিক সভা না-করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। অন্য দিকে, ভোটপ্রচারের সময় নানবিধ বিতর্কে জড়িয়েছেন হুমায়ুন নিজেও। রবিবারই মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর হয়েছে বহরমপুর থানায়।
আরও পড়ুন:
রাজনৈতিক চাপানউতর অব্যাহত ভোটমুখী নন্দীগ্রামেও। সেখানে মমতা তৃণমূলের প্রার্থী নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী জেলবন্দি। এই অবস্থায় সোমবার দুপুরে নন্দীগ্রামের ইন্দিরা মোড়ের কাছে কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে ট্যাবলো প্রচার করছিলেন তাঁর দলের কর্মীরা। অভিযোগ, বিনা প্ররোচনায় আচমকা সেখানে হামলা চালানো হয়েছে। ভেঙে দেওয়া হয় গাড়ির কাচ। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের নির্বাচনী এজেন্ট সুব্রত মহাপাত্রের অভিযোগ, ‘‘এটা বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের কাজ। কিন্তু এ ভাবে কংগ্রেসকে ভয় দেখিয়ে থামানো যাবে না। আমাদের আন্দোলন জারি থাকবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে শাসকদল এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। মানুষ দেখছেন।’’ পাল্টা নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের নির্বাচনী এজেন্ট মেঘনাদ পাল বলেন, ‘‘বিজেপির এমন দুরবস্থা হয়নি যে কংগ্রেসের প্রচারগাড়িতে আক্রমণ করতে যাবে।’’ তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ৭৯৩টি ভোট পেয়েছিল ওরা। এখন সকলের নজরে আসার জন্য নানা কাণ্ডকারখানা ঘটিয়ে চলেছে। হাস্যকর।’’