দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি। তা সত্ত্বেও নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিল বিজেপি। কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না-হলেও রাজ্য বিজেপির দুই প্রথম সারির পদাধিকারীকে ওই দুই আসনে ভোট পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক প্রস্তুতি, জনসংযোগ, প্রচার ও ভোট পরিচালনার সামগ্রিক প্রক্রিয়া দেখভালের জন্য তাঁদের অধীনে বিশেষ দল তৈরি করা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা চলতি সপ্তাহেই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন।
অক্টোবরের গোড়ার দিকে অর্থাৎ পুজোর আগেই দুই আসনে উপনির্বাচন হতে পারে বলে বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছেন। সে ক্ষেত্রে হাতে মাস দুয়েক সময়। এই অবস্থায় নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতোকে। রেজিনগর আসনের দায়িত্ব পেয়েছেন রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি প্রবাল রাহা। জ্যোতির্ময় শনিবার নন্দীগ্রাম যাচ্ছেন বলে বিজেপি সূত্রের খবর। প্রবাল বহরমপুর পৌঁছোচ্ছেন শুক্রবারই। তিনিও শনিবার থেকেই বহরমপুর লাগোয়া বিধানসভা আসনের জন্য কাজ শুরু করতে পারেন।
এ বারের বিধানসভা ভোটে শুভেন্দু অধিকারী দু’টি আসন থেকে লড়েছিলেন— নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর। দুই আসনেই জেতেন। ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন। আর রেজিনগর খালি হয় আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবীরের পদত্যাগে। তিনিও দু’টি আসনে লড়ছিলেন— রেজিনগরের সঙ্গে নওদা। দু’টিতেই জেতেন। নওদা রেখে দিয়ে নিজের খাসতালুক রেজিনগর ছেড়ে দেন। উপনির্বাচনে তাঁর ছেলে ওই আসনে দাঁড়াবেন বলে ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন নিজেই।
আরও পড়ুন:
নন্দীগ্রাম শুভেন্দুর খাসতালুক। এই নিয়ে লাগাতার তিন বার এই আসনে জিতেছেন। ছোট-বড় যে কোনও নির্বাচনে তাঁর পাশেই থেকেছে নন্দীগ্রাম। এখন তিনি মুখ্যমন্ত্রী। তাই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে রাজনৈতিক শিবিরে প্রায় কেউই তেমন সন্দিহান নন। তা সত্ত্বেও বিজেপি নন্দীগ্রামকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তা বোঝা যাচ্ছে ভোট প্রস্তুতির দায়িত্ব জ্যোতির্ময়ের হাতে যাওয়ায়। রাজ্য বিজেপির পাঁচ সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দিন ওই পদে রয়েছেন দু’জন— জ্যোতির্ময় মাহাতো এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়। জ্যোতির্ময় টানা দু’বারের সাংসদও। বিজেপি করার আগে আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপিতে যুক্ত ছিলেন। সর্বভারতীয় স্তরে কাজ করে এসেছেন। ফলে সঙ্ঘের ‘ঘরের ছেলে’ হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। রাজ্য বিজেপি সূত্রে বলা হচ্ছে, সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে জ্যোতির্ময়ই এই মুহূর্তে সবচেয়ে ক্ষমতাশালী। তাঁকে নন্দীগ্রামের দায়িত্ব দিয়ে দল বুঝিয়ে দিয়েছে, এই আসনের বিষয়ে তারা কতটা যত্নশীল। শুভেন্দুর সঙ্গে জ্যোতির্ময়ের সম্পর্কের সমীকরণও এই সিদ্ধান্তেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
তুলনায় রেজিনগর বিজেপির জন্য কিছুটা কঠিন আসন, জনবিন্যাসের কারণেই। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী নিজে রেজিনগর নিয়ে হুঙ্কার ছেড়েছেন। ফলে ওই আসনের জন্য বিজেপি যে সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে, তা স্পষ্ট। সে ধারণা আরও মজবুত হয়েছে প্রবাল রাহা রেজিনগরের দায়িত্ব পাওয়ায়। প্রবাল বহুদিনের রাজনীতিক। বাম জমানায় তিনি ফরওয়ার্ড ব্লকে (ফব) ছিলেন। রাজ্যের তৎকালীন মন্ত্রী তথা ফব শীর্ষনেতা কমল গুহের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল। ফলে সাংগঠনিক কাজকর্মে শুরু থেকেই দড়। বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন মুকুল রায়-কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের জমানায়। সেই থেকে একনিষ্ঠ সাংগঠনিক পদাধিকারী হিসেবে দলে প্রবালের পরিচিতি ক্রমশ বেড়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য জুড়ে বিজেপির যে সাংগঠনিক কর্মসূচি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল, সেই ‘বুথ সশক্তিকরণ অভিযান’-এর মূল দায়িত্ব প্রবালের কাঁধেই ছিল। সাংগঠনিক খুঁটিনাটি সামলানো, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত রূপায়িত করার ক্ষেত্রে প্রবালের জুড়ি প্রায় নেই বললেই চলে। তাঁকে রেজিনগরের দায়িত্ব দিয়ে বিজেপি বুঝিয়ে দিল, ওই আসনের ব্যাপারেও তারা কতটা সিরিয়াস।