ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যে তোলাবাজি-সহ নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে দলের নেতা-কর্মীদের একাংশের ‘বিচ্যুতি’র কথা মেনে নিয়ে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে নানা অনিয়মের অভিযোগে অন্তত ২২ জন নেতা-কর্মীকে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করল এবং ২৫০ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো-কজ়) ধরাল বিজেপি। প্রসঙ্গত, শমীকের সুরেই সরব হয়েছিলেন স্বপন দাশগুপ্ত, দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল-সহ বিজেপির মন্ত্রীরাও।
রাজ্যে পালাবদলের পরেই নেতা-কর্মী এবং জনপ্রতিনিধিদের একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দখলদারি, হুমকি, হামলার মতো নানা অভিযোগ জমা পড়ছিল বিজেপির রাজ্য দফতরে। বিরোধীদের পাশাপাশি দলের নানা স্তর থেকেও অভিযোগ উঠছিল। এমনকি, দলের নির্দেশ অমান্য করে ‘হঠাৎ বিজেপি’দের সঙ্গে নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছিল। এর জেরে অনেক জায়গায় দলের পদাধিকারীরাও কোণঠাসা হয়ে পড়ছিলেন বলে নেতৃত্বের পর্যবেক্ষণ। এই পরিস্থিতিতেই দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই শাসক দল কঠোর পদক্ষেপ করল বলে মনে করছে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশ। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীকও বুধবার বলেছেন, “শৃঙ্খলা-পরায়ণ দলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাঝে-মাঝে কঠোর পদক্ষেপ করতে হয়। কয়েক জনের বিরুদ্ধে হঠাৎ বিজেপিদের নিয়ে চলার অভিযোগ উঠেছিল। তাই তাঁদের আগেও সতর্ক করা হয়েছিল।"
সামগ্রিক ভাবে বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের এক মন্ত্রী বলছেন, “পালাবদলের সময়ে নানা বিচ্যুতি ঘটে। প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিলে এগুলো ঠেকানো সম্ভব। সর্বোপরি সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়কের সদিচ্ছার উপরেও বিষয়টি নির্ভর করে। দলীয় স্তরে এগুলো আলোচনায় উঠে এলে এদের (অভিযুক্তদের) এক ঘরে করা যায়।” বিজেপি সূত্রের খবর, শৃঙ্খলা-ভঙ্গের অভিযোগে আগামী দিনে দলের আরও নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হতে পারে।