উপনির্বাচনের আগে রবিবার শেষ প্রচার নন্দীগ্রামে। বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হয়ে সকাল থেকেই পথে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিজের ছেড়ে যাওয়া বিধানসভা কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে তিনি কটাক্ষ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শনিবার শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, ২০২১ সালের ভোটের প্রচারে নন্দীগ্রামে গিয়ে পা ভাঙা নিয়ে ‘মিথ্যা দাবি’ করেছিলেন মমতা। রবিবার সেই নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়েই শুভেন্দুর খোঁচা, ‘‘১০ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস পালন করলে কেমন হয়?’’ ২০২১ সালের ওই দিনই নন্দীগ্রামে প্রচারে গিয়ে বিপত্তি ঘটেছিল। অন্য দিকে, হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে যাওয়া রেজিনগর আসনেও জোরকদমে চলছে শেষবেলার প্রচার।
রবিবার টেঙ্গুয়ার মোড় থেকে নন্দীগ্রাম হাসপাতাল পর্যন্ত পদযাত্রা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী, মন্ত্রী অরূপকুমার দাস, প্রার্থী হাসিরানি। প্রায় ৩ কিলোমিটার পদযাত্রা করেন তিনি। কর্মসূচিতে আক্রমণ করেন মমতাকে। জানান, ১০ মার্চ ‘পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস’ পালন করা উচিত। শনিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতার ২০২১ সালে পা ভাঙা নিয়ে আবার একই অভিযোগ করেছিলেন শুভেন্দু। তিনি জানান, সে সময় ‘মিথ্যা দাবি’ করেছিলেন মমতা। একই সঙ্গে ঘোষণা করে দেন, ‘মিথ্যা প্রচারের’ জন্য তদন্তও শুরু করবে রাজ্য সরকার। উপনির্বাচন মিটলেই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানানো হবে।
নবান্ন থেকে হাসপাতালের নথিপত্র দেখিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, ওই দিন মমতার পায়ে কোনও ‘ফ্র্যাকচার’ হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “২০২১ সালে পুরো নন্দীগ্রামকে মুখ্যমন্ত্রী (তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা) অপমান করেছিলেন— তাঁর পা নাকি ভেঙে দেওয়া হয়েছে!” এর পরেই বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সের রেডিয়োডায়গনোসিস বিভাগের একটি নথি উঁচিয়ে দেখান তিনি। জানান, সেটি ২০২১ সালের ১১ মার্চের নথি। মমতার চিকিৎসা-সংক্রান্ত ওই নথি দেখিয়ে শুভেন্দুর বক্তব্য, ওই নথিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে— ‘ফ্র্যাকচারের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি’।
আরও পড়ুন:
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে দেন শুভেন্দু। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম, দু’টি কেন্দ্রেই প্রার্থী হন শুভেন্দু। দু’টিতেই জয়ীও হন তিনি। ভবানীপুরে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মমতা। সেই আসন রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দিয়েছেন বিধায়ক। ৬ অক্টোবর সেই কেন্দ্রেই ভোট। রবিবার সেখানে শেষ পর্বের প্রচারে গিয়ে মমতাকে বিঁধলেন শুভেন্দু। পাশাপাশি তিনি বিজেপি প্রার্থীর জয়ের বিষয়েও নিশ্চিত। তাঁর কথায়, ‘‘যত বেশি ভোট পড়বে, তত জয়ের ব্যবধান বাড়বে। নন্দীগ্রামে ৭২ হাজার সংখ্যালঘু রয়েছেন। হাজারের বেশি সংখ্যালঘু আজ মিছিলে হেঁটেছেন।’’ শুভেন্দুর আশা, সংখ্যালঘুরা বিজেপি-কেই সমর্থন করবেন।
অন্য দিকে, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ৬৫ শতাংশেরও বেশি সংখ্যালঘু ভোট। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই ভোটব্যাঙ্কের সিংহভাগ পকেটে পুরে জয়ী হয়েছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন। নিজে বিধায়ক পদ ছেড়ে এবার ছেলে গোলাম নবি আজাদকে (রবীন) প্রার্থী করেছেন বটে, কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে ছেলে নেহাতই নিমিত্ত মাত্র; লড়াইটা আদতে হুমায়ুনের নিজের অস্তিত্বের। অন্য দিকে, কংগ্রেস প্রার্থী আবদুল্লাহিল কাফি, তৃণমূলের রবিউল আলম চৌধুরী, গণতান্ত্রিক তৃণমূলের সফিউফজ্জামান শেখ এবং সিপিএমের মহম্মদ সইদ— বিরোধী শিবিরের প্রার্থীরাও মাটি কামড়ে লড়ছেন। বিজেপি সূত্রে খবর, তারা মনে করছে, বিরোধী ভোট যত বেশি ভাগ হবে, পদ্ম ফুটবে তত সহজে।