Advertisement
E-Paper

আজ়াদির মতো স্লোগান তুললে এমন মারুন, যাতে সোজা হয়ে বাড়ি পৌঁছোতে না-পারে: শমীক! কুণাল বললেন, ‘এটা নৈরাজ্য’

কুণাল মনে করেন, এক জন ‘দায়িত্বশীল নেতা’ হিসাবে শমীকের এ ধরনের কথা বলা ঠিক নয়। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা দেশবিরোধী কথা বলবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনে কড়া ব্যবস্থা হোক। তার জন্য হাসপাতালে পাঠানো অ্যানার্কি।’’

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬ ১৫:২৯
কড়া দাওয়াই শমীক ভট্টাচার্যের। কুণাল ঘোষ বললেন, ‘নৈরাজ্য’।

কড়া দাওয়াই শমীক ভট্টাচার্যের। কুণাল ঘোষ বললেন, ‘নৈরাজ্য’। — ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে ‘চরমপন্থা’, মনে করেন শমীক ভট্টাচার্য। বিজেপি রাজ্য সভাপতির হুঁশিয়ারি, রাস্তায় প্রকাশ্যে ভারত ভাগ বা কাশ্মীরকে বিচ্ছিন্ন করার স্লোগান দিলে রেয়াত করা হবে না। পুলিশকে তাঁর পরামর্শ, ‘‘এই ধরনের স্লোগান দিলে তাঁদের এমন মারুন, যাতে সোজা হয়ে বাড়ি ফিরতে না-পারে।’’ অন্য দিকে, কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল মনে করেন, শমীক এ ধরনের নিদান দিতে পারেন না। দেশবিরোধী কথা বললে আইন মেনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর নিদান ‘নৈরাজ্য’।

রবিবার কারগিল বিজয় দিবসে কলকাতার বিটি রোডে কণাদ ভট্টাচার্যকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন শমীক। কারগিল যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছিলেন কণাদ। তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর ফাঁকেই শমীক নিশানা করেন গত শুক্রবার কলকাতার রাস্তায় বেরোনো মিছিলকে। নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে সেই মিছিল হয়। সেই প্রসঙ্গ তুলে শমীক বলেন, ‘‘ক’দিন আগে আজ়াদি স্লোগান দিয়ে কিছু অপ্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক শক্তি প্রাসঙ্গিক হওয়ার চেষ্টা করতে কলকাতায় পথে নেমেছিল। পুলিশ আক্রান্ত, সাংবাদিক আক্রান্ত।’’ তার পরেই সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, ‘‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজ়াদি, ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে— এ সব কথা কিন্তু রাস্তায় বললে পুলিশ খুব মারবে। পুলিশকে বলব, এ সব কথা যারা বলবে, তারা যেন সরাসরি সোজা হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে না-পারে। কলকাতায় বললে যাতে পিজি, এনআরএসের ইমার্জেন্সি ঘুরে বাড়ি যেতে হয়, (তা নিশ্চিত করুন)।’’

শমীকের কথায়, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে র‌্যাডিকালাইজেশন (চরমপন্থা) মাথাচাড়া দিয়েছে। কিছু মানুষ আক্রমণ করছেন পুলিশকে। ভারত তেরি টুকরে হোঙ্গে বলতে পারছে না, কিন্তু আজ়াদি আজ়াদি বলছে। ৩৭০ ধারার বাতিলের বিরোধিতা করছে।’’ তাঁর হুঁশিয়ারি, পশ্চিমবঙ্গে এ সব এখন চলবে না। কারণ, এ রাজ্যে এখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে বিশ্বাসী সরকার রয়েছে। শ্যামাপ্রসাদ কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী— অখণ্ডতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। সেই অখণ্ডতায় যাঁরা আঘাত হানতে চায়, এ হেন ‘দেশ-বিরোধী চক্রান্তের বিরুদ্ধে, পাকিস্তান পন্থীদের বিরুদ্ধে’ লড়াইকে জোরদার করার ডাক দিয়েছেন শমীক। জানিয়েছেন, গত শুক্রবারের মিছিলে পুলিশ, সাংবাদিকেরা যে ভাবে আক্রান্ত হয়েছেন, সে সব আর চলবে না। তাঁর মুখে উঠে এসেছে মুর্শিদাবাদের প্রসঙ্গও। শমীক বলেন, ‘‘(কলকাতার কর্মসূচিতে) পুলিশ আক্রান্ত, সাংবাদিক আক্রান্ত। নিরপরাধ মানুষ, পথচারী আক্রান্ত। ঠিক যে ভাবে মুর্শিদাবাদে মাটির দেবী প্রতিমা তৈরির জন্য হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাসকে খুন করা হয়েছিল।’’ এর পর শমীক যোগ করেন, আগ্রাসনের স্বপ্নকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। তাঁর নিদান, ‘‘যে যা খুশি করছে করুক, দেশকে টুকরো করতে চাইলে আইনের বাইরে যেতে হয়।’’

অন্য দিকে, কুণাল মনে করেন, ‘দায়িত্বশীল নেতা’ হিসাবে শমীকের এ ধরনের কথা বলা ঠিক নয়। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা দেশবিরোধী কথা বলবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনে কড়া ব্যবস্থা হোক। তার জন্য হাসপাতালে পাঠানো অ্যানার্কি। খারাপ স্লোগান, মারার বিধান দিতে পারি না। পুলিশ আছে কী করতে? কোর্টে যাবে।’’ তিনি এ-ও বলেন, ‘‘ভারতে থাকব, খাব, ভারতের বিরুদ্ধে স্লোগান দেব, হতে পারে না! কিন্তু তাই বলে তাঁকে ধরে মারুন, হাসপাতালে পাঠান, এটাও হতে পারে না। এটা গণতান্ত্রিক দেশ।’’

ছাত্র-যুবদের মিছিলকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকেলের পর থেকে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ধর্মতলা। অশান্ত হয়ে ওঠে ডোরিনা ক্রসিং। সে দিন রাতেই এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দোষীদের কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। নতুন প্রবর্তিত গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করে মামলা রুজু হয়েছে। এ বার শমীকের গলাতেও শোনা গেল সেই একই সুর। তিনি কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিলেন পুলিশকেও।

Samik Bhattacharya Kunal Ghosh

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy