আদালতের নির্দেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সের বাণিজ্যিক গাড়ি আর রাস্তায় চলতে পারবে না। গত কয়েক মাস ধরেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পথে নেমেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ফলে বাস, মিনিবাস-সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক গাড়ির মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশ জারি হয়নি বলে দাবি করেছে জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটস (পশ্চিমবঙ্গ)। সংগঠনের সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় এক বিবৃতিতে জানান, ১৫ বছরের বেশি পুরনো বাণিজ্যিক গাড়ি বাতিলের নোটিফিকেশন জারি করার ক্ষমতা একমাত্র কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এ সংক্রান্ত ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দেশের ওপর সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ বলবৎ রয়েছে এবং তাঁদের সংগঠনও সেই মামলার সঙ্গে যুক্ত।
তপনের আরও বক্তব্য, কলকাতা মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে ২০০৯ সালে ১৫ বছরের বেশি পুরনো বাস ও মিনিবাস বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছিল। পরে ২০২৫ সালে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে সেই নোটিফিকেশনে সংশোধন করে গাড়ির বয়ঃসীমা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে পরিবহণ দফতরে আলোচনা চলছে। তবে অচিরেই ওই নোটিফিকেশন বাতিল বা সংশোধন হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, সম্প্রতি কেন্দ্রের সংশোধিত ফিটনেস সার্টিফিকেট ফি-র তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংগঠনের দাবি, যদি ১৫ বছরের বেশি পুরনো বাণিজ্যিক গাড়ি সম্পূর্ণ ভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে ওই বয়সের গাড়ির জন্য ফিটনেস পরীক্ষার ও ফিটনেস সার্টিফিকেট নবীকরণের ফি নির্ধারণ করা হল কেন? তাঁদের মতে, ফিটনেস সার্টিফিকেটের অর্থই হল সংশ্লিষ্ট গাড়িটি রাস্তায় চলাচলের উপযুক্ত। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় অন্তর দূষণ পরীক্ষাও বাধ্যতামূলক থাকে। সংগঠনটির আরও দাবি, পরিবেশ দূষণ রোধে পুরনো গাড়ি সম্পূর্ণ বাতিল করার পরিবর্তে দূষণকারী ডিজ়েল ইঞ্জিন বদলে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ইঞ্জিন বসানোর মতো বিকল্প পথ বিবেচনা করা উচিত। তাঁদের বক্তব্য, একটি গাড়ির বডি, গিয়ার বা টায়ার দূষণের কারণ নয়; মূল সমস্যা ইঞ্জিনের নির্গমন। তাই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব।
এই বিষয়টি নিয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে সার্বিক ভাবে বিষয়টি পর্যালোচনার আবেদনও জানিয়েছে জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটস। সংগঠনের দাবি, ২০০৯ সালের সিদ্ধান্তের স্মৃতি এখনও বহু বাসমালিকের মনে আতঙ্ক তৈরি করে। তাই নতুন করে যেন একই পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই আবেদন জানিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্র— উভয় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা। তবে এ বিষয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চাননি পরিবহণ দফতরের আধিকারিকরা। তাঁদের বক্তব্য, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে সবে আড়াই মাস। আদালতের নির্দেশ সংক্রান্ত বিষয় এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে গেলে আগে সেই বিষয়টিকে ভাল করে বুঝতে হবে। তাই বিষয়গুলি নিয়ে পুরোপুরি পর্যালোচনা করার পর তা নিয়ে রাজ্য সরকারের পরিবহণ দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তথা আধিকারিকেরা কিছু বলার মতো জায়গায় আসতে পারেন।