ঘরছাড়া তৃণমূল নেতা সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেছেন, খবর ছড়িয়েছিল এলাকায়। রাতে তাঁর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠল পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে, লাঠি চালায় বলে অভিযোগ। দুর্গাপুরের ডিপিএল কলোনিতে ঘণ্টা তিনেক অশান্তির পরে, পুলিশ ওই নেতাকে থানায় নিয়ে গেলে বিক্ষোভ থামে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, শহরের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল পুরপ্রতিনিধি শশাঙ্কশেখর মণ্ডল বিধানসভা ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকে এলাকায় ছিলেন না। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি ডিপিএল কলোনির দোতলার কোয়ার্টার্সে ফিরেছেন বলে খবর ছড়ায়। রাত ১০টা থেকে সেখানে জড়ো হন অনেকে। অভিযোগ, কয়েক জন কোয়ার্টার্সে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করেন। গ্যাস সিলিন্ডার-সহ নানা জিনিস দোতলা থেকে নীচে ফেলা হয়। পুলিশ জনতাকে নিরস্ত করার চেষ্টা করলেও, ফল হয়নি। পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধ বাধে। পুলিশের লাঠির ঘায়ে দুই মহিলা-সহ বেশ কয়েক জন জখম হন বলে অভিযোগ। যদিও পুলিশ লাঠি চালানোর কথা মানেনি।
দুর্গাপুরের তৃণমূল নেতা পঙ্কজ রায় সরকারের দাবি, “অনেকে বলছেন, রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে তা মনে হচ্ছে না!” স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশের দাবি, তৃণমূল আমলে দুর্নীতি ও অত্যাচার করেছেন শশাঙ্ক। এখন বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে যোগসাজস করে এলাকায় ফিরেছেন। এলাকাবাসী তাই ক্ষুব্ধ। এলাকার বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের বক্তব্য, “ওই প্রাক্তন তৃণমূল পুরপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে যাঁর, যা অভিযোগ আছে, থানায় জানান। পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। বাড়িতে হামলা করা ঠিক নয়।” শশাঙ্ক ফোন ধরেননি। জবাব মেলেনি মোবাইল-বার্তার।