রাজ্যের মন্ত্রী বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের নেতাদের একাংশ প্রকাশ্যে যতই নিন্দা করুন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বামপন্থীদের বইয়ের স্টলে হামলা, ভাঙচুর, আগুন লাগানোর খবর আসায় বিরাম নেই। সব ক্ষেত্রেই অভিযোগের আঙুল গেরুয়া শিবিরের লোকজনের বিরুদ্ধে উঠেছে। তবে বিজেপির দাবি, এ সবে তাদের কেউ জড়িত নয়। পুলিশে অভিযোগ হলেও, ধরপাকড়ের খবর নেই।
রবিবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে সিপিএমের বইবিপণিতে ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ ওঠে। দলের এরিয়া সম্পাদক মৃণাল মজুমদারের অভিযোগ, বিজেপি-আরএসএসের লোকজন লাঠি-বাঁশ হাতে স্টল ঘিরে ফেলে গালিগালাজ করতে থাকে। চলে ভাঙচুর, মারধর। মৃণাল ছাড়াও জখম হন তুহিন রায়, মেঘলা ভট্টাচার্য, সাথী দাস, তন্ময় দে। দু’জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
হুগলির সিঙ্গুর, হরিপাল ও হিন্দমোটরে সিপিএমের স্টলেও রবিবার রাতে ভাঙচুর হয়েছে। নালিকূলে ভাঙা হয় পার্টি অফিস। সিপিএমের অভিযোগ, হরিপালে বিজেপির মারে তাদের এক জনের মাথা ফাটে। ছ’জন জখম। দলের জেলা সম্পাদক দেবব্রত ঘোষ বলেন, “পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি।” সিঙ্গুরের বিজেপি বিধায়ক অরূপ দাসের অবশ্য দাবি, “অনেক ক্ষেত্রে ওঁরা নিজেরাই স্টল ভেঙে দোষারোপের রাজনীতি করছেন।”
নদিয়ায় শান্তিপুরের ফুলিয়া রঙ্গমঞ্চের কাছে রাতে সিপিএমের বইয়ের স্টলে ভাঙচুর করে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগানো হয়। সিপিএম কর্মীরা পৌঁছলে দুষ্কৃতীরা পালায়। কল্যাণীর বি-৩ এবং সেন্ট্রাল পার্ক এলাকাতেও সিপিএমের দু’টি বুক স্টলে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর চেষ্টা হয়। সোমবার রাতে কৃষ্ণনগরে বজরং দলের বিরুদ্ধে সিপিএমের বইয়ের স্টল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পূর্ব মেদিনীপুরে হলদিয়া টাউনশিপ ও ক্ষুদিরাম নগরেও তাদের স্টল ভাঙা হয়েছে। শনিবার রাতে পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহিষমর্দিনীতলায় সিপিএমের স্টলে ফ্লেক্স ও ফেস্টুন ছেঁড়ার প্রতিবাদে রবিবার বই হাতে মিছিল করা হয়।
কল্যাণী সেন্ট্রাল পার্কের কাছে এসইউসিআইয়ের স্টলেও ভাঙচুর হয়। চাপড়া বাসস্ট্যান্ডে তাদের স্টলে হামলা হয়েছে। অভিযোগ, বাধা দিতে গেলে হামলাকারীদের মারে এক এসইউসিআই কর্মীর মাথা ফাটে। রবিবার রাতে কোচবিহারের মাথাভাঙার থানাপাড়াতেও বিজেপি কর্মীরা তাদের স্টলে এসে বইপত্র ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেয় এবং কর্মীদের মারধর করে বলে অভিযোগ। এসইউসিআই রাজ্য নেতৃত্বের অভিযোগ, হলদিয়া টাউনশিপ ও পাঁশকুড়ার হাউর ছাড়াও, আরামবাগ, নীলকুঠিডাঙা, বাগনানে তাদের বইয়ের স্টল ভাঙা হয়েছে।
তবে হামলা প্রসঙ্গে রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের বক্তব্য, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বামেরা বিজেপি-আরএসএসের বদনাম করার চেষ্টা করছে। দেখতে হবে, যারা কাজটা করেছে তারা নেশাগ্রস্ত ছিল কি না। এ সবের সঙ্গে আমাদের যোগ নেই।”