E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

পিএম-এর ধাঁচে রাজ্যে সিএম-স্কুল

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সিএমশ্রী স্কুলে মেধার ভিত্তিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ভর্তি নেওয়া হবে। সেন্ট্রাল মডেল স্কুলের ধাঁচে স্মার্ট বোর্ড-সহ আধুনিক সুযোগসুবিধা থাকবে। পরবর্তী কালে এই স্কুলগুলিকে মডেল স্কুল করা হবে।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:২০

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

দেশের নানা রাজ্যে ‘প্রধানমন্ত্রীর’ স্কুল (পিএমশ্রী বা প্রধানমন্ত্রী স্কুল ফর রাইজ়িং ইন্ডিয়া) তৈরির প্রকল্প আছে। এ বার সেই পথে হাঁটবে পশ্চিমবঙ্গ। এ রাজ্যের প্রতি জেলায় মুখ্যমন্ত্রীর স্কুল তৈরি হবে। শনিবার নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, রাজ্যে ৬০০টি স্কুলে পিএমশ্রী স্কুলের পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। তার পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের অনুকরণে দু’টি করে সিএমশ্রী স্কুলও তৈরি করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সিএমশ্রী স্কুলে মেধার ভিত্তিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ভর্তি নেওয়া হবে। সেন্ট্রাল মডেল স্কুলের ধাঁচে স্মার্ট বোর্ড-সহ আধুনিক সুযোগসুবিধা থাকবে। পরবর্তী কালে এই স্কুলগুলিকে মডেল স্কুল করা হবে।’’ ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নয়নে রাজ্যে দু’টি স্পোর্টস স্কুল বা ক্রীড়া বিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। তার একটি হবে উত্তরবঙ্গে। রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ বলেন, ‘‘প্রাথমিক থেকে হাই স্কুল পর্যন্ত ক্রীড়া ক্ষেত্রে প্রতিভাবান পড়ুয়াদের এই স্কুলে ভর্তি নেওয়া হবে। পড়ুয়া এবং শিক্ষক-সবাই আবাসিক হবেন। সব খরচ সরকার বহন করবে।’’ মুখ্যমন্ত্রীও বলেন, ‘‘ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে থেকে যারা খেলাধুলোয় ভাল তাদের ভবিষ্যৎ ঠিক ভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করব। খোখো, হা-ডু-ডু খেলাগুলি স্কুলে ফিরে আসুক।’’

এ দিন পড়ুয়াদের মোবাইল ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মোবাইল ফোন পড়ুয়াদের মারাত্মক ক্ষতি করছে। আমার হয়তো ভোট কমে যাবে। কিন্তু তবু বলব পড়ুয়াদের ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। মা, বাবারা ঘুমিয়ে পড়ছে, ছেলেমেয়েরা রাত দু’টো পর্যন্ত ফোন দেখে যাচ্ছে। গুজরাতে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলে ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ।’’ এ কথা শুনে শিক্ষক মহলের একাংশের ধারণা, এই উদ্বেগ প্রকাশের পর স্কুলপড়ুয়াদের ট্যাব কেনার সরকারি টাকা দেওয়ার প্রকল্প, ‘তরুণের স্বপ্ন’ হয়তো বন্ধ হতে পারে।

এ দিন শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া সময়সীমার মধ্যে নিয়োগ শেষ হবে। নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় জোর দিতে হবে। স্বজনপোষণ কমাতে মৌখিকের নম্বর কমাতে হবে। গত সরকারের মতো এসএমএসের মাধ্যমে চাকরি হবে না।’’ এ দিন উচ্চ শিক্ষায় স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কিম উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। কলেজ শিক্ষকদের ট্রান্সফার ম্যানেজমেন্ট মডেল চালু করেন।

ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে সাপের কামড়ে এক ছাত্রের অসুস্থ হওয়ার পিছনে কম্পোজ়িট গ্রান্ট না-পাওয়াকেই দায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, “স্কুলগুলি তিন বছর ধরে এই টাকা পাচ্ছে না। এমন অবস্থা যে কার্বলিক অ্যাসিড, ব্লিচিং পাউডার কেনার পর্যন্ত টাকা ছিল না। আমরা ক্ষমতায় এসে এই খাতে ৩০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছি।” তবে শিক্ষকদের বকেয়া ডিএ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে সিদ্ধান্ত হয়নি। মলহোত্র কমিটি যা সিদ্ধান্ত নেবে, মেনে নেব। তাঁরা হিসাব করে দেখেছেন শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ১২ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে।’’ তবে তিনি জানান, পুজোর আগে ২০ শতাংশ ডিএ যোগ করে অগ্রিম বেতন দেওয়া হবে।

রাজ্যকে শিক্ষা ক্ষেত্রে সামনের সারিতে নিয়ে আসার ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ‘‘কয়েক দিন আগে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে শিক্ষার মান নিয়ে একটা তালিকা প্রকাশ হয়েছে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম দশে নেই। শিক্ষায় রাজ্যকে প্রথম দশে ফেরাতে তিন বছর লাগবে।’’ ক্রীড়া ক্ষেত্রে রাজ্যের উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী। তিনি বলেন, “বিশ্বে তো দূর, খেলাধুলোয় দেশের মধ্যেও পশ্চিমবঙ্গ ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। অথচ, এ রাজ্যের থেকে কম জনসংখ্যার দেশও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সফল। আমাদের রাজ্যে তো প্রতিভার অভাব নেই। সেই প্রতিভার বিকাশেই ক্রীড়া বিদ্যালয় কাজ করবে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
school WB Government

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy