সব ঠিক থাকলে পুজোর মরসুমের পরেই রাজ্যের নানা পুরসভায় ভোট। সূত্রের খবর, এই নির্বাচনেও গত বিধানসভা ভোটের মতো পুরসভা-ভিত্তিক পুর-শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ পেশ করবে বিজেপি। আর তাতে জোর দেওয়া হবে রাজ্যের সাবেক শাসক তৃণমূলের ‘দুর্নীতি’তেই।
বিধানসভা ভোটের প্রচার-পর্বে কেন্দ্রওয়াড়ি তৃণমূল নেতাদের নামে চার্জশিট পেশ করেছিল বিজেপি, সেখানে এলাকাভিত্তিক সমস্যা, বেহাল পরিষেবা-সহ নানা প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছিল। বিজেপি শিবিরের পর্যবেক্ষণ, সেই প্রচারের প্রভাবও পড়েছিল জনমানসে। সূত্রের খবর, হাওড়া শহরে বিজেপির পুরভোটের প্রস্তুতি বৈঠকে পুর-প্রচারেও একই ভাবে ‘চার্জশিট’-কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ছিলেন পুরভোটের দায়িত্বে থাকা রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিন্হা, সহকারীর দায়িত্বে থাকা বিধায়ক সঞ্জয় সিংহ। রাহুলের বক্তব্য, “সঙ্কল্প-পত্র, প্রতি ওয়ার্ডে চার্জশিট দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বুথ কমিটি হয়ে গিয়েছে। পুজোর পরে বাকি সাব-কমিটি করে ফেলব। বাকি দলগুলি যখন ভাবনাচিন্তার স্তরে, আমরা তখন আমাদের কর্মীদের তৈরি রাখছি!”
হাওড়ায় পুর-বোর্ডের মেয়াদ ২০১৮-য় শেষ হলেও, এখনও সেখানে ভোট হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নাগরিক পরিষেবা, অবৈধ বহুতল নির্মাণ, জলাশয় ভরাটের মতো নানা সমস্যা রয়েছে হাওড়ায়। বিজেপি সূত্রের খবর, ওয়ার্ড ধরে ধরে তৃণমূল নেতারা কে কোন ধরনের ‘অবৈধ’ কারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা চার্জশিটে তুলে ধরা হবে।
সূত্রের খবর, বৈঠকে দলের ‘সঙ্কল্প-পত্র’ (ইস্তাহার) নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ‘সঙ্কল্প-পত্রে’ কোন বিষয়গুলিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে দলের জেলা কমিটির সদস্যদের মতামতও নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বের বিচারে পানীয় জল ও নিকাশির সমস্যায় বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিতে পারে, তাদের পুর-বোর্ড গঠিত হলে প্রত্যেক বাড়িতে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে। দীর্ঘদিন সংস্কারহীন থাকা নিকাশি নালাগুলির হাল ফেরানো, বাড়ির নকশা অনুমোদন দ্রুততার সঙ্গে করতে ‘এক জানলা নীতি’, বেআইনি নির্মাণ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ করার কথা বলা হতে পারে। পরিবহণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে হাওড়া শহরের মধ্যে সাঁতরাগাছি, হাওড়া এবং শালিমার স্টেশনের পাশাপাশি হাওড়া ময়দান মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বাস টার্মিনাস তৈরির বিষয়েও প্রতিশ্রুতি থাকতে পারে। এ ছাড়া, হাওড়া ময়দান মেট্রোকে সাঁতরাগাছি, রামরাজাতলা এবং বালি থেকে বোটানিক্যাল গার্ডেন পর্যন্ত সম্প্রসারণ যাতে করা যায়, সেই বিষয়ে বিজেপির পুর-বোর্ড রেল মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করবে বলেও প্রতিশ্রুতির ভাবনা রয়েছে।
বিজেপি সূত্রের খবর, দলীয় বৈঠকে পুরভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জনসংযোগ আরও জোরদার করতে দুর্গাপুজো-সহ উৎসবের মরসুমকে কাজে লাগানোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। জোর দেওয়া হচ্ছে এই মরসুমে ‘রাষ্ট্রবাদী’ বই বিপণির সংখ্যা বাড়ানোরও। সেই সঙ্গে যেখানে অনেক মানুষের সমাগম হবে, সেখানে বসার জায়গা এবং জলের ব্যবস্থা রাখার কথাও বলা হয়েছে।