প্রশান্ত বর্মনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে বলল কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার উচ্চ আদালত জানিয়েছে, প্রশান্ত এই সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না-করলে তাঁর সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হবে। অবিলম্বে রাজ্যকে তাঁর বেতন বন্ধ করারও নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের বেঞ্চ।
রাজ্যকে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, ৪৮ ঘণ্টা পার হলেই প্রশান্তের সম্পত্তির তালিকা তৈরি করতে হবে। রাজ্যের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “বেতন বন্ধ করুন। কেন এত দিন পালিয়ে আছেন? সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করছেন না কেন? একজন সরকারি আধিকারিক এত দিন ধরে পালিয়ে আছেন? সুপ্রিম কোর্টকেই পাত্তা দিচ্ছেন না, হাই কোর্টকে কী দেবেন? সুপ্রিম কোর্টের প্রতি কোনও সম্মান নেই।” আদালত জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ৩টের মধ্যে আত্মসমপর্ণ করতে হবে প্রশান্তকে।
গত বছর অক্টোবরে পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার খুনে নাম জড়িয়েছিল জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্তের। গত জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি তিনি। মাঝে একবার পথসুরক্ষা বিধি ভেঙে গ্রেফতার হয়ে জামিন পেয়ে যান পরের দিনই। রাজ্য হাই কোর্টে জানিয়েছিল, প্রশান্ত নিখোঁজ। তা নিয়ে আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়েছিল সিআইডি। নিখোঁজ থাকলেও সরকারি আধিকারিক হিসেবে প্রশান্ত কী করে বেতন পেয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী।
গত বছর বিধাননগরের দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপনের অপহরণ এবং খুনে মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম জড়ায় রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্তের। তার পর থেকেই বেপাত্তা হয়ে যান প্রশান্ত। জুলাই মাসে খুনের তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি। তবে প্রশান্তের খোঁজ মেলেনি। কিন্তু অভিযোগ ওঠে যে, তিনি বেতন নিচ্ছেন।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউ টাউন থানার যাত্রাগাছির খালধার থেকে সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বপনের দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। ওই খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রশান্ত। বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন তিনি। তার বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিশ। হাই কোর্ট সেই আগাম জামিনের নির্দেশ খারিজ করে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। পরে গত ২৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টও তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও পুলিশের নাগালের বাইরেই ছিলেন তিনি।
গত ২৫ মে পথসুরক্ষা বিধি ভেঙে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন প্রশান্ত। অভিযোগ, রাতে নিউ টাউনের ইকো পার্ক থানা এলাকায় আচমকা প্রশান্তের গাড়ি এক পথচারীকে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রশান্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরের দিন তাঁকে বারাসত আদালতে হাজির করানো হয়। যখন প্রশান্তকে হাজির করানো হয়, তখন বিচারক পুরনো খুনের মামলার নথি চান। ২৬ মে সন্ধ্যা পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু নথি না-পৌঁছোনোয় জামিন পেয়ে বাড়ি চলে যান প্রশান্ত। তার পর থেকে আর তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি।