পুজোয় ভারত ও বাংলাদেশের ‘ইলিশ-সৌহার্দে’ কি এ বার ফাটল ধরছে! অর্থাৎ ঢাকার পাঠানো পদ্মার ইলিশের বচ্ছরকার শারদ-উপহার থেকে বঞ্চিত থাকতে চলেছে এ পারের বাঙালি?
সেপ্টেম্বরের এই শেষ পর্বে প্রতি বারের মতো পুজোর ইলিশ সম্ভার নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ঘোষণা করেনি ঢাকা। বাংলাদেশের কূটনৈতিক মহল এবং এ পারের মাছ আমদানিকারী মহলের সূত্রে খবর, এখনও যা পরিস্থিতি ঢাকার তরফে ইলিশ উপহার পাঠানোর বার্তা আসার সম্ভাবনা আপাতত নেই। ঢাকার এক আধিকারিকের সূত্রে দাবি, “এ বছর বাংলাদেশেও ইলিশের ফলন অনেকটাই কম। তবু কূটনীতি বা সৌহার্দের বার্তা হিসেবে অল্প কিছু ইলিশ ভারতে বা পশ্চিমবঙ্গে হয়তো পাঠানো যেত। কিন্তু ঢাকা এ বার তাতে জোর দেয়নি।”
এ পারে ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি তথা হাওড়া পাইকারি মাছ বাজারের সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, ‘‘মহালয়ার দিন চারেক আগে ৬ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে ২০ দিনের জন্য ইলিশ ধরা বন্ধই হয়ে যাবে। পুজোয় বাঙালির পাতে ইলিশ পৌঁছে দিতে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হত। আর বিশেষ আশা দেখছি না।” গত দু’মাসে শুরু হওয়া পশ্চিমবঙ্গ থেকে গুজরাতের ইলিশ বাংলাদেশে আমদানিও বন্ধ করার নির্দেশদিয়েছে ঢাকা।
গত অগস্টে ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মহম্মদ আতাউর রহমান খানের সঙ্গে দেখা করে ইলিশ রফতানির নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলতে অনুরোধ করেছিলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিদেশমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের সচিব ও ঢাকার বণিকসভার প্রতিনিধিদেরও তাঁরা চিঠি লেখেন বলে আনোয়ার জানান। ইতিমধ্যে গুজরাতের ইলিশ বাংলাদেশে পাঠাতেও তৎপর হয়েছিলেন এ পারের মাছ কারবারিরা। আনোয়ার বলেন, “বাংলাদেশে ইলিশের ডিম এবং নোনা ইলিশের মাছের সংস্থানে গুজরাতের ইলিশ কাজে আসছিল। কিন্তু বাংলাদেশের বিভিন্ন মাছ আমদানিকারী সংস্থার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রত্যাহার করে নিয়েছে ঢাকা।”
২০১২য় শেখ হাসিনার আমলে তিস্তা জল চুক্তি নিয়ে মতবিরোধের জেরে এ পারে ইলিশ রফতানি প্রথম বার বন্ধ করে ঢাকা। কিন্তু ২০১৯ থেকে পুজোয় এ পারে পদ্মার ইলিশ উপহার পরম্পরা হয়ে ওঠে। ২০২৪-এ হাসিনার পতনের পরেও শারদ-ইলিশে ছেদ পড়েনি। এ বার যা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দু’বছর হল কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশ আমন্ত্রিত নয়। দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে প্রতিনিধি পাঠায়নি ঢাকা। বছরখানেক ধরে এ পারের রাজনৈতিক নেতারা অনুপ্রবেশ নিয়ে নানা অভিযোগ তোলার পাশাপাশি এ দেশের বেশ কয়েক জন বাঙালিকে 'বাংলাদেশি' বলে ‘পুশব্যাক’ও করা হয়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটক ভিসা এখনও কার্যত চালু হয়নি।
এই ধরনের ছন্দপতনের আবহে পুজোয় ঢাকার ইলিশ উপহারে কাঁটাও যুক্ত হতে চলেছে। এখন এ পারে ইলিশের ফলন নামমাত্র। তবে মায়ানমারের ইরাবতীর ইলিশ ঢুকছে। দুর্গোৎসবের ভূরিভোজের পাতে সেই ইলিশই সম্ভবত বাঙালিরআশ মেটাবে।