পশ্চিমবঙ্গকে ভারতসেরা করে তুলতে চান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষপূর্তিতে রেড রোড থেকে এই বার্তাই দিলেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, রাজ্যের সর্বত্র উন্নয়ন ছড়িয়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গকে তার আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়াই নতুন সরকারের লক্ষ্য বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শুভেন্দু বলেন, ‘‘২০৪৭ সালে বিকশিত ভারতের স্বপ্ন তখনই সম্ভব হবে, যখন বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ গড়া যাবে।’’ রেড রোডের মঞ্চ থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কথাও উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে। তিনি জানিয়েছেন, কর্মসংস্থান, নারী ক্ষমতায়ন, সুরক্ষা এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা আরও মজবুত করে তোলাই নবগঠিত সরকারের লক্ষ্য। পশ্চিমবঙ্গকে রাষ্ট্রবাদী চেতনার জায়গা হিসাবে ব্যাখ্যা করে বিপ্লবী এবং মনীষীদের স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু বলেন, ‘‘বাংলা রাষ্ট্রবাদের জায়গা। ঋষি অরবিন্দ, নেতাজি এবং ক্ষুদিরামের মাটি। এই মাটিতে মাতঙ্গিনী হাজরা, বীণা দাসের মতো বীরাঙ্গনারা বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামে লড়াই করেছেন।’’ এর পরই রাজ্যবাসীর উদ্দেশে তাঁর বার্তা, রাজনৈতিক সঙ্কীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে রাজ্যের উন্নয়নে সকলকে শামিল হতে হবে। রাজনৈতিক সঙ্কীর্ণতাকে দূরে সরিয়ে রেখে হাতে হাত মিলিয়ে রাজ্যের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আশ্বাস দেন, গত ৯ মে, ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে ব্রিগেডে যে শপথ নিয়েছেন, সেই শপথের কোনও অসম্মান হতে দেবেন না।
শনিবার রেড রোডের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদানের পর পতাকা উত্তোলন করেন মুখ্যমন্ত্রী। কর্মক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ১৪ জন আইপিএসকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর পদক’ দেওয়া হয়। কুচকাওয়াজের পর মোট ১২টি ট্যাবলো প্রদর্শিত হয়। প্রদর্শিত হয় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ট্যাবলোও। এ ছাড়াও কন্যারত্ন, অন্নামৃত, আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির, দুর্গাশক্তি বাহিনী, অন্নপূর্ণা যোজনা, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার ট্যাবলো প্রদর্শিত হয়।
উল্লেখ্য, এ বছরের স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে নারীশক্তির প্রতি জোর দেওয়া হয়। রেড রোডে প্রথম বার কোনও মহিলা পুলিশ অফিসার প্যারেড কমান্ড করলেন। তিনি যুগ্ম কমিশনার (ইন্টেলিজেন্স) দেবস্মিতা দাস। এ ছাড়াও প্যারেডের সেকেন্ড ইন কমান্ডও ছিলেন একজন মহিলা অফিসার। তিনি ডিসি ফার্স্ট ব্যাটেলিয়ন প্রতীক্ষা ঝারখারিয়া। এ বছরের স্বাধীনতা দিবসে ‘জীবনরক্ষা পদক’ নামে আরও একটি পুরস্কার যোগ হয়েছে। তারাতলায় গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় উদ্ধারকাজে যারা যুক্ত ছিল, কলকাতা পুলিশের সেই দলকে ‘জীবনরক্ষা পদক’ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়।