খোদ নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্রে ফের ধাক্কা খেল বিজেপি। বারাণসীর আরও এক বিধান পরিষদ কেন্দ্রের নির্বাচনে পদ্মপ্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হতে চলেছে অখিলেশ সিংহ যাদবের দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। স্নাতক ভোটারদের জন্য সংরক্ষিত এই বিধান পরিষদ কেন্দ্রে এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত গণনা চলছে। তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে পরাজয় স্বীকার করে নিলেন বিজেপি প্রার্থী কেদারনাথ সিংহ। অর্থাৎ, বারাণসীর দুই বিধান পরিষদ কেন্দ্রে বিজেপির বিপক্ষে ফল ২-০! যদিও ২০২০ সালের নির্বাচনে বারাণসীর এই দুই কেন্দ্রেই জয়ী হয়েছিল এসপি।
স্নাতক ভোটারদের জন্য সংরক্ষিত বারাণসীর এই বিধান পরিষদ কেন্দ্রে এখন দ্বিতীয় পছন্দের ভোটগণনা চলছে। এখনও পর্যন্ত এসপি প্রার্থী আশুতোষ সিংহ পেয়েছেন ৫০,৪৬২টি ভোট। আর বিজেপি প্রার্থী পেয়েছেন ৩৩,৬৭৪টি ভোট। ১৬,৭৮৮ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন এসপি প্রার্থী।
গণনা চলার সময়েই ফেসবুকে একটি পোস্ট করে বিজেপি প্রার্থী জানান, তিনি জনতার রায় মাথা পেতে নিচ্ছেন। কেদারনাথ লেখেন, “বারাণসী কেন্দ্রের যে সমস্ত বিশিষ্ট স্নাতক ভোটার আমার উপর বিশ্বাস রেখেছেন, আমায় ভোট দিয়েছেন, তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।” তিনি জানান, ভোটে জেতা কিংবা ক্ষমতার আসনে বসাই শেষ কথা নয়। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাই একজন জনপ্রতিনিধির কর্তব্য। আশানুরূপ ফল না-হওয়ার জন্য দুঃখপ্রকাশ করলেও বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন কেদারনাথ।
অন্য দিকে, দলের জয় নিশ্চিত হলেও দলের কর্মীদের এখনই গণনাকেন্দ্র না-ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন অখিলেশ। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “শান্ত থাকুন। জয়ের শংসাপত্র হাতে পাওয়া না-পর্যন্ত গণনাকেন্দ্র ছাড়বেন না।” প্রসঙ্গত, উত্তরপ্রদেশের যে ১১টি বিধান পরিষদ কেন্দ্রে ভোট হয়েছে, তার মধ্যে ৬টিতে জয়ী হয়েছে বিজেপি। আর চারটিতে জয়ী হয়েছে এসপি। বারাণসীর স্নাতক সংরক্ষিত কেন্দ্রটিতে জয়ী হলে অখিলেশদের আসনসংখ্যা বেড়ে ৫ হবে। ২০২০ সালে এই ১১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬টিতে জিতেছিল বিজেপি। তিনটিতে জিতেছিল এসপি। আর দু’টিতে জয়ী হয়েছিলেন নির্দল প্রার্থীরা। সেই হিসেবে এ বার দু’টি আসন বাড়ল এসপি-র। ৬টি আসনই ধরে রাখল বিজেপি। উত্তরপ্রদেশ ভোটের আগে এই ফলাফল যেমন অখিলেশদের উজ্জীবিত করবে, তেমনই কিছুটা চাপে রাখতে পারে পদ্মশিবিরকে।
রাজ্য আইনসভার উচ্চকক্ষ হচ্ছে বিধান পরিষদ। আর নিম্নকক্ষ বিধানসভা। বর্তমানে অবশ্য উত্তরপ্রদেশ-সহ মাত্র ৬টি রাজ্যে বিধান পরিষদ রয়েছে। উত্তরপ্রদেশে বিধান পরিষদের আসনসংখ্যা ১০০। ১০০ জন সদস্যের মধ্যে ৩৮ জন বিধানসভার বিধায়কদের দ্বারা নির্বাচিত হন। ৩৬ জন স্থানীয় পঞ্চায়েত, পুরসভার প্রতিনিধিদের দ্বারা নির্বাচিত হন। আট জন নির্বাচিত হন স্থানীয় স্নাতক ভোটারদের ভোটে। আট জন নির্বাচিত হন স্থানীয় শিক্ষকদের ভোটে। আর ১০জন বিশিষ্ট সদস্যকে বিধান পরিষদে মনোনীত করেন রাজ্যপাল। বিধান পরিষদ নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোট হয়। ভোটাররা পছন্দের নিরিখে প্রার্থীদের নামের পাশে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় লিখে দেন। বিধান পরিষদের সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ ৬ বছর।
বারাণসী কেন্দ্র বরাবরই বিজেপির অভেদ্য দুর্গ। ২০১৪ এবং ২০১৯ দু’বারই এই লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতেই প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তার আগে এই কেন্দ্র থেকে দীর্ঘদিন জিতেছেন মুরলীমনোহর জোশী। ফলে বারাণসীর ভোট বরাবরই বিজেপির ‘প্রেস্টিজ ফাইট’। বিজেপির শক্ত ঘাঁটি, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই কেন্দ্রে দুই আসনে এসপি-র জয় সে রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের বিধান পরিষদের ১১টি আসনে নির্বাচন হয়। বুধবার ফলপ্রকাশ হলে দেখা যায়, বারাণসীতে শিক্ষকদের জন্য সংরক্ষিত আসনে জিতেছে এসপি। বারাণসীর শিক্ষক ভোটারদের জন্য সংরক্ষিত আসনে বিজেপির প্রমোদকুমার মিশ্রকে ৪,৮৯৮ ভোটে হারিয়ে দেন সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী লালবিহারী যাদব। এ বার স্নাতক ভোটারদের জন্য সংরক্ষিত আসনেও জিতল এসপি। বারাণসীর শিক্ষক এবং স্নাতক আসন ছাড়াও আগরা শিক্ষক, ঝাঁসী স্নাতক, লখনউ স্নাতক আসনে জিতেছে এসপি। বিজেপি জিতেছে মেরঠ শিক্ষক, মেরঠ স্নাতক, বরেলী শিক্ষক, লখনউ শিক্ষক, আগরা স্নাতক এবং গোরক্ষপুর শিক্ষক আসনে।
চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনে কংগ্রেসের ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে কটাক্ষ করে বুধবার প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছিলেন, “কটা আসনে জিতল কংগ্রেস?” বৃহস্পতিবার বারাণসীর ফলের দিকে ইঙ্গিত করে পাল্টা কটাক্ষ করে কংগ্রেস। দলের নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর যখন আত্মবিশ্লেষণ করা দরকার, তখন উনি অন্যদের প্রবচন শুনিয়ে চলেছেন! কংগ্রেসের আসনসংখ্যা গোনার আগে অন্তত একবার ভেবে দেখুন, নিজের সংসদীয় কেন্দ্র বারাণসীর দু’টি আসনেই বিজেপি কেন হারল?”