গুজরাতের ইলিশ আর আমদানি করবে না বাংলাদেশ। সেই আমদানির উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তারেক রহমানের সরকার। সূত্রের খবর, পুজোর সময় ‘উপহার’ হিসেবে যে ইলিশ এ রাজ্যে পাঠায় ঢাকা, এ বছর তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। আবেদন জানানো হলেও এখনও তা নিয়ে ছাড়পত্র দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। এ দেশে মাছ আমদানিকারক সংগঠন মনে করছেন, গুজরাতের ডিমভরা ইলিশ সে দেশে রফতানি করাই ‘কাল’ হয়েছে।
পার্বণ হোক বা অনুষ্ঠান, পাতে ইলিশ না পড়লে বাঙালির মন ভরে না। উষ্ণায়ন-সহ বিভিন্ন কারণে ইলিশ ধরার পরিমাণ কমছে। এমনকি, যে দেশ সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরে, সেই বাংলাদেশেও টান পড়েছে রুপোলি শস্যের ভান্ডারে। ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ইলিশই তারা ধরে। এ বছর বাংলাদেশেও ইলিশ কম উঠেছে। সেই ঘাটতি মেটাতে চলতি বছর প্রায় ৫৫০ মেট্রিক গুজরাতের ইলিশ আমদানি করেছে তারা। সেই আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাংলাদেশ সরকার। এখানেই শেষ নয়, পদ্মার ইলিশ এ দেশে পাঠানোর ছাড়পত্র এখনও মেলেনি। তাই পুজোর আগে এ রাজ্যের বাঙালির পাতে পদ্মার ইলিশ পড়ার সম্ভাবনা কম।
ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানিয়েছেন, মাছ আমদানি করার অনুমতি চেয়ে গত অগস্টে চিঠি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। প্রতিনিধি দল নিয়ে সে দেশে গিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রকের সঙ্গে কথাও বলে এসেছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা বলেছিলাম, আগাম অনুমতি দেবেন (মাছ পাঠানোর)। সময়সীমা বেঁধে দেবেন না, যাতে বেশি মাছ আনতে পারি। সব বেকার হল।’’
২০১১ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার জলচুক্তি ‘ভেস্তে’ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরের বছরই ১ অগস্ট সব রকম মাছ রফতানির উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বাংলাদেশ। যুক্তি ছিল, দেশে পর্যাপ্ত মাছের অভাব রয়েছে। ২০১১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর অন্য মাছে নিষেধাজ্ঞা উঠলেও, ইলিশে তা থেকেই যায়। তার পর পদ্মা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। ইলিশ রফতানির নিয়ম কখনও আলগা হয়েছে, কখনও জাঁকিয়ে বসেছে। ২০১৯ সাল থেকে শুধু দুর্গাপুজোর ‘উপহার’ হিসেবে কিছু ইলিশ পাঠায় বাংলাদেশ। অতিমারির পর থেকে সেই পরিমাণ আরও কমেছে।
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পরেও ওই দেশের অন্তর্বর্তী সরকার একই ভাবে ইলিশ রফতানি বজায় রেখেছিল। গত বছর ১২০০ টন ইলিশ রফতানিতে ছাড়পত্র দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। এসেছিল ১৪৩.৮০ টন। তার আগের দু’বছর ৬০০ টনের কম। কিন্তু এ বছর সেটুকুও আসবে না বলে আশঙ্কা মকসুদের। তিনি জানিয়েছেন, সাত বছরের চেষ্টা অসফল।
আরও পড়ুন:
কিন্তু কেন এমন হল? মকসুদের মতে, প্রতিবেশী দেশের এই সিদ্ধান্ত ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। নেপথ্যে থাকতে পারে গুজরাত থেকে ইলিশ আমদানির বিষয়টি। সূত্রের খবর, দু’বছর ধরে গুজরাতের ইলিশ পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশে। তারা যে ইমপোর্ট পারমিট ইস্যু করেছিল, তা বাতিল করেছে। কোন কারণে তা তাদের তরফে জানানো হয়নি। মকসুদ বলেন, ‘‘গর্বের বিষয় ছিল। যে দেশ থেকে ইলিশ আনি, সেখানে পাঠাচ্ছি। তবে এই সিদ্ধান্ত (পারমিট বাতিল) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’’ তাঁর মতে, ‘‘টাগ অফ ওয়ার (দড়ি টানাটানি)। ওদের দেশে যে পাঠালাম, মনে হয়, সে জন্য ওরা আর ইলিশ পাঠাবে না।’’ আগামী ৮ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ সরকার সমুদ্রে ইলিশ মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।