দক্ষিণ ২৪ পরগণায় এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অন্যতমপ্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের ‘এনকাউন্টারে’ মৃত্যুর তদন্তভার দেওয়াহয়েছিল সিআইডি-কে। তার পরে কেটেগিয়েছে সাড়ে তিন মাস। কিন্তু এখনও শেষ হয়নি রাজ্যে বিজেপি জমানার প্রথম এনকাউন্টারের ঘটনার তদন্ত।
সিআইডি সূত্রের খবর, তদন্তে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশ অফিসার-কর্মীর বয়ান নেওয়া হয়েছে। বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে আরও অনেকের, যাঁরা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। তবে ঘটনার তদন্তে ফরেন্সিকের সব রিপোর্টও হাতে আসেনি বলে সিআইডি জানিয়েছে। এক পুলিশকর্তা বলেন, “পেশাদারি সংস্থার তরফে তদন্তে যা যা করা প্রয়োজন তাই করা হচ্ছে।” দ্রুত তদন্ত শেষ হবে বলে ওই কর্তাদের আশা।
পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়, পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে প্রভাস পালানোর চেষ্টাকরে এমনকি পুলিশের বন্দুক থেকে গুলিও ছোড়ে। পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। পুলিশ অফিসারদের ছোড়া দু’টি গুলি প্রভাসের বুকের ডান দিকে ও কোমরের উপরে লাগে। প্রভাস যে পুলিশ অফিসারদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল বলে অভিযোগ, তার ভিত্তিতে খুনের চেষ্টার মামলা রুজু হয়। সেই ঘটনার তদন্ত সিআইডি করছে।
তবে তাদের তদন্ত কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা। এনকাউন্টারের ঘটনা নিয়ে চারটি জনস্বার্থ মামলা হয়েছে হাই কোর্টে। যার ভিত্তিতে রাজ্য সরকার তথা পুলিশের কাছে হলফনামা আকারে সবিস্তার রিপোর্ট তলব করেছে হাই কোর্ট।
গত জুলাইয়ে ওই গণধর্ষণ ও খুনেরঘটনায় স্থানীয় পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতারকরে। ঘটনার এক দিন পরে গভীর রাতেধৃতদের মধ্য থেকে প্রভাসকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য। বিভিন্ন জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, গভীর রাতে অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলেও পুলিশ নিয়ম মানেনি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা অনুযায়ী ঘটনার সময়ের ভিডিয়ো রেকর্ডিংও করা হয়নি বলে অভিযোগ। যদিও পুলিশ দাবি করেছিল, তারা সব নিয়ম মেনেই প্রভাসকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল। ঘটনার প্রায় দু’দিন পরে বৃষ্টির মধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। বৃষ্টির মধ্যে দু’দিন পরে ফরেন্সিক নমুনা পড়ে থাকার বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।