আসন্ন পুরসভা নির্বাচনের এনসিপিআই-এর সঙ্গে জোটের প্রশ্নে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের প্রস্তাব আপাতত নস্যাৎ করে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এর আগে দুই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও রাহুল সিন্হার মুখে যে কথা শোনা গিয়েছিল, বুধবার তাকেই আরও স্পষ্ট করলেন শমীক। ফলে, দিল্লি থেকে সুদীপেরা যতই জোট করে পুরভোটে লড়াই করার কথা বলুন না কেন, বিজেপির মধ্যে তা নিয়ে নেতিবাচক মনোভাবই প্রকাশ্যে এল।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পরে দলের ২০ সাংসদ এনসিপিআই নামের একটি অখ্যাত দলে মিশে গিয়েছেন। তাঁরা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থন করছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একাধিক বার বৈঠকের পরে আসন্ন পুরভোটে বিজেপির সঙ্গে জোট করে লড়াই করার কথা জানিয়েছিলেন সুদীপ।
কিন্তু বিদেশ সফর সেরে কলকাতায় ফিরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক এ দিন বলেছেন, ‘‘তৃণমূলের প্রতীকে জেতা কিছু মানুষ এনসিপিআই নামের একটি দলে যোগ দিয়েছেন। তাঁরা এনডিএ-র শরিক। কিন্তু দিল্লি থেকে কলকাতার দূরত্ব ১৫০০ কিলোমিটার! দিল্লি থেকে কলকাতায় আসতে অনেক সময় লাগবে, কিন্তু পুর-নির্বাচন তো এসেই গিয়েছে!’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘বিজেপি একার ক্ষমতায় পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে, কারও সহায়তা ছাড়াই। বিধানসভা নির্বাচন যদি একক শক্তিতে জিততে পারে, পুরসভাতেও একার শক্তিতেই পুর-বোর্ড গঠন করতে পারবে।’’ যদিও তিনি বলে রেখেছেন, ‘‘এর পরে কার সঙ্গে কী হবে, সেটা সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ঠিক করবেন।’’
বিজেপি এ বার কলকাতা এবং হাওড়ার পুরভোটের দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছে সুকান্ত এবং রাহুলের উপর। তাঁরাও জোট-সম্ভাবনা ইতিমধ্যে খারিজ করে দিয়েছেন। রাহুলেরও যুক্তি, বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনে যে হেতু একাই সাফল্য পেয়েছে, তাই পুরভোটেও একাই লড়বে। সুকান্তের বক্তব্য, বিজেপি সাম্প্রতিক কালে এ রাজ্যে কারও সঙ্গে জোট করে লড়াই করেছে বলে তিনি শোনেননি।
এর পরেও এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার অবশ্য বলেছেন, ‘‘বিজেপি যেমন একার পরিশ্রমে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে, তেমন ভাবে মনে রাখতে হবে, আমরাও কিন্তু নিজেদের ক্ষমতায় নিজেদের এলাকা থেকে জিতে এসেছি। একসঙ্গে লড়লে ভাল লড়াই হবে।’’ আর সুদীপের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে যাবতীয় সিদ্ধান্ত হবে।
সঙ্ঘ-ঘনিষ্ঠ বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক থেকে শুরু করে প্রাক্তন সভাপতিরা যখন স্পষ্ট জানাচ্ছেন যে, বিজেপি একাই লড়াই করতে চায়, তখন সুদীপেরা কোন ভরসায় মুখ্যমন্ত্রীর কথা বলে অন্য আশা দেখছেন, সেই নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক শিবিরে। যদিও রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের দাবি, ‘‘বর্তমান এবং প্রাক্তন রাজ্য সভাপতিরা যা বলেছেন, সেটাই দলের বক্তব্য। মুখ্যমন্ত্রী তো এখনও কিছু বলেননি। এখন কে কার মুখের দিকে তাকিয়ে বসে আছেন, সেটা তাঁর বিষয়!’’