দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের পর এ বার ইকো পার্কে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ ধ্বংস অভিযান করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নেশার দ্রব্যের উপর দিয়ে রোলার চালালেন তিনি। সেই সঙ্গে বুঝিয়ে দিলেন, নেশার দ্রব্য বাজেয়াপ্ত এবং তা নষ্ট করার বিষয়ে তাঁর সরকার ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতিতেই চলবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘নেশামুক্ত ভারত’ অভিযান অগ্রাধিকার পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। শুভেন্দুর অঙ্গীকার, যুবসমাজকে নেশামুক্ত করতেই হবে।
বালুরঘাট দিয়ে মাদকদ্রব্য ধ্বংস অভিযান শুরু করেছিলেন শুভেন্দু। চলতি মাসের ২ তারিখ দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রায় দু’লক্ষ নিষিদ্ধ কাশির সিরাপের বোতলের উপর দিয়ে রোলার চালিয়েছিলেন তিনি। বুধবার সেই একই ছবি দেখা গেল ইকো পার্কে। সেখানে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপের বোতলের সংখ্যা আরও বেশি। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইকো পার্কে বাজেয়াপ্ত হওয়া ৩ লক্ষ ১০ হাজার নিষিদ্ধ কাশির সিরাপের বোতল নষ্ট করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৩১ কোটি টাকা।
বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের তরফে মাদকবিরোধী এই অভিযানের এই আয়োজন করা হয়েছিল। ছিলেন রাজ্যের ডিজিপি সিদ্ধনাথ গুপ্ত-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। অভিযান শেষে সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আজ দ্বিতীয় বড় অভিযান করলাম। প্রধানমন্ত্রীর নেশামুক্ত ভারত অভিযান নিয়ে একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা।’’
মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, এ ধরনের অভিযান পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি। বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘বিগত দিনে এ রাজ্যে যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে, অধিকাংশেরই নেপথ্যে মাদকাসক্ত লোকেরা যুক্ত।’’ শুভেন্দুর কথায়, ‘‘অবৈধ নেশার জন্য সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’’ তিনি জানান, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সরকার এই বিষয়টা অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করছে।
আরও পড়ুন:
কাশির নিষিদ্ধ সিরাপ-সহ অবৈধ নেশাদ্রব্যের বিরুদ্ধে পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি রাজ্য পুলিশ এবং এসটিএফের সঙ্গে যৌথ ভাবে এই কাজ করায় নেশামুক্ত ভারতের লক্ষ্যে অনেকটা এগোনো সম্ভব হচ্ছে বলে জানান তিনি। বুধবারের অভিযানের আগে সমাজমাধ্যমে এ বিষয়ে একটি পোস্টও করেন শুভেন্দু। তিনি জানান, রাজ্য সরকার এবং পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের কারণে সংশ্লিষ্ট ওষুধ প্রস্তুতকারক একটি সংস্থা মাদক সমস্যা মোকাবিলায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, তাদের একটি কাশির সিরাপ এ রাজ্যে আর বিক্রি করবে না। সেই প্রসঙ্গ টেনে ইকো পার্কে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমরা থেমে থাকব না। যুবসমাজকে বাঁচানোর জন্য নেশামুক্ত ভারত গড়ার অঙ্গীকার আমরা করলাম।’’