চলতি বছরে চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে হওয়া নির্বাচনে বিজেপি মোট খরচ করেছে ৫২৯ কোটি টাকা। যার মধ্যে প্রায় ২৮৭ কোটি তারা খরচ করেছে স্রেফ পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখল করার লক্ষ্যে। এমনকি, সমর্থকদের হাতের আঙুলের নখে দলের পদ্ম প্রতীক আঁকতে লক্ষাধিক টাকা খরচ করতেও কার্পণ্য করেনি কেন্দ্রের শাসক দল। টাকা খরচের ওই পরিসংখ্যান সামনে আসার পরে তৃণমূল কংগ্রেসের কটাক্ষ, এর থেকেই স্পষ্ট, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলে কী পরিমাণ মরিয়া ছিল বিজেপি!
মাস চারেক আগে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম—এই চার রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনপর্বে কত খরচ করা হয়েছে, তার হিসাব সম্প্রতি রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে। সেই তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ওই পাঁচটি বিধানসভা ভোট করাতে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মোট খরচ করেছেন ৫২৯ কোটি টাকা। যার মধ্যে শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্যই ২৮৬.৯৯ কোটি টাকা। পরিসংখ্যান বলছে, ওই টাকার মধ্যে শুধু প্রচার খাতে পশ্চিমবঙ্গে তারা খরচ করেছে ২১৭.১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সমাজমাধ্যমের জনপ্রিয় বিষয় নির্মাতাদের পিছনে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করা হয়েছে, জানা যাচ্ছে কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্য থেকে। দেখা যাচ্ছে, সেই তালিকায় নেটপ্রভাবী সায়ক চক্রবর্তী, শমীক অধিকারীর নামও রয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে পরের দেড় মাসে সায়কের জন্য আড়াই লক্ষ টাকা খরচ করেছে বিজেপি। ওই একই সময়ে শমীকের জন্য খরচ হয়েছে ১৩ লক্ষ টাকা। ঘটনাচক্রে সায়ক সেই সময়ে একটি রেস্তরাঁয় গিয়ে দাবি করেন, তিনি না চাইলেও তাঁকে গরুর মাংস দেওয়া হয়েছে। ‘বাটন’ নামে শমীকের একটি রিল সেই সময়ে ভাইরাল হয়, যেখানে তৎকালীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অপশাসনের যাবতীয় অভিযোগের জবাব দেওয়া হচ্ছে ইভিএমের বোতাম (বাটন) টিপে। এই তালিকায় আরও কয়েক জন বিষয় নির্মাতার জন্য খরচের তথ্যও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রায় ৬৯.৮৩ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে প্রার্থীদের পিছনে। খরচের তালিকায় দেখা গিয়েছে, দলীয় জনসভাগুলিতে সমর্থকদের নখে দলের প্রতীক আঁকতে চার লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে। তথ্য বলছে, কংগ্রেস পাঁচ রাজ্যের ভোটে মোট যে টাকা খরচ করেছে, তার চেয়ে পশ্চিমবঙ্গে বেশি টাকা খরচ করেছে বিজেপি।
অন্য রাজ্যেগুলির মধ্যে অসমের জন্য ৯৬.২৬ কোটি, তামিলনাড়ুর ভোটে ৫১.৫৬ কোটি, কেরলে ৮২.৬৭ কোটি টাকা খরচ করেছে বিজেপি। পুদুচেরিতে খরচ হয়েছে ১১.৮৯ কোটি টাকা। নির্বাচনের সময়ে ১,৪৯৪ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে পেয়েছিল বিজেপি। তথ্য বলছে, ভোটে বিপুল অর্থ খরচের পরেও বিজেপির দলীয় তহবিলে ৭,৬৮৯.০৬ কোটি টাকা রয়ে গিয়েছে। রাজ্যে টাকা খরচের অঙ্ক নিয়ে তৃণমূল কটাক্ষ করলেও, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘টাকা-পয়সার বিষয় নিয়ে আমার কোনও ধারণা নেই। তবে মাথায় রাখতে হবে, বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিপক্ষ ছিল তৃণমূল। যাদের নেতাদের খাটের তলায় কোটি-কোটি টাকা থাকে। যাদের কাউন্সিলারেরা কথায়-কথায় পাহাড় কিনে ফেলে। তাঁদের সঙ্গে যুঝতে হয়েছে দলকে।’’
টাকা খরচের ওই লড়াইতে তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে ছিল জাতীয় স্তরে বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গের জন্য রাহুল গান্ধীরা কেবল ৪২.০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। যার মধ্যে প্রার্থীদের পিছনে খরচ হয়েছে ২৯.১২ কোটি টাকা। বাকি টাকা খরচ হয়েছে সামগ্রিক ভোট প্রচারে। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে প্রায় দু’শোর কাছাকাছি আসনে লড়েছিল সিপিএম। নির্বাচনী প্রচারে মোট ৮ কোটি টাকার কাছাকাছি খরচ করে ওই দল। তবে তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল বাংলায় ক্ষমতা ধরে রাখতে ভোটে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছিল সেই সংক্রান্ত তথ্য কমিশনের কাছে এখনও জমা পড়েনি।